সহকারী শিক্ষক
০২ অক্টোবর, ২০২৪ ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষাও বাংলা। বাংলাদেশের সকল স্তরের নানা ধরনের শিক্ষামূলক কর্মকান্ডের মধ্যে মাতৃভাষা শিক্ষা মূলত কেন্দ্রীয় স্থানে অধিষ্ঠিত। কারণ, বাংলাদেশে মাতৃভাষা ছাড়াও অন্যান্য বিষয় শেখার মাধ্যম হিসেবে বাংলা ভাষাই ব্যবহৃত হয়। তাই বলা যায়, সামগ্রিকভাবে শিক্ষার প্রায় প্রতিটি কর্মকান্ড মাতৃভাষায় যথোচিত যোগ্যতা (জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি) অর্জন ছাড়া সম্পাদন করা সম্ভব নয়। শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত অন্য বিষয়ের সঙ্গে মাতৃভাষা বাংলার পার্থক্য হচ্ছে এই যে, ভাষা মানুষের যাবতীয় ভাব বিনিময় ও যোগাযোগের প্রধান বাহন। এ দিক বিবেচনা করেই ভাষা শেখার জন্য চারটি দক্ষতা- শোনা, বলা, পড়া ও লেখা শনাক্ত করা হয়েছে। বাংলাভাষা শেখার ক্ষেত্রেও এ চারটি দক্ষতা অর্জন করতে হবে। উপরন্তু, আমাদের মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পেছনে বাংলাভাষা আন্দোলনের আবেগময়, রক্তক্ষয়ী, সক্রিয় ও প্রত্যক্ষ ফলদায়ী ভূমিকা রয়েছে। মাতৃভাষার জন্য আমাদের এই আত্মদানের ইতিহাসকে সম্মান দেখিয়ে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর সারা বিশ্ব একুশে ফেব্রুয়ারি তারিখটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে গ্রহণ করেছে। আমাদের জাতীয় জীবনে এ সম্মান বোধের প্রতি সচেতনতাসহ নিত্য দিনের সমস্ত প্রয়োজন মেটাতে বাংলাভাষার ব্যবহার ও অবস্থান দৃঢ় করার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের বাংলাভাষার চারটি দক্ষতা (শোনা, বলা, পড়া ও লেখা) অর্জন করতে হবে। ভাষা শেখার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা শেষে এ চারটি দক্ষতার ন্যূনপক্ষে কতটুকু অর্জন করবে, তাকে প্রান্তিক যোগ্যতা হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে। আর কোন শ্রেণীতে দক্ষতাগুলোর কতটুকু শিক্ষার্থীকে অর্জন করতে হবে, তাকে শ্রেণীভিত্তিক অর্জনোপযোগী যোগ্যতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আশা করা যায়- প্রাথমিক স্তরে বাংলা ভাষার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতাসমূহ অর্জন করতে পারলে একজন শিক্ষার্থী অন্ততপক্ষে অন্যের প্রমিত চলিত ভাষারীতিতে বলা কথা শুনে মনের ভাব বুঝতে পারবে; শুদ্ধ, স্পষ্ট, প্রমিত চলিত রীতিতে কথা বলতে পারবে; মুদ্রিত পত্রপত্রিকা, বইপুস্তক, বিজ্ঞাপন-বিজ্ঞপ্তি, হাতের লেখা চিঠিপত্র, দলিল দস্তাবেজ পড়ে বুঝতে পারবে এবং স্পষ্ট বোধগম্যভাবে লিখতে পারবে। ফলে, শিক্ষার্থী সমাজের বোঝা না হয়ে একজন আত্মবিশ্বাসী ও সক্রিয় মানুষ হিসেবে বসবাস করতে সক্ষম হবে।
৪
৫ মন্তব্য