Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ অক্টোবর, ২০২৪ ০৭:২১ অপরাহ্ণ

কিশোর ক্লাসিক রিভিউ - দ্য স্কারলেট পিম্পারনেল (ব্যারোনেস ওর্কজি)

ফ্রান্সের অভিজাত পরিবার লোকজন খুব বিপদে পরে যায় ফরাসী বিপ্লবের পরপরই এতে তারা পালানোর চেষ্টা করতে থাকে। ফলে ধরাও পরতে থাকে অনেকেই আর যারাই ধরা পরতো তাদের সবার মাথায় চলে যেতে গিলেটিনে। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই গড়ে ১০০ জন ফরাসির কল্লা কাটা পরতো।ফরাসিদের করা অত্যাচারের কারনেই সাধারণ মানুষ নীরবে সমর্থন করে যাচ্ছে সবকিছু তবে এটা ঠিক অত্যাচার তো সবাই করে নি আবার সবাই খারাপও না।

এই অভিজাতদের বাচানোর জন্য ইংল্যান্ডের কিছু নির্ভিক যুবক বার বার ফ্রান্স এ ঢুকে অভিজাতদের নিয়ে আসছে ফ্রান্সের বাহিরে নানা রকম ছদ্মনাম আর ছদ্মবেশ ধারন করে।ফ্রান্সের নতুন নেতা যতই চেষ্টা করছেন না কেন, কোন কিছুতেই লাভ হচ্ছে না বরং প্রতিবার অভিজাতদের উদ্ধার করার পর কোথা থেকে তার পকেটে একটা চিরকুট এসে যেন হাজির হয় তাতে নিচে লেখা থাকে স্কারলেট পিম্পারনেল আর তার নিচে ছোট একটা ফুলের চিহ্ন। ফ্রান্সের নতুন নেতা টিনভেল স্কারলেটকে খুজার জন্য একেবার পাগল হয়ে উঠলেন আর ফ্রান্সের প্রতিটা নগরদ্বারে বসালেন কড়া পাহারা।

ইংল্যান্ডের এক সরাইখানার মালিক জেলিবান্ড,তার সরাইতে সব ধরণের মানুষের আসা যাওয়া l তেমনি একজন লোক হচ্ছেন স্যার পার্সি, খুব ধনবান,বোকা একজন ব্যক্তি যাকে শহরের সবাই সম্মান করে।পার্সি বিয়ে করেছে ফ্রান্সের একজন সুন্দরী অভিনেত্রী মার্গারেটকে যিনি একাধারে সুন্দরী ও বুদ্ধিমতি। মার্গারেট কিভাবে পার্সির মতো বোকা একজনকে বিয়ে করেছেন এটা ভেবেই অনেকে হিংসা করে আবার ভাবে হয়তো টাকার জন্য ই করেছেন।

মার্গারেটের একজন ভাই ছাড়া আর কেউ ছিলে না। ফ্রান্সের এক কাউন্ট মার্গারেটের ভাই আর্মন্ডকে খুব মেরেছিলো কারন আর্মন্ড কাউন্টের মেয়েকে খুব ভালোবাসতো। ফ্রান্সে অভিজাতদের ধরপাকরের সময় তাই মার্গারেট প্রতিশোধ নেয়ার জন্য কাউন্টের পালানোর খবর ফ্রান্সের রাজার কাছে দেয় এতে সেই কাউন্টের ফাঁসি হয় আর সেই থেকে পার্সি মুখে কিছু না বললেও স্ত্রীর প্রতি তার ভালোবাসার ভাটা পরে।

অভিজাতদের উদ্ধারকর্তা সেই যুবক স্কারলেট পিম্পারনেলকে খুঁজে বের করার জন্য ইংল্যান্ডে গুপ্তচর পাঠানো হলো।গুপ্তচর মার্গারেটকে কাজে সাহায্য করতে বললে মার্গারেট না করে দিলেন কারন এমনিতেই তার স্বামী তার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলেন আর একাজে সহায়তা করেছে শুনলে হয়তো পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। গুপ্তচর গোপনে মার্গারেটের ভাইয়ের বিরুদ্ধে কিছু প্রমান বের করে যাতে স্পষ্ট হয় যে অভিজাতদের ফ্রান্স থেকে বের হতে সাহায্য করছে আর্মন্ড।গুপ্তচর মার্গারেটকে বাধ্য করে পিম্পারনেলকে ধরতে সাহায্য করার জন্য নয়তো তার ভাইয়ের শাস্তি হবে বলে হুমকি দেয়।

মার্গারেট স্কারলেটের বিশ্বস্ত সঙ্গী স্যার অ্যান্ড্রুর কাছ থেকে একটা চিরকুটের কথা গুপ্তচরদের জানায় এতে করে তারা কিছুটা আন্দাজ করতে পারে আসলে স্কারলেট কে। এদিকে মার্গারেট নিজের সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে স্বামীর কাছে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে হওয়া ষড়যন্ত্রের কথা খুলে বলে। স্যার পার্সি তার শ্যালককে বাঁচাতে ছুটে যান, পরে পার্সিকে খুঁজতে গিয়ে মার্গারেট সেই ফুলের চিহ্ন দেয়া আংটি আর কিছু চিঠি পান যাতে মার্গারেট বুঝতে পারে আসলে স্কারলেট পিম্পারনেল হচ্ছে তার স্বামী স্যার পার্সি কিন্তু ততক্ষনে দেরি হয়ে গেছে কারণ তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী গুপ্তচর পিছু নিয়েছে তার স্বামীর।

মার্গারেট স্বামীকে বাঁচানোর জন্য ছুটে যায় ফ্রান্স স্যার অ্যান্ড্রুকে নিয়ে।স্যার পার্সির কৌশলে কাছে হার মানে গুপ্তচরেরা। বৃদ্ধ ইহুদি সাজে হাজির হয় গুপ্তচরদের সামনে কারন তখন ইহুদিদের সবাই ঘৃণা করতো তাই চোখ মেলে দেখতোও না ঠিক মতো।

অবশেষে ফ্রান্সের সৈন্যদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ইংল্যান্ডে ফিরতে সক্ষম হয় স্যার পার্সি ওরফে স্কারলেট পিম্পারনেল আর সাথে স্ত্রী মার্গারেট, শ্যালক আর্মন্ড ও বন্ধু অ্যান্ড্রু ……

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ