Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ অক্টোবর, ২০২৪ ০৭:২৬ অপরাহ্ণ

কিশোর ক্লাসিক রিভিউ - রবিনসন ক্রুসো (ড্যানিয়েল ডিফো)

কিশোর ক্লাসিক রিভিউ -

রবিনসন ক্রুসো

ড্যানিয়েল ডিফো

রবিনস ক্রুসো যিনি ছোটবেলা থেকেই সমুদ্রের গল্প শুনে শুনে এক অদৃশ্য টান অনুভব করতেন সমুদ্রের প্রতি l বাবা নিষেধ সত্ত্বেও বন্ধুর কথায় বন্ধুর বাবার জাহাজে করে সমুদ্রযাত্রা করেন মাত্র উনিশ বছর বয়সে।জাহাজে করে লন্ডনে পারি জমালেও প্রথম যাত্রাতেই জাহাজটি ঝড়ের মুখে পরে এতে বিদ্ধস্ত অবস্থায় নৌকায় করে যাওয়ার সময় এক জাহাজ তাদের সাহায্য করে। এতে রবিনসনের বন্ধুর বাবা জাহাজের ক্যাপ্টেন আর রবিনসনকে সাথে নিয়ে যান না উল্টো সবাইকে সাবধান করে দেয় যাতে এই অপয়া রবিনসনকে কেউ তাদের সাথে না নেয় সেজন্য কারন ক্যাপ্টেনের ধারণা রবিনসনের কারনেই ঝড়ের মুখে পরেছিলো তারা।

এরপর লন্ডনে কিছুদিন কাজ করে কারন কোন মুখে সে বাড়িতে ফিরবে এই ভেবে। কিছুদিন পর এক লোক তাকে স্বেচ্ছায় জাহাজে ভ্রমনের আমন্ত্রণ জানালে রাজি হয় না সে। এবার সব ঠিক ই ছিলো কিন্তু রবিনসন যে জাহাজে ছিল তা জলদস্যুদের কবলে পরলে জলদস্যু নেতার ক্রীতদাসে পরিণত হলো রবিনসন l জলদূস্য নেতার আস্থা অর্জন করে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে এক জাহাজ ক্যাপ্টেনের সহায়তায় ব্রাজিল চলে যায় l

ব্রাজিলে গিয়ে অনেক পরিশ্রম আর বুদ্ধির সাহায্যে নিজস্ব একটি খামারের মালিক হলো রবিনসন l এরমধ্যে জাহাজে চেপে আফ্রিকার উদ্দেশ্যে রওনা হলে প্রবল ঝড়ে জাহাজ গেলো ভেঙে গেলো। জাহাজের সব আরোহীরা ছোট্ট নৌকা নিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করলো কিন্তু নৌকা গেলো উল্টে গেলে রবিনসন নিজেকে খুঁজে পায় একটি জনমানবশূন্য দ্বীপে।

মানুষবিহীন দ্বীপে শুরু হলো রবিনসনের টিকে থাকার লড়াই।জাহাজ যেখানে ডুবেছিল সেখান থেকে দ্বীপটি কাছেই ছিলো তাই একটা নৌকা বানিয়ে নিয়েছিল সে যাতে করে একসময় জাহাজের সব জিনিস দ্বীপে নিয়ে এসেছিলো।পাহাড়কেটে নিজের থাকার জায়গা থেকে শুরু করে ছাগলের পাল এমনকি যবও চাষ করেছে সে একা একাই।

একবার এক নরখাদকের হাত থেকে এক জংলীকে বাচায় রবিনসন এতে জংলী থেকে যায় ওর কাছে আর তার নাম দিয়েছিলো ফ্রাইডে।ফ্রাইডে হলো রবিনসনের একাকী জীবনের নতুন সঙ্গী তাই এই জংলীকে সভ্য করে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করলো আর ফ্রাইডেও ওকে মনিব হিসেবে মেনে নিয়ে সবকিছু দ্রুত শিখে নিলো।

২৮ বছর দুই মাস উনিশ দিন পর দ্বীপের বন্দী জীবন থেকে আশার আলো পেলো সে মানে একটি জাহাজের সন্ধান পেলো যা তাকে নিজের মাতৃভূমিতে পৌঁছে দেয়। ইংল্যান্ডে গিয়ে বিয়ে করে নিজে ওই দ্বীপের মালিকানা নিলো তবে অর্ধেক কারণ বাকিটা দিয়ে দিলো জাহাজ ধ্বংসে বেঁচে যাওয়া নাবিকদের।

দীর্ঘদিনের দ্বীপের জীবন তাকে হারাতে পারে নি বরং গড়ে তুলেছে আরো দৃঢ় করে। পরে অবশ্য রবিনসন মাঝে মধ্যে ঐ দ্বীপে চলে যেত অবকাশ যাপনের জন্য।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ