Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ অক্টোবর, ২০২৪ ০৯:১৭ অপরাহ্ণ

শিক্ষকের ভাষা যেমন হওয়া উচিৎ

 মানবসন্তানকে মানুষে পরিণত করার জন্য শিক্ষকের ভূমিকা সর্বাধিক। সচেতন বা অবচেতনভাবে শিক্ষকের অনেক কিছুই অনুসরণ করে শিক্ষার্থী। এমনকি শিক্ষার্থী  আংশিক বা সম্পূর্ণ অনুকরণও করে থাকে শিক্ষকের কিছু কিছু দিক। শিক্ষকের নিকট থেকে আয়ত্ত করা অনেক কিছুই একসময় শিক্ষার্থী করে নেয় নিজের মত বা নিজস্ব। যা আর কখনোই সে ভুলে না বা পরিত্যাগ করে না। প্রকৃতপক্ষে এটাই হচ্ছে শিক্ষা।

 

শিক্ষার্থীর উপর শিক্ষকের ভাষার প্রভাব সর্বাধিক। শিশুকালে অবচেতনেই শিক্ষার্থী আয়ত্ত করে মা, বাবা, শিক্ষক ও  নিকটজনের ভাষা। পরবর্তীতে শিক্ষকের ভাষায়ই অধিক চর্চা ও প্রয়োগ করে শিক্ষার্থী। ভাষা হচ্ছে প্রাণিকূলের পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যম। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভাষা প্রধানত দুই প্রকার। উচ্চারিত ভাষা, অনুচ্চারিত ভাষা। উচ্চারিত ভাষা মুখের, অনুচ্চারিত ভাষা অঙ্গের। উচ্চারিত ভাষার আছে বর্ণ, অনুচ্চারিত ভাষার আছে চিত্র। অনুচ্চারিত ভাষার চেয়ে উচ্চারিত ভাষার প্রভাব বেশি। উচ্চারিত ভাষার রয়েছে লিখিত রূপ। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের উভয় ভাষাই অনুসরণ, অনুকরণ ও আয়ত্ত করে। তাই শিক্ষকের উভয় ভাষা হতে হয় অত্যন্ত উন্নত। 

মানবসন্তানকে নম্রতা ও ভদ্রতা শিক্ষা দেয়ার জন্য শিক্ষককে হতে হয় অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র। মৌখিক ও আঙ্গিক ভাষাই হচ্ছে নম্রতা-ভদ্রতার বহিঃপ্রকাশ। উত্তম শিক্ষকের মৌখিক, লিখিত ও আঙ্গিক ভাষা কখনোই অশালীন হবে না। অশালীন ভাষা শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীর শ্রদ্ধা হ্রাস করে। অশালীন ও অশুদ্ধ ভাষা সুশিক্ষার পরিপন্থী। সদা সর্বদা উত্তম হবে উত্তম শিক্ষকের ভাষা। শালীন ভাষা শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীর শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করে। শালীন ও শুদ্ধ ভাষা সুশিক্ষার অংশ। শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত উত্তম বইয়ের ভাষাই উত্তম শিক্ষকের ভাষা। উত্তম ভাষার মাধ্যমেই নিজের জ্ঞান, ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিমত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটান শিক্ষক।

শিক্ষক রেগে গেলে কী বলেন, কী করেন তা খেয়াল করে শিক্ষার্থী! বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীরা তা আয়ত্তও করে। তাই শিক্ষক রেগে গেলেও থাকতে হয় অত্যন্ত শান্ত। রাগের ভাষা থাকতে হয় অত্যন্ত শালীন ও ভয়হীন। রাগের মাথায় বকা, মারধর শিক্ষকের কাজ না। শিক্ষকের রাগের ভাষাও হতে হয় সোহাগ মাখা। যে শিক্ষকের রাগের ভাষা অশালীন ও আচরণ অশোভন সে শিক্ষক নিজেই সুশিক্ষায় শিক্ষিত নন। তার কাছ থেকে সুশিক্ষার প্রত্যাশা বৃথা। রাগের ভাষা ভদ্রতার পরিমাপক। রাগের বহিঃপ্রকাশই ভদ্রতার প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষকের রাগের ভাষা বা বহিঃপ্রকাশ হতে হবে অত্যন্ত পরিমার্জিত। 

আনন্দিত বা দুঃখিত হলে শিক্ষক কী বলেন, কী করেন তাও খেয়াল করে শিক্ষার্থী। তাই নিয়ন্ত্রিত থাকতে হয় শিক্ষকের হাসি-কান্নার ভাষা। খুশিতে আত্মহারা কিংবা বিপদে ধৈর্য হারা হলে চলবে না শিক্ষকের। শিক্ষার্থীকেও দিতে হবে তেমন শিক্ষা। খারাপ ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি শিক্ষকের সাজে না। সদা সর্বদা শিক্ষকের মুখের ও অঙ্গের ভাষা হবে নিরপেক্ষ এবং রুচিসম্মত। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, উত্তম শিক্ষককে অনুসরণ করেন সমাজের সবাই। উত্তম শিক্ষকের ভাষাই উত্তম সমাজের ভাষা। আবার উত্তম সমাজের ভাষাই উত্তম শিক্ষকের ভাষা।  

 

 

মন্তব্য করুন