Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ অক্টোবর, ২০২৪ ১১:০৫ অপরাহ্ণ

"শিক্ষার্থীরা কেনো কোচিং নির্ভর হন?"

শিরোনাম :"শিক্ষার্থীরা কেনো কোচিং নির্ভর হন?"



আমাদের দেশের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ যে পরিমাণ পাওয়া কথা আমরা শিক্ষায় সে পরিমাণ বরাদ্দ পাইনা। যার ফলে মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব না।যদি শিক্ষকদেরকে মানসম্পন্ন বেতন-ভাতা দিতে না পারি তাহলে মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে কী?মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দিতে চাইলে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।কারণ চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হলো শিল্প ও শিক্ষার বিপ্লব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার  সফল প্রয়োগ ঘটাতে হলে প্রয়োজন শিক্ষা। 


এবার আসি কোচিং -এর বিষয়ে। যারা কোচিং-এ ক্লাস নেন তারা দেখা যায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট। এই মেধাবী ও দক্ষ স্টুডেন্টরা যখন তাঁদের পড়াশোনা শেষ করেন। তখন শিক্ষকতা পেশায় বেতন ও অন্যান্য সুযোগ -সুবিধা কম থাকায় তাঁরা এই পেশায় আসতে চান না।যারফলে এদের এক স্তর বা দুই স্তর নিচের স্টুডেন্টরা শিক্ষকতায় আসেন।কেউ আসলেও কিছু দিন পরে চলে যান।

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে"  শিক্ষক ভালো তো ছাত্র ভালো"। শিক্ষক যতবেশি জানবেন স্টাডি করবেন ছাত্র ততো বেশি জ্ঞান অর্জন করবেন।এখন দেখা যায় আমাদের শিক্ষকরাই অন্ধ তাঁরা ছাত্রদেরকে কীভাবে আলোর দিকে নিয়ে যাবেন?



কোচিং সেন্টার নির্ভর পড়াশোনা কমাতে হলে নতুন ক্যারিকুলামের সাথে সাথে শিক্ষকদের মান,বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।যারা ছাত্র অবস্থায় কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেন তাদেরকে কী করে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত করা যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে।




শিক্ষার্থীরা কেন কোচিং সেন্টারে যায়?অবশ্যই বিদ্যালয় থেকে তারা যে সার্ভিসটা পাওয়া কথা সেটা পায় না।আপনি যদি কোচিং সেন্টার থেকে ভালো কিছু বিদ্যালয়ে দেন তাহলে দেখবেন সে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে কোচিং-এ যাবে না।



অনেকে বলবেন তাহলে কী শিক্ষকদের বেতন ও কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দিলে এই কোচিং নির্ভরতা কমে যাবে?

আমি মনে করি অনেকাংশে কমে যাবে। সেটা কীভাবে? এক.নতুন ক্যারিকুলাম দুই. ভালো বেতন ও শিক্ষক। তবে আমাদের এই বাংলাদেশে কিছু মানুষ আছে যাদেরকে দুনিয়ার সব কিছু দিলেও আরো কিছু চাইবে।যেমন: কিছু মানুষ আছে যাদের শিক্ষকতা পেশাটা একটা নেশা তাঁরা বুঝে শুনেই এই পেশায় এসেছেন। তাঁদের লক্ষ্য দুনিয়াতে সম্মান ও কিছু চলার মতো পাথেয় (বেতন) এবং পরকালে সদকায়ে জারিয়াহ।এর বেশি চাওয়া -পাওয়া তাঁদের নেই।তাঁদের শিক্ষকতা পেশায় এসে অনেক টাকা ইনকাম করবো এই ধান্দা নেই। আরেকটি পক্ষ আছে যাদের লক্ষ্য হলো টাকা ইনকাম করা।তাদের বেতন বৃদ্ধি করলেও তারা টাকার পিছনে দৌড়াবেন।সর্বশেষ পক্ষ যাদের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্যবসা করবো।এদের মন থাকে কিছু সময় শ্রেণি কক্ষে আর বাকি সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।এই জন্য বেতন -ভাতা বৃদ্ধি করে কোনো শিক্ষক কোচিং সেন্টারে এবং প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না এরকম আইন করা। ডাক্তারদের ব্যাপারে একই বক্তব্য। 




কেউ কেউ বলেন শিক্ষকতা পেশায় এতো মেধাবী স্টুডেন্ট দরকার নেই। এই কথা সম্পূর্ণ ভুল।এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত কথা।তাঁরা মেধাবী বা যোগ্য নয় তাই হিংসা করে এরকম বক্তব্য দেন।তাদের চিন্তা হলো সব জায়গায় যদি মেধাবীরা আসে আমাদের তো খানা নেই!  আমি বলি অবশ্যই মেধাবীদেরকে দরকার আছে।মালয়েশিয়াতে যারা ভালো স্টুডেন্ট তাঁরাই কেবল শিক্ষকতা পেশায় আসতে পারেন।

কারণ একজন দক্ষ শিক্ষক কম ফাঁকিবাজ টাইপের হন।তিনি সীমিত সময়ে যতটুকু পড়ান তাতেই অনেকটা কাভার হয়ে যায়। তিনি যতটুকু পড়ান আন্তরিকতার সাথে পড়ান।আর অন্যরা হলেন অলস, ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ খোঁজেন।তার প্রমাণ ইতোমধ্যে পেয়েছি। 

এই সকল শিক্ষক মহোদয় যে নতুন বিষয় ও পরিস্থিতির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিবেন তার মাথায় সেই পটটিই নেই। তখন তিনি মন্তব্য করেন :"এই কেনো রকম চললেই হয় এতো কিছু করে পারে?" 





এইরকম যদি হয় শিক্ষকদের চিত্র তাহলে কীভাবে প্রফার শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়?এই কারণে শিক্ষার্থীরা কোচিং এ নির্ভর হন।শিক্ষার্থীদের তো কোনো দোষ নেই আমরাই তাদেরকে কোচিং সেন্টারে যেতে বাধ্য করছি।


আরেকটি সমস্যা হলো যে সকল অভিভাবকগণ জব করেন এবং তাদেরকে নিজেরা পড়ানোর যোগ্যতা রাখে না। তারা কী করবে? বাধ্য হয়ে কোচিং -এ পাঠাবে।অনেক অভিভাবক বলেছেন যে তারা নতুন ক্যারিকুলমের পড়া কিছুই বুঝেনা।তাঁদের জন্য আপনার সলিউশন কী হতে পারে? 


আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটা এরকম যে একজন মা অনার্স ও মাস্টার্স পাশ করেও তার নিজ সন্তানকে পড়াতে সক্ষম না।



একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক মাসে গড় চার থেকে সাড়ে চার লক্ষ টাকা সরকার থেকে নেন।এখন প্রশ্ন হলো এই প্রতিষ্ঠান একজন শিক্ষার্থীকে কত টাকার জ্ঞান দান করলেন?শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করে কী কী বিষয় শিখলেন কতটুকু জ্ঞান নিতে পারলেন এটা কী আমরা পরিমাপ করে দেখি?তাঁদের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টা কী এমনিতেই ব্যয় হচ্ছে। শুধু বিদ্যালয়ে আসা আর যাওয়ার মাধ্যমে?   বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্ট দিলে পত্র -পত্রিকায় দেখা যায় অমুক স্কুল,কলেজ,মাদরাসা ভালো রেজাল্ট করেছে। এর পিছনে মূল নায়ক কে জানেন কোচিং সেন্টার ও গৃহ শিক্ষক। দুই একটা প্রতিষ্ঠান তাদের নিজের চেস্টায়ও ভালো ফলাফল করতে পারেন।



*কোচিং নির্ভরতা যেভাবে কমানো যায় :

১.মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ করা।


২.শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।


৩.মানসম্পন্ন বেতন -ভাতা ও সুযোগ- সুবিধা দেয়া।


৪.মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষকতা পেশায় কীভাবে নিযুক্ত করা যায় সেই পরিকল্পনা করা।


৫.পাঠ্যবই শিক্ষার্থী নির্ভর করে প্রণয়ন করা।


৬.প্রশ্নের ধরন ও পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন করা। 


৭.শিক্ষকদের বেতন -ভাতা বৃদ্ধি করে আইন করে কোচিং সেন্টার বন্ধ করা এবং  প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষক কোচিং-এ  নিযুক্ত হলে তার চাকরি চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করা।



৮.শিক্ষকদেরকে শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা।


৯.শ্রেণিকক্ষে সঠিকভাবে শিক্ষক পাঠদান করাচ্ছেন কিনা তা তদারকি করা।



১০.কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না সেই আইন করা(বেতন বৃদ্ধি করার পর)


১১.প্রত্যেক মাসে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে মনিটরিং করা।




লেখক:


আব্দুর রহিম 

শিক্ষক 

সৈয়দ আব্দুল মান্নান ডি. ডি.এফ আলিম মাদরাসা। 

মুসলিম গোরস্থান রোড, বরিশাল। 


মন্তব্য করুন

ব্লগ