Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ অক্টোবর, ২০২৪ ১১:১১ অপরাহ্ণ

শ্রেণিকক্ষে কী কিছু পাঠদান করানো হয় ; না শুধুই শিক্ষক ক্লাসে আসে আর যায় ?

শিরোনাম :❝শ্রেণিকক্ষে কী কিছু পাঠদান করানো হয় ; না শুধুই শিক্ষক ক্লাসে আসে আর যায় ❞? 


শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড । শিক্ষার মাধ্যমে আলো ,সভ্যতা আর প্রজ্ঞার দেখা মিলে । কিন্তু এই শিক্ষাব্যবস্থাকে যখন বাণিজ্যে রূপ দেয়া হয় তা কতটা ভয়াবহ । প্রাথমিক কিংবা মাধ্যমিক কোনো স্তরেই থেমে নেই এর ভয়াবহতা।

গ্রাম কি শহরে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র একই রকম। আমাদের দেশে শিক্ষাকে বাণিজ্যিক রূপদান করেছেন।শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য থেকে আমাদেরকে অনেক দূরে  নিয়ে গেছে।ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ।


ক্লাসে ফাস্টবয় থেকে শুরু করে ব্যাকবেঞ্চার পর্যন্ত সবাইকে প্রাইভেট,কোচিং করতে হয়। কিন্তু কেন? তাহলে কি শ্রেণিকক্ষে কি কিছুই পড়ানো হয় না ? হ্যাঁ কারো এক, দুইটি বিষয়ে প্রাইভেট পড়তে হতে পারে, কিন্তু সকল বিষয় কেন পড়তে হবে ?একজন শিক্ষার্থী সারাদিন ক্লাস করে যদি একটি হরফও  ক্লাস থেকে শিখতে না পারেন। তাহলে তার এই মূল্যবান সময় ক্লাসের পিছনে ব্যয় করা অপচয়। সারাদিন ক্লাস করে দুপুরে কোন রেস্ট না নিয়ে আবার বিকেলে কোচিং সেন্টারে দৌড়াদৌড়ি। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যহানী ঘটে।


★আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যাসমূহ:


১. অবকাঠামোগত সমস্যা।


২. ছাত্র- ছাত্রী সংখ্যা বেশি।


৩. বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাব।


৪. শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব।


৫. ইচ্ছাকৃত শ্রেণিকক্ষে ভালো করে পাঠদান না করা।

 

৬.শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব। 


৭. শ্রেণিকক্ষে ছাত্র -ছাত্রীদের অমনোযোগীতা ।


৮.ত্রুটিপূর্ণ সিলেবাস ।


৯.ম্যানেজিং কমিটির অদক্ষতা এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা।


১০.নিয়োগ ও প্রশাসনিক কাজে দুর্নীতি।


আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাইতে ছাত্র- ছাত্রী সংখ্যা বেশি। সাথে সাথে শিক্ষক সংখ্যাও তুলনামূলক ভাবে কম। একজন শিক্ষক ৪০ জন ছাত্র- ছাত্রীকে টিচিং দেয়ার সক্ষমতা রাখেন। আর অনেক শিক্ষককে দুর্নীতি করে নিয়োগ প্রদান করেছেন।যার ফলে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই।


দেখা যায় শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক ইংরেজি পড়াচ্ছেন। অনেকে আবার ক্লাসে ভালোকরে পাঠদান করান না। প্রথম দিন ভর্তি হয়েই এক একজন এক এক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ার জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করে নেন। আর শিক্ষক ক্লাস রুমে এসে কিছুই পড়ান না, শুধু গল্প করে চলে যান।ক্লাস করানোর জন্য তাঁর কোনো পাঠ পরিকল্পনা নেই। নেই যেই বিষয়ে ক্লাসে পাঠদান করাবেন সেই বিষয়ের কোন শিক্ষা উপকরণ। অনেকে শিক্ষক গড়ে আধাঘন্টাও পড়াশোনা করেনা।তাহলে তিনি ক্লাসে গিয়ে কী পড়াবেন? পান খাওয়া আর ঘুমানো -গল্প করা ছাড়া কাজ নেই!  তবে তিনি তার কোচিংয়ে ভালো করে পড়ান।দেখা যায় একই শিক্ষক ক্লাসে অংক করালে কেউ বুঝেনা, কিন্তু কোচিংয়ে সবাই বুঝে।


এখন প্রশ্ন হলো ক্লাসের একজন ছাত্রও কী বুঝবেনা ? তাহলে সরকার কেন এতো টাকা এখানে ব্যয় করছে? আর এভাবে চলতে থাকলে গরীব ছাত্ররা কিভাবে পড়াশুনা করবে।কারণ তাদের তো এতো টাকা দিয়ে প্রাইভেট, কোচিং করা সম্ভব নয়।


যদি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ভালো হয়। তাহলে সরকার কেনো প্রতি মাসে তিন-চার লক্ষ টাকা বেতন দেন?


দেখা যায় একজন ছাত্র সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত ক্লাশ করে । আবার বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কোচিং করে। তাহলে সে ক্লাস থেকে কি নেয় ? হ্যাঁ কেউ বিষয়টা ভালো করে বুঝার জন্য ব্যক্তিগত ভাবে প্রাইভেট পড়তে পারে।তার মানে ক্লাসের ফার্স্টবয় থেকে শুরু করে লাস্টবয় সবাই কেন প্রাইভেট, কোচিং করবে। শহরের প্রতিষ্ঠানের একই চিত্র। তবে অনেক অভিভাবক বলেন তারা বিভিন্ন চাকরি করার কারণে তাদের সন্তানদের পড়াতে পারেন না । তাই তারা তাদেরকে কোচিংয়ে পাঠান।


অনেকে শিক্ষকের দাবি তাদের বেতন কম তাই তারা কোচিংয়ের সাথে জড়িত। হ্যাঁ যদি এরকম হয় তাহলে বিষয়টি বিবেচনাযোগ্য।তবে দেখা গেছে অনেকের বেতন-ভাতা বিশ হাজার থেকে পঁচিশ হাজার টাকা তারাও এই পেশার সাথে জড়িত। আমার মনে হয় তারা আরো টাকা আয় করার জন্য এইসব অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত। আর তারাই ক্লাসে ভালো করে পাঠদান করান না। আর এই বিষয়টি আমাদের সমাজে প্রকট আকার ধারণ করেছে। 


আজ শিক্ষার উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে পাশ করা, ডিগ্রি অর্জন করা, ভালো চাকরি করা। কেউ জ্ঞানার্জন করতে রাজি নয়। আর আমাদের দেশের মতো পৃথিবীর কোথাও এতো পাবলিক পরীক্ষা নেই।এতো পাবলিক পরীক্ষার কারণে শিক্ষাব্যবস্থা বর্তমানে বাণিজ্যে রূপ নিয়েছে। তাই অতিদ্রুত পাবলিক পরীক্ষা কমিয়ে আনতে হবে। সাথে সাথে শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ছাত্র- ছাত্রীদের কে জানাতে হবে।


লেখক:

আব্দুর রহিম 

শিক্ষক 

সৈয়দ আব্দুল মান্নান ডি. ডি. এফ. আলিম মাদরাসা বরিশাল।

মন্তব্য করুন