Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ অক্টোবর, ২০২৪ ১১:২৩ অপরাহ্ণ

" মাদরাসা শিক্ষায় শিখন- শেখানো কার্যক্রমে রসূল (স.) এর সুন্নাহর অনুসরণ করা হয় না":

শিরোনাম : " মাদরাসা শিক্ষায় শিখন- শেখানো কার্যক্রমে রসূল (স.) এর সুন্নাহর অনুসরণ করা হয় না":


একজন মুমিন ব্যক্তির প্রত্যেকটি কাজ হবে রসূল(স.) -এর সুন্নাহর  আলোকে। চাই সেটা শিক্ষাদান হোক অথবা শিক্ষাগ্রহণ হোক। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন :


          لَقَدۡ کَانَ لَکُمۡ فِیۡ رَسُوۡلِ اللّٰہِ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ لِّمَنۡ کَانَ یَرۡجُوا اللّٰہَ وَالۡیَوۡمَ الۡاٰخِرَ وَذَکَرَ اللّٰہَ کَثِیۡرًا ؕ 


          

"বস্তুত রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ এমন ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ ও আখেরাত দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করে।[ সূরা আল আহ্‌যাব -৩৩: ২১]


রসূল(স.) যেমনিভাবে একজন  নবি-রসূল, রাষ্ট্রনায়ক এবং  সমরনায়ক ছিলেন তেমনিভাবে একজন আদর্শ  শিক্ষক ছিলেন।তিনি নিজেই বলেছেন আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।


 وَإِنَّمَا بُعِثْتُ مُعَلِّمًا ‏"‏ ‏.‏ فَجَلَسَ مَعَهُمْ ‏.‏


আবদুল্লাহ্‌ বিন আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত:


" আর আমি শিক্ষক হিসাবেই প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর তিনি এদের সমাবেশে বসলেন"। [২২৭]


সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২২৯

হাদিসের মান: দুর্বল হাদিস।


রসূল(স.) সহজ পদ্ধতিতে শিখাতেন।


  إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْنِي مُعَنِّتًا وَلاَ مُتَعَنِّتًا وَلَكِنْ بَعَثَنِي مُعَلِّمًا مُيَسِّرًا ‏"‏ ‏.‏


জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত:


  "কারণ আল্লাহ আমাকে কঠোরতা আরোপকারী ও অত্যাচারীরূপে নয় বরং সহজ পন্থায় (শিক্ষাদানকারী) হিসেবে প্রেরণ করেছেন"। (ই.ফা. ৩৫৫৩, ই.সে. ৩৫৫৩)


সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৫৮২

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।


তাঁর শিক্ষাদান প্রদ্ধতি ছিলো অত্যন্ত কার্যকরি এবং আধুনিক। আধুনিক শিখান -শেখানোর সকল পদ্ধতি বিদ্যমান ছিলো তাঁর শিক্ষাদান পদ্ধতিতে। অনেক শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা গবেষক মনে করেন যে আধুনিক শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল  তাঁর পাঠদান পদ্ধতি থেকে নেয়া।


রসূল (স.)-এর শিক্ষাদান পদ্ধতি:


 রসূল (স.) সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক ছিলেন।তাঁর শিক্ষক ছিলেন স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালা। যিনি তাঁকে হযরত জিবরিল (আ.) এর মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছে। তাঁর শিক্ষাদান পদ্ধতি ছিলো অত্যন্ত আধুনিক।

 

১.শুভেচ্ছা বিনিময় : রসূল (স.) সর্ব প্রথম সালাম দিয়ে সাহাবিদের খোঁজ খবর নিতেন।


২.পরিচিত : সালাম ও খোঁজ খবর নেয়ার পরে সাহাবিদের পরিচয় জানতেন।কেউ অনুপস্থিত ও নতুন হলে তাঁর নাম জিজ্ঞেস করতেন।


৩.শিক্ষন ফল : রসূল ( স.) এর প্রত্যেকটি বিষয়ের সুনির্দিষ্ট শিখনফল থাকতো।তিনি অহেতুক কোনো কিছু শিক্ষাদিতেন না।


৪.পূর্বজ্ঞান যাচাই : রসূল(স.) কোনো বিষয় শিক্ষা দেওয়ার আগে সাহাবিদের কে আগে জিজ্ঞেস করতেন। তোমার কী জানো এটা কী? তখন সাহাবীরা বলতেন আল্লাহ এবং তাঁর রসূল (স.) ভালো জানেন।


৫.উপস্থাপন : পূর্বজ্ঞান যাচাইয়ের পর রসূল (স.) মূল বিষয়গুলো আলোচনা করতেন।


৬.শিক্ষককেন্দ্রিক পদ্ধতি :কোনো কোনো সময় রসূল (স.) এর পাঠদান ছিলো শিক্ষককেন্দ্রিক।এখানে তিনি মূল ভূমিকা পালন করতেন।আর সাহাবায়ে কেরাম গণ মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শুনতেন।


৭.শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পদ্ধতি :আবার কোনো কোনো সময় রসূল (স.) এর পাঠদান ছিলো শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক। এখানে সাহাবায়ে কেরাম গণ বেশি সক্রিয় থাকতেন।রসূল(স.) তাদের কথা শুনতেন। আর ভুল হলো তাঁদেরকে সংশোধন করে দিতেন।


৮.অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি :রসূল(স.)এর বেশিরভাগ শিক্ষাদান পদ্ধতি ছিলো অংশগ্রহণমূলক।তিনি সকল সাহাবিদেরকে অংশগ্রহণ করাতেন। তাঁদের থেকে মতামত নিতেন।


৯.বক্তৃতা পদ্ধতি :রসূল(স.) জুমাহ, দুই ইদ এবং বিভিন্ন সময় সাহাবিদের সামনে বক্তৃতা দিয়েছেন। বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। 


১০.প্রশ্ন-উত্তর পদ্ধতি :রসূল(স.) এর সফল পাঠদানের অন্যতম একটি দিক হলো প্রশ্ন- উত্তর পদ্ধতি। তিনি সাহাবিদেরকে নতুন কোনো বিষয় এবং নতুন কোনো আয়াত নাযিল হলে জিজ্ঞেস করতেন এই আয়াতের মর্ম বা ব্যাখ্যা কী হতে পারে।


১১. সতীর্থ শিক্ষন পদ্ধতি। 


১২.অণুশিক্ষণ পদ্ধতি। 


১৩.ভূমিকাভিনয় পদ্ধতি। 


১৪.আলোচনা পদ্ধতি। 


১৫.প্রদর্শন পদ্ধতি। 


১৬.আবৃত্তি পদ্ধতি। 


১৭.মাথা ঘাটানো।


১৮.দলগত আলোচনা।


১৯.শিক্ষা উপকরণ এবং বাস্তব শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার।


২০.উদাহরণ ও বাস্তব উদাহরণ প্রদান।


২১.বিভিন্ন শিক্ষামূলক  গল্প ও কাহিনি বর্ণনা।


২২.কণ্ঠস্বরের উঠা নামা।


২৩.গুরুত্বপূর্ণ কোনো কথা তিনবার বলা।


২৪.হাতে -কলমে শিখানো।


২৫.প্রহার ও মন্দ কথা না বলা।


আমাদের মাদরাসা শিক্ষকদের শিক্ষাদান পদ্ধতি:


আমাদের মাদরাসা শিক্ষকগণ চিন্তাই করেন না যে শিক্ষাদানেও রসূল (স.) এর সুন্নাহ রয়েছে যা আমাদেরকে মেনে চলতে হবে।তারা শ্রেণিকক্ষে সালাম প্রদান না করেই পবেশ করেন। তাঁরা আগে শিক্ষার্থীদেরকে সালাম দেন না বরং সালাম পাওয়ার আশায় থাকেন।কোনো রকম পূর্বজ্ঞান যাচাই ব্যতীত ক্লাস শুরু করে দেন। পরিচিত পর্ব নেই। কোনো পাঠ পরিকল্পনা নেই। শিখন ফল বের করা নেই।শিখন -শেখানো পদ্ধতি হলো শিক্ষককেন্দ্রিক।আধুনিক পাঠদান কৌশল নেই আছে প্রাচীন বক্তৃতা পদ্ধতি। অনেকে আবার ক্লাসে এসে ঘুমান কেউ আবার পান খান।যে বিষয়টি পাঠদান করাবেন সেই ব্যাপারে কোনো পূর্বচিন্তা- ভাবনা থাকেনা।বিষয়টির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন না, কেন শিখবো? শিখলে আমাদের লাভ কী? নেই শিক্ষন সামগ্রী ও শিক্ষণ সহায়ক উপকরণের ব্যবহার।কোনো  বাস্তব উদাহরণ প্রদান করেন না।শিক্ষামূলক কোনো গল্প ও কাহিনির বর্ণনা থাকেনা।শিক্ষার্থীদের সাথে রূঢ় ও কঠোর গলায় কথা বলেন।পাঠদান আনন্দময় ও আকর্ষণীয় হয়ে কখনো  উঠেনা।

অনেক সময় আমাদের শিক্ষকগণ  শিক্ষার্থীদেরকে প্রহার করে জখম করে ফেলে।অথচ রসূল (স.) কখনো শিক্ষার্থীদেরকে প্রহার করেন নাই। 


তাই একজন শিক্ষককে অবশ্যই পাঠদানে রসূল (স.) এর সুন্নাহ মেনে চলতে হবে।আর তাঁর শিখন-শেখানো পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে ভালো ফলাফল আশা করা যাবে।


লেখক

আব্দুর রহিম 

বিএমএড শিক্ষার্থী 

বাউবি 

স্টাডি সেন্টার :সাগরদী কামিল মাদরাসা, বরিশাল।

মন্তব্য করুন

ব্লগ