সহকারী মৌলভী
০৩ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:২০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী মৌলভী
শিরোনাম :"সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকের বেতন গ্রেড পরিবর্তন এবং কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা সরকারি প্রাথমিকের মতো অনার্স বা সমমান করা সময়ের দাবি ":
এনটিআরসি এর মাধ্যমে নিয়োগ পরিক্রিয়া চালু হওয়ার পারে অনেক দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো বেতন -ভাতা কম থাকায় এই পদে যোগ্যরা বেশি দিন চাকরি করেন না।ফলে সারা বছর শিক্ষক সংকট লেগেই থাকে। এর ফলে ইবতেদায়ী স্তরে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কম এবং শিক্ষার মানও কম।ঠিক মতো পাঠদান হয়না।তাই অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে প্রাইভেট মাদ্রাসায় বা নূরানি মাদরাসায় ভর্তি করান।
যদি এই স্তরে শিক্ষকদের বেতনভাতার বৃদ্ধি করা হতো এবং সরকারি প্রাথমিকের মতো শিক্ষক নিয়োগ এর যোগ্যতা অনার্স বা সমমান বা আলিমের পরিবর্তে ফাযিল পাশ করা হতো তাহলে এই স্তরে চাকরি ছেড়ে অন্য পদে বা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রবণতা কমে যেত।
আগে কমিটির মাধ্যমে যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই অবসরে চলেগেছেন বা অল্প কিছু দিন পরেই যাবে।নতুনরা আসলেও বেশি দিন থাকেনা।
এনটিআরসি এর শূন্য পদ এই ইবতেদায়ী স্তরেই বেশি। প্রিলি পরীক্ষার এমসিকিউ মোটামুটি কঠিনই হয়।
দ্রুত বেতন কাঠামো ও কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন না করা হলে দিনদিন ইবতেদায়ী স্তরের শিক্ষার মান তলানিতে যাবে!
প্রস্তাবিত সংশোধনী:
১.ইবতেদায়ী মৌলভী:
ক.ফাযিল পাশ গ্রেড ১৩ বেতন স্কেল ১১০০০টাকা।
যারা আলিম পাশ করে ইবতেদায়ী মৌলভী পদে জয়েন করেন। তাদের ফাযিল পাশের সনদ সাবমিট করে ১৩ তম গ্রেডের জন্য আবেদনর সুযোগ প্রদান।
২.ইবতেদায়ী শিক্ষক, ভাষা( বাংলা ও ইংরেজি) :
যে কোনো বিষয়ে অনার্স বা সমমান বা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় বা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাযিল বা অনার্স ডিগ্রি।গ্রেড ১৩ বেতন স্কেল ১১০০০টাকা।যারা এইচএসসি পাশ বা আলিম পাশ করে জয়েন করেছেন তারা অনার্স বা সমমান বা ফাযিলের সনদ সাবমিট করে ১৩ তম গ্রেডের জন্য আবেদনর সুযোগ প্রদান।
৩. ইবতেদায়ি কারী:
ক.দাখিল মুজাব্বিদ অথবা আলিম মুজাব্বিদ মাহির পাশ সহ ফাযিল পাশ। গ্রেড ১৩ বেতন স্কেল ১১০০০ টাকা।
খ.দাখিল ও আলিম[জেনারেল ] পাশ এবং ফাযিল পাশ সহ ইলমুল কিরায়াতে ১বছরের ডিপ্লোমা গ্রেড ১৩ বেতন স্কেল ১১০০০টাকা।যারা আলিম পাশ করে ইবতেদায়ী মৌলভী পদে জয়েন করেন। তাদের ফাযিল পাশের সনদ সাবমিট করে ১৩ তম গ্রেডের জন্য আবেদনর সুযোগ প্রদান।
ইবতেদায়ী ক্বারী ও সহকারী মৌলভী ক্বারী পদে ফাঁকা সবচেয়ে বেশি। কারণ দাখিল ও আলিম মুজাব্বিদ ক্বারী অনেক মাদরাসায় গ্রুপ নেই এবং শিক্ষার্থীরা এই বিষয়ে তেমন কিছু জানেওনা। অথচ এই পদে ফাঁকা বেশি পাশ করলে চাকরি পাওয়া সহজ।
এই সংকট দূর করতে এবং আলিয়ার শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করতে ফাযিল পাশের পাশাপাশি এক বছর ইলমুল কিরায়াতে ডিপ্লোমা কোর্সধারীদের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এই কাজটি নামকরা মাদ্রাসাগুলো ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে চালু করতে পারে।শিক্ষক সংকট কেটে গেলে এই নিয়ম বাতিল হয়ে যাবে।
লেখক:
আব্দুর রহিম
আরবি বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭
২৭ মন্তব্য