Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:২৩ পূর্বাহ্ণ

মাদ্রাসায় ব্যবসা শিক্ষা বিভাগ চালু করা সময়ের দাবি :

শিরোনাম :"মাদ্রাসায় ব্যবসা শিক্ষা  বিভাগ চালু করা সময়ের দাবি ":


রসূল(স.) বলেছেন " নীচের হাতের চাইতে উপরের হাত উত্তর "।আর আমাদের ক্ষেত্রে ঠিক তার উল্টো " উপরের হাতের চাইতে নীচের হাত মনে হয় উত্তর "।আমরা খালি নিতে শিখেছি এবং আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে তাই শিখাই।আমরা শিখাই ইমামতি।আর এদেশের সকল বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইসলাম বিরোধীদের হাতে এবং  কলেজ -বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ অনুষদ জেনারেল শিক্ষার্থীদের দখলে।মনে হয় এরকম চুক্তি হয়েছে যে তারা ইনকাম করে দিবে।আর আমরা বসে বসে আল্লাহ আল্লাহ করবো আর খাবো!আমরা কী সেই সাহাবীর কথা ভুলে গেছি যাকে আনসার সাহাবীরা সহযোগিতা করতে চাইলে সে বলেছিলো:❝ আমাকে শুধু বাজারটা দেখিয়ে দাও❞।

মাদ্রাসায় ব্যবসা শিক্ষা বিভাগ চালু করার কথা বললে অনেক মাথা মোটা আলেম প্রচলিত অর্থনীতি ও ব্যবসা শিক্ষা  বিভাগের কথা চিন্তা করে ফতোয়া দেওয়া শুরু করে দিবেন।যে মাদ্রাসা ধ্বংসের জন্য এক শ্রেণির লোক মাদ্রাসায় সুদ চালু করার পায়তারা করছে।এদের থেকে আপনারা সাবধান থাকবেন। আরে ভাই ব্যবসা শিক্ষা  বিভাগ মানে সুদ না।ব্যবসা শিক্ষা বিভাগ হলো ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা ও কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে  বিভিন্ন ব্যবসার নীতি ও মার্কেটিং পলিসি তৈরি করা। যা বর্তমানে ইসলাম বিরোধীদের হাতে রয়েছে। তাদের অর্থ থাকার কারণে তারা সেই টাকা ইসলামের বিপক্ষে ব্যয় করে।আর আমাদের বাণিজ্য বিভাগ চালু করার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করা।অর্থনৈতিক সমাজ আলেম সমাজের হাতে নিয়ে আশা।মানুষকে একটা অর্থনৈতিক মুক্তি দান করা। ইসলাম ধর্ম মানুষকে সৎ পথে অর্থোপার্জনে উৎসাহিত করেছে এবং আল্লাহ তায়ালা সৎ ও হালাল উপার্জন করা ফরজ করেছেন।আর নিষেধ করেছে অসৎ পথে রোজগার। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, জুমুআর দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে শিগগিরই ধাবিত হও, ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ কর, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে! অতঃপর যখন নামাজ সমাপ্ত হয়, তখন জমিনে ছড়িয়ে পড়, আর আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করতে থাক, যাতে তোমরা সাফল্য লাভ করতে পার।’ (সুরা: জুমুআ: ৯-১০)


সৎ ব্যবসায়ীরা নবিদের সাথে থাকবেন।কারণ রসূল( স.) বলেছেন :


সত্যবাদী ব্যবসায়ীর জন্য নবী (সা.) দিয়েছেন মন-ভালোকরা সুসংবাদ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সত্যবাদী বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীর হাশর হবে নবী, সিদ্দিক ও শহিদদের সঙ্গে।’ (তিরমিজি: ১২০৯)


 যেমন:ধরুন আপনি ইয়াহুদিদের পণ্য বর্জন করবেন।তাহলে আপনাকে বাজারে আগে তার বিপরীতে আরেকটা পাণ্য  তৈরি করে ছাড়তে হবে।এখন যদি আপনারা ব্যবসায়িক নীতিমালা ও অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে তো আপনার ব্যবসা পথে পথে।আমরা ব্যবসা মানে বুঝি দুই নম্বর পণ্য এক নম্বর বলে চালিয়ে মুসলিমদেরকে ঠকানো। 


অর্থনৈতিক মূল চালিকাশক্তি হলো

ব্যবসা- বাণিজ্য। আর সেই শক্তি

থেকে বঞ্চিত মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। যদি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা  বড় বড় ব্যবসায়ী হতেন তাহলে দেশ ও ইসলামের জন্য অনেক

উপকার হতো। আমরা শুধু আমলা

তৈরি করছি। কিন্তু অর্থ হলো

রাষ্ট্রের রক্তস্বরূপ। মানুষরে শরীরে

যেমন রক্ত ছাড়া বাঁচতে পারেনা।

ঠিক তেমনিভাবে অর্থ ছাড়া কোন

রাষ্ট্র চলতে পারেনা। কিন্তু দুঃখের

বিষয় হলো মাদ্রাসা শিক্ষায়

ব্যবসা শিক্ষা  বিভাগ নেই। বিজ্ঞান

বিভাগের ও একই অবস্থা। সব মাদ্রাসা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান

বিভাগ নেই। অথচ মুসলিমরা যতদিন

বিজ্ঞান চর্চা করেছিল ততদিন সম্পূর্ণ

পৃথিবী শাসন করেছিল। আর এখন

বিজ্ঞানের চর্চা রয়েছে অমুসলিম

দেশ গুলোতে।তাই আজ ক্ষমতা

তাদের হাতে। এখন কোন মুসলিম

বিজ্ঞানীর( ইবেন সিনা, জাবের

ইবনে হাইয়ান,আল খারেজমী) কথা

আমরা শুনতে পাইনা। আমরা শুনতে

পাইনা "বায়তুল হিকমাহ", দারুল

হিকমাহ " মত কোন বিজ্ঞান গবেষণা

কেন্দ্রের কথা। তাই সকল মাদ্রাসায়

বিজ্ঞান বিভাগ খোলা প্রয়োজন।

সাথে সাথে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ

দিতে হবে। এবার ব্যবসার কথা বলা

যাক, আমাদের প্রিয় নবী হযরত

মুহাম্মদ (স.) স্বয়ং নিজে ব্যবসা

করেছেন এবং একজন দক্ষ ব্যবসায়ী

ছিলেন। তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে

সিরিয়া গমন করেছিলেন। বহু

সাহাবি ( রা.) তাদর জীবনে ব্যবসা

করেছেন। ব্যবসা করেছেন অনেক

তাবেয়ী, ব্যবসা করেছেন ইমাম আবু

হানিফা( রহ.)। তিনি নিজে

কাপড়ের ব্যবসা করেছেন। ইসলামের

প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর( রা.) ব্যবসা করেছেন।

হাদিসের এবং ফিকাহের  প্রতিটি গ্রন্থে " কিতাবুল

বুয়ু" বা ব্যবসার অধ্যায় রয়েছে। যদি

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ব্যবসা

শিক্ষা গ্রহণ করে, তাহলে দেশ,

ইসলাম,এবং মুসলিমদের আর্থিক

অবস্থা অনেক উন্নতি লাভ করবে।আজ

দেখাযাচ্ছে বড় বড় ব্যবসায়ী হলেন

অমুসলিম এবং ইসলাম বিদ্বেষী।তাই তাদের কোম্পানি চাকরি করলে সলাত পড়ার সুযোগ নেই এবং অনৈসলামিক পোশাক -পরিচ্ছদে পরতে বাধ্য করা হয়। তাই

মাদ্রাসা শিক্ষায় ব্যবসা শিক্ষা বিভাগ

চালু করা সময়ের দাবী।মাদ্রাসায় ব্যবসা শিক্ষা  বিভাগ চালু করলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর সাথে

সাথে জেনারেল ব্যবসা শিক্ষার  যে

সমস্ত বই রয়েছে সেগুলোর সাথে

ইসলামের সমন্বয় ঘটিয়ে বই প্রণয়ন করতে

হবে।তবে আমার জানা মতে

ইসলামি ব্যাংকি ও বীমা, ইসলামি

অর্থব্যবস্থা এবং ইসলামি ব্যবসার ওপর

অনেক বাংলা ভাষা সহ অন্যান্য

ভাষাতে প্রচুর বই রয়েছে। বর্তমানে

মাদ্রাসায় দুইটি বিভাগ চালু রয়েছে,

এক. সাধারণ দুই. বিজ্ঞান। এই দুই

বিভাগে নিচের বিষয়গুলো পাঠদান

করানো হয়।

ইসলাম ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে গড়া

আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জাতিকে দুর্নীতিমুক্ত অথর্নীতি, ভেজাল ও শোষণমুক্ত বাজার ও রাষ্ট্র উপহার দিতে সক্ষম হবে।সুতরাং ব্যবসা হোক জীবন ও রাষ্ট্রের কল্যাণার্থে। 


লেখক 

আব্দুর রহিম 

আরবি বিভাগ 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ