Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ অক্টোবর, ২০২৪ ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

শিশুদের কাঙ্খিত আচরণের গুণগত পরিবর্তনে অংশীজনদের করণীয়

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ও শিশুদের কাঙ্খিত আচরণের গুণগত পরিবর্তনে অংশীজনদের সাথে ওতপ্রোতভাবে প্রায় ১০ বছর ধরে কাজ করার ফলে শিশুদের গুণগত পরিবর্তনে তাঁদের মনের চাওয়া অবলীলায় প্রকাশ করেন। চাওয়া একটাই সন্তান যেন মানুষের মতো মানুষ হয় অর্থাৎ দেশ ও দশের সেবার জন্য যোগ্য হয়ে উঠে। শিশুদের গুণাবলির বিকাশ ঘটিয়ে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলতে বিদ্যালয়ের গুণগত পরিবেশ, বিদ্যালয়ে শিশুর নিয়মিত উপস্থিত প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের গুণগত পরিবেশ বজায় রাখতে, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ও মানসম্মত শিশু অর্থাৎ শিশুর যৌক্তিক গুণাবলির বিকাশে শিক্ষকগণ ছাড়াও অংশীজনদের সহযোগিতা ব্যাপকভাবে উপলব্ধ হয়।

অংশীজনদের চাওয়ার বাস্তবে রূপদানের প্রাতিষ্ঠানিক যে প্রতিষ্ঠান, তার নাম হলো বিদ্যালয়। প্রাথমিক বিদ্যালয় হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে ৫+ হতে ১০+ শিশুদের নিয়ে বয়সভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক হতে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকগণের প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে অর্গানাইজড লার্নিং পরিচালিত হয় এবং বয়স ভিত্তিক যোগ্যতা অর্জনে নিবিড়ভাবে শিক্ষকগণ কাজ করেন। এছাড়াও বর্তমানে ৪+ শিশুদের নিয়ে প্রত্যেকটি ক্লাস্টারে ১টি করে বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিকের পাইলটিং কার্যক্রম চলমান।বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে এবং শিক্ষার্থীদেরকে মানসম্মত শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তোলতে সহায়ক ভূমিকা হিসেবে বিদ্যালয়ের অংশীজন তথা শিক্ষার্থীদের মা-বাবা, বড় ভাই বোন, প্রতিবেশীগণ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বিদ্যালয়ের অংশীজন বলতে বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকায় বসবাসকারী সকল নাগরিককে বুঝায়। নাগরিকদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী তথা শিশুর মা-বাবা, বড় ভাই-বোন, প্রতিবেশী, ক্যাচমেন্ট এলাকায় স্থাপিত বিভিন্ন ধরণের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ।

বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ১ জানুয়ারিতে আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে বই বিতরণ উৎসবের মাধ্যমে। প্রতিবছর ১৫ ডিসেম্বর হতে ৩১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্যাচমেন্ট এলাকার সকল শিশুর শতভাগ ভর্তির জন্য চলে শিশু জরিপ ও ভর্তি কার্যক্রম। ব্লক ভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ আন্তরিকভাবে শিশুজরিপ সম্পন্নপূর্বক শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে উপবৃত্তিসহ ইউনিক আইডির যাবতীয় সেবা প্রাপ্তির নিমিত্ত শিশুর জন্মসনদ থাকা জরুরি। জন্মসনদ নিশ্চিতকরণে কাজ করে ইউনিয়ন পরিষদ। ইউনিয়ন পরিষদে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের জন্য ওয়ার্ডের বসবাসকারী নাগরিকদের প্রত্যক্ষ নির্বাচিত প্রতিনিধি অর্থাৎ ওয়ার্ড মেম্বার থাকে যিনি পদাধিকারবলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য। বিদ্যালয়ে শিশুর ভর্তির জন্য জন্মসনদ সঠিক সময়ে নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার সচেতনতা সৃষ্টি করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়াও শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করণে ব্লক ভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকগণের সাথে সমন্বয় করে উঠান বৈঠক করে শিক্ষার গুরুত্ব আলোকপাত করে অভিভাবকগণকে শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যালয় নিয়মিত পাঠাতে উৎসাহিত করতে পারে। আর এ কাজের জন্য পাড়া/মহল্লা ভিত্তিক তদারককারী টিম গঠন করতে পারেন।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যানগণ যেহেতু ইউনিয়ন পরিষদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে আবশ্যিকভাবে প্রতিবছর ডিসেম্বর ও জানুমাসে আবশ্যিকভাবে শিশুদের বিদ্যালয়ে শতভাগ ভর্তি ও নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে কয়েকটি সভা আয়োজন করে গৃহিত সিদ্ধান্ত সমুহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বারগণ ওয়ার্ডে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করতে পারেন এবং প্রতিবছর প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ক্যাটেগরিতে নির্বাচিত ব্যক্তিবর্গকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করতে পারেন যার কারণে কাজের স্বীকৃতি বাড়বে ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হবে।

এছাড়াও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সদস্য হিসেবে বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে বিদ্যালয়ের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত ফান্ড হতে বরাদ্দপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে। প্রতিমাসের বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপস্থিত থেকে বিদ্যালয় পরিবেশ উন্নয়নে ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণকে(মা-বাবা) বিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ রাখতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যায়(রাতে) পড়তে বসে কি না মাঝে মাঝে খোজ খবর নিতে পারে।

মন্তব্য করুন