Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ অক্টোবর, ২০২৪ ০৮:৩৭ অপরাহ্ণ

ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে আমার নেওয়া বিশেষ কৌশল

ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ কৌশল

ভাষার দক্ষতা চারটিশোনা, বলা, পড়া, লেখা। আর ভাষা হলো যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। তাই আমাদের সঠিকভাবে যোগাযোগের জন্য ভাষা শেখাটা জরুরি। আমাদের মাতৃভাষা যেহেতু বাংলা, তাই আমরা জন্মের পর থেকেই চারপাশে বাংলা ভাষায় কথা শুনতে পারি, একটু বড় হয়ে এই ভাষায় বলতে পারি, পড়ালেখা করার সুবাদে বাংলা পড়তে লিখতে পারি। কিন্তু বিদেশি ভাষা রপ্ত করার ক্ষেত্র অবশ্য ভিন্ন।

 আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা শেখা বিদেশি ভাষা হিসেবে ইংরেজি শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর কারণে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে বাংলা ইংরেজি দুটি আলাদা বিষয় হিসেবে শিক্ষাক্রমে স্থান করে নিয়েছে। যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো ভাষার ওপর দক্ষতা অর্জন করানো।

 শিক্ষার লক্ষ্য উদ্দেশ্য থেকে আমরা জানতে পারিআমাদের শিক্ষার একটি উদ্দেশ্য হলো বাংলা ভাষা শুদ্ধ ভালোভাবে শিক্ষা দেওয়া নিশ্চিত করা। আর এই কাজটি করার জন্য বিষয় হিসেবে প্রাথমিক স্তর থেকেই বাংলা পড়ানো হয়ে থাকে।

 বাংলা কেবল একটি বিষয় নয়, এটি সকল বিষয় শেখার মাধ্যম। এদিক থেকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষায় শোনা, বলা, পড়া লেখার দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। তাই বাংলা ভাষা শেখার ক্ষেত্রে আমি অন্যান্য সচেতন শিক্ষকদের ন্যায় অনেক গুরুত্ব সহকারে পাঠ দেই।

 আমাদের প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই ভাষার চারটি দক্ষতাকে অর্জন করানোর জন্যই প্রণয়ন করা হয়েছে। পাঠ্যবই বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাই, প্রতিটি পাঠের শুরুতেই দেওয়া আছে পাঠে কী করতে হবে, এর ফলে কোন দক্ষতাটা অর্জন হবে অর্থাৎ শিক্ষকের জন্য একটি নির্দেশনা দেওয়া থাকে পাঠটি কীভাবে পড়াতে হবে। কোন পাঠটি শোনাতে হবে, কোন পাঠটি বলাতে হবে, কোনটি পড়াতে হবে কোনটি লেখাতে হবে তাও নির্ধারণ করা আছে। একজন শিক্ষক যদি নির্দেশনাটি যথাযথ অনুসরণ করেন, তাহলে একজন শিক্ষার্থী ভাষার চারটি দক্ষতাই সমানভাবে অর্জন করতে পারবে। ভাষার এই চারটি দক্ষতা শ্রেণিকক্ষে অর্জনের জন্য আমি নিষ্ঠার সাথে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছি।

 

আমরা যদি প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষার সাথে সাথে ব্যবহারিক পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখি তবে দক্ষতার কতটা অর্জন করানো গেল তা পরিমাপ করা যাবে। যেমন

 

১। শোনার জন্য: আমি সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বলবো আর শিক্ষার্থীরা একে একে তার উত্তর দিবে। এভাবে সহজেই শোনার দক্ষতার মূল্যায়ন করতে পারি।

 

২। বলার জন্য: আমি একে একে সবাইকে দিয়ে কিছু না কিছু বলাবো, হতে পারে এটা কোনো কবিতা বা নিজের কোনো গল্প। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বলার দক্ষতার পরিমাপ করা যাবে।

 

৩। পড়ার জন্য: শিক্ষার্থীকে পাঠ্যবইয়ের নির্বাচিত অংশ পড়তে দিয়ে পড়ার দক্ষতার পরিমাপ করা যাবে। এছাড়া আমরা প্রচলিতভাবে লেখার পরীক্ষা নিয়েই থাকি।

 

তাই দেখা যায়, এসব কাজের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী ভাষার চারটি দক্ষতার কোনটি কতটুকু অর্জন করতে পারল, তা সহজেই পরিমাপ করা যাবে। এর মধ্যদিয়ে একজন শিক্ষার্থী ভাষা ব্যবহারে স্বয়ংসম্পন্ন হয়ে গড়ে উঠবে। অর্জিত হবে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য।

পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে-

সুশিল চন্দ্র রায়

জেলা এম্বাসেডর

সহকারী শিক্ষক

মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাল।

মন্তব্য করুন