প্রধান শিক্ষক
০৩ অক্টোবর, ২০২৪ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক
চায়নাতে থাকার সময় সুযোগ হয়েছিল ওখানকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের। চীনের হুজো বিশ্ববিদ্যালয়ের Education Department পরিদর্শনটি আয়োজন করেছিলো।
সুবিশাল ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখেই প্রিন্সিপাল এবং একজন শিক্ষক আমাদের স্বাগত জানালেন। এরপর আমাদেরকে নিয়ে যাওয়া হলো কনফারেন্স রুমে। সেখানে বিদ্যালয় এর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে ধারনা দিলেন প্রিন্সিপাল। ব্রিফিং শেষে আমরা ঘুরে দেখলাম ল্যাব। একটি প্রথমিক বিদ্যালয়ের ল্যাব এত সমৃদ্ধ হতে পারে তা আমার কল্পনায়ও ছিলো না। কি নেই সেখানে, বাচ্চাদের হাতে কলমে বিভিন্ন জিনিস চেনানো ও সেগুলোর ব্যবহার সেখানোর জন্য! তবে সবচেয়ে বেশি আমার নজর কাড়লো বিদ্যালয়ের সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং সেকশন। ৫/৬ টি কক্ষ নিয়ে এই সেকশন। একজন Child Phycologists আছেন এই সেকশনের দায়িক্তে। এখানকার বিভিন্ন কর্ম্পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর মনোজগতের ধরন-ধারনের উপর রিপোর্ট তৈরি হয়। সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে শ্রেনি শিক্ষক ওই শিশুর শিখন শিখানোর কৌশল নির্ধারন করেন। এই সেকশনের একটি কক্ষে দেখলাম দাবার ছকের মতো দেওয়াল এবং মাঝখানে একটি রাবারের মুর্তি।
জানা গেলো যখন কোনো শিশু রেগে যায় বা বিরক্ত হয় তখন তাকে এই রুমে এনে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে রাবার এর মুর্তির উপর ইচ্ছামতো কিল, ঘুষি দিয়ে নিজের রাগ প্রশমন করে।
প্রশাসনিক ভবন থেকে বিশাল খেলার মাঠ পাড়ি দিয়ে আমরা গেলাম একাডেমিক ভবনে। সেখানে ছাত্রছাত্রীরা আমাদের বাজনার সাথে স্বাগত জানালো। আমরা ক্লাস পর্যবেক্ষনের জন্য একটা শ্রেণি কক্ষে বসলাম। কিন্তু মজার বিষয় হলো সেখানে কোনো ছাত্রছাত্রী বা শিক্ষক ছিলেন না। ক্লাসরুমটির ব্লাকবোর্ডের পুরো অংশটি জুড়েছিলো স্ক্রীন, সেখানেই আমরা দেখতে ও শুনতে পাচ্ছিলাম পাশের ক্লাস রুমটির চলমান ক্লাস।
ক্লাস পর্যবেক্ষন শেষে আমরা ছাত্রছাত্রীদের সাথে কুশল বিনিময় শেষে বিদায় নিয়ে আসলাম।
১
১ মন্তব্য