Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ অক্টোবর, ২০২৪ ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ

খেলনায় ক্ষতিকর রাসায়নিক ঝুঁকিতে শিশু স্বাস্থ্য



প্লাস্টিক রিসাইকেল (পুনঃপ্রকিয়াজাত) করে তৈরি শিশুদের খেলনা সামগ্রী ও পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব খেলনা ব্যবহারে বিশেষ করে ৬ বছরের কম বয়সি শিশুদের সঠিক শারীরিক ও স্নায়ুবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিডনি ড্যামেজ, হাড় মজবুত না হওয়া, শ্বাসকষ্ট, ত্বক জ্বালাপোড়া ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। গত বছর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) ও ফিলিপাইনভিত্তিক সংস্থা ‘ব্যান টক্সিকস’র যৌথ গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার এসডোর প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।


এ সময় জানানো হয়, শিশুর খেলনায় সহনীয় মাত্রা বিষাক্ত উপাদানের ন্যূনতম সীমা হচ্ছে-সিসা ৯০ পিপিএম, পারদ বা ৬০ পিপিএম মার্কারি, ৭৫ পিপিএম ক্যাডমিয়াম, ২৫ পিপিএম আর্সেনিক ও ২৫০ পিপিএম পর্যন্ত ব্রোমিয়াম। পিপিএম একক হলো ‘পার্টস পার মিলিয়ন’ অর্থাৎ অতিলঘু দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের প্রচলিত ও কার্যকরী পদ্ধতি। কিন্তু এসব সামগ্রীতে ৩২০ পিপিএম পরিমাণ সিসা, ১৩৯০ পিপিএম ক্রোমিয়াম, ১২৮০ পিপিএম ব্রোমিয়াম ও ২৪৭ পিপিএম আর্সেনিক পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শিশুর খেলনা পুতুল, বর্ণমালা, খেলনা গাড়ি, ব্যাঙ, মগ, ফিডার, প্যাসিফায়ারসহ (শিশুর চুষনী) নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রীতে ক্ষতিকর উপাদানগুলো মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। রাজধানীর চকবাজার, নিউ মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, অর্কিড প্লাজাসহ বেশ কিছু জায়গা থেকে ১৬০টি খেলনার নমুনা সংগ্রহ শেষে সেগুলো পরীক্ষা করে এ তথ্য জানা গেছে। সংবাদ সম্মেলনে কিছু পণ্য পরীক্ষা করে ক্ষতিকর মাত্রাগুলো দেখানো হয়। ফলাফলে আরও জানা গেছে, গবেষণায় শিশুদের ব্যবহৃত সাধারণ পানির কাপে ১৩৮০ পিপিএম সিসা, ২৪৭ পিপিএম আর্সেনিক ও ১৩৯০ পিপিএম ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে। শিশুদের ব্যবহৃত স্টেশনারি ব্যাগে ৫৮০ পিপিএম সিসা, ১২৮০ পিপিএম ব্যারিয়াম, ৮৮ পিপিএম পারদ পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে স্কুলের ব্যাগই শিশুর জন্য বিপজ্জনক। পুতুল সেটে ১৬০ পিপিএম সিসা ও ১৫০০ পিপিএম ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে। শিশুদের পানি খাওয়ার মগে ২২০ পিপিএম সিসা, ৩১৫ পিপিএম ক্যাডমিয়াম ও ১৬৮০ পিপিএম ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে। একটি সুপরিচিত খেলনা দোকান থেকে কেনা পুতুল সেটে প্রায় ৫০০ পিপিএম সিসা পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে যে, বড় দোকানগুলোও এই ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থমুক্ত নয়। এছাড়া শিশুদের শেখার জন্য তৈরি বর্ণমালা সেটের একটি অক্ষরে ৬৬০ পিপিএম সীসা পাওয়া গেছে।



এসডোর চেয়ারপারসন ও সাবেক সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, শিশুদের পণ্যে এ ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি একটি জরুরি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই অদৃশ্য হুমকি থেকে রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন খেলনায় রিসাইকেল করা প্লাস্টিক ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, খেলনায় রিসাইকেল করা প্লাস্টিকের ব্যবহার বিপজ্জনক। এমন উপাদান খেলনায় কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়। আমরা চাই, খেলনায় রিসাইকেল করা প্লাস্টিক নিষিদ্ধ হোক ও সব শিশুদের পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক মুক্ত থাকুক। আমাদের শিশুদের সুরক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


ব্যান টক্সিকস-এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জশাফ সামির লোরেঞ্জো ও টক্সিক ক্যাম্পেইনার থোনি ডিজন যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এই যৌথ গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। আমাদের শিশুরা প্রতিদিন বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসছে। যা তাদের বিকাশ ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশে স্থানীয় বাজারে পাওয়া খেলনা ফিলিপাইনের মতো এশিয়ার অন্য দেশেও খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। যা এই সমস্যার আন্তঃসীমান্ত প্রকৃতি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ