Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ অক্টোবর, ২০২৪ ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ

স্কুল, কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা ইসলামি করণের রূপরেখা

শিরোনাম :"স্কুল, কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা ইসলামি করণের রূপরেখা ":

বাংলাদেশ একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। এখানের অধিকাংশ জনগণই মুসলিম।মুসলিম পরিচয় বহন করার জন্যই এই দেশটির জন্ম হয়েছে।  অথচ এই দেশের স্কুল - কলেজের চিত্র ঠিক তার বিপরীত। এখানে ইংরেজি বাধ্যতামূলক হলেও ইসলাম শিক্ষা ঐচ্ছিক।ইংরেজি ভাষা প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত শিখানো হলেও আরবি ভাষা  শিখানো হয় না।অথচ আরবি মুসলিমদের ধর্মীয় ভাষা।মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আরবি ভাষায় ও হাদিসসহ অন্যান্য বইগুলো আরবি ভাষায় রচিত।এর মানে ধর্মীয় শিক্ষা না হলেও চলে। কিন্তু দেশটির জনপ্রশাসন চাচ্ছেন দুর্নীতি, ঘুষ, ধর্ষণ দূর করতে। কিন্তু যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন তিনি ভালো করেই জানেন সমাজে, রাষ্ট্রে ,শান্তি ও নিরাপত্তা বিরাজের জন্য তাদের কি বিধান, আইন- কানুন প্রয়োজন। কিন্তু আজ জনপ্রশাসন সেই আল্লাহর প্রদত্ত বিধান কে বাদ দিয়ে নিজেদের বা মানুষের তৈরি নিয়ম - কানুন চালু করেছে। যার ফলে সমাজ, রাষ্ট্র থেকে এই সব জিনিষ দূর করতে পারে নাই।

অনেকে আবার বলে থাকেন আমরা কেন আরবদের কে বা মধ্যপ্রাচ্য কে অনুসরণ করবো। এটা তাদের নির্বুদ্ধিতা। কারণ আমরা কখনো তাদেরকে অনুসরণ করিনা । আমরা ইসলামী বিধানকে অনুসরণ করি। সালাত, সাওম ,হজ্জ্ব এবং যাকাতের ন্যায় পর্দা একটি ফরজ বিধান । যা পালন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ। অথচ দেখা যাচ্ছে যারা এই সব কথা বলে তারা ব্রিটিশদেরকে অনুসরণ, অনুকরণ করে।

  স্কুল - কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা কে ইসলামি করণ করা সময়ের দাবি। সেটা তেমন কঠিন বিষয় না। স্কুল- কলেজের যে সব বিষয়ে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে আমি মনেকরি :

১. ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং পরিপূর্ণ করতে হবে, আংশিক হলে হবে না। যতটুকু জ্ঞানার্জন করলে একজন মুসলিম দ্বীনের উপর চলতে পারবে।

২.প্রাথমিক(ইলিমেন্টারি) আরবি ভাষা বাধ্যতামূলক করা।যাতে একজন মুসলিম শিক্ষার্থী আরবি ভাষা লিখতে,পড়তে ও বলতে পারে।

৩. পোষাক বা পর্দা : মেয়েদের পর্দা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আর তাদের পরিচিতি জন্য উপরে বিশেষ ( ইউনিফর্ম বা  অ্যাপ্রোন ) পোশাক থাকবে।

৪. ছেলেদের জন্য ঢিলেঢালা প্যান্ট যা টাকনু গিরার উপরে থাকতে হবে, এবং ফুল হাতার জামা থাকবে।

৫. লেখাধুলা-শারীরিক ব্যায়াম বা হালাল বিনোদনের ব্যবস্থা থাকতে হবে যা ইসলাম অনুমিত প্রদান করে।

৬.ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এদেশে যখন আমাদের পূর্বপুরুষরা ইসলাম প্রচার করেন।তখন তারা দেখেন যে এই হিন্দু সমাজে "বারো মাসে তেরো পূজা "চলছে।যদিও হিন্দুদের ধর্ম উৎসব বা সংস্কৃতি নির্ভর।আমাদেরটা সার্বক্ষণিক পালনীয়।

তখন কিছু মুসলিম ব্যক্তি এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবেলায় রচনা করেন রসূল (স.)এর জীবনী, মা ফাতেমার জীবনী,যুদ্ধ, মর্সিয়া,রসূল বিজয় কাব্য ,পুঁথি সাহিত্য, ইত্যাদি। তাদের সময় ফার্সি ও উর্দ ভাষা ছিলো প্রধান। তাই তাদের রচনায় ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। এখন আমাদের উচিত সেগুলো সংস্কার করা।অনেকে এগুলোকে ইবাদাত মনে করে।এটা ঠিক না। শরীয়াহ বিরোধী নয় এমন আঞ্চলিক প্রথা বৈধ রয়েছে। কিন্তু আমাদের সমস্যা হলো আমরা এই সংস্কৃতি পালন করাকে ইবাদত মনে করি এবং বিদআতের সংমিশ্রণ ঘটাই।আবার অনেকে পালন করাটাকে  বাধ্যতামূলক মনে করে।

"তাই আমাদের সংস্কৃতিতে ধর্মীয় উপাদানের উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে হবে।কারণ পৃথিবীর সকল সংস্কৃতিই ধর্ম কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে।

সংস্কৃতির ধর্মীয় উপাদানকে যেন বিধিবদ্ধ এবাদত মনে করা না হয়।

বিদআতের সর্বব্যাপিকরণ বন্ধ করা"।
(ড.যুবায়ের এহসান, আরবি বিভাগ ঢাবি)

এই পদ্ধতি মালয়েশিয়া সহ অনেক মুসলিম রাষ্ট্রে চালু রয়েছে। ইসলাম বিজ্ঞান বা দুনিয়াবি শিক্ষাকে অস্বীকার করেনা। একজন মুসলিমকে দুনিয়ার জীবনে কল্যাণের সাথে চলতে হলে বিজ্ঞান ও ব্যবসা শিক্ষা অর্জন করতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় তার যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেই।জেনারেল শিক্ষায় দ্বীন বিতাড়িত আর মাদরাসা শিক্ষা জেনারেল বিষয় বিতাড়িত!   শিক্ষাব্যবস্থা দ্বীমুখী হবেনা ; শিক্ষাব্যবস্থা  হবে একমুখী। দুঃখের বিষয় হলেও আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা দ্বীমুখী। একজন ছাত্র- ছাত্রীকে ইন্টার পর্যন্ত একই মানহাজে পড়ালেখা করবে। তারপরে যে যার ইচ্ছামতো নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করবে। যেমন কেউবা ডাক্তার কেউবা ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা আলেম ইত্যাদি। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী তারা তাদের ধর্মীয় নিয়ম- নীতির অনুসরণ করবে। এক্ষেত্রে কেউ কারো ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করবেনা।

আর শুধু মাত্র একটি বিষয় ইসলামি শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলেই হবেনা।প্রতিটি বিষয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ যাতে সৃষ্টি হয় এমন বিষয় পাঠ্যভুর্ক্ত করতে হবে। নৈতিকতা উপর বেশি জোড় প্রদান করতে হবে। আমাদের দেশে দুই ধরনের শিক্ষা ব্যাবস্থা চালু আছে। ১.মাদ্রাসা, মানে ধর্মীয় শিক্ষা বুঝায়। ২. স্কুল, মানে সাধারণ শিক্ষা বুঝায়। এখানে মাদ্রাসা শিক্ষার কথা বাদই দিলাম। স্কুলে বা কলেজে যারা পড়েন বা পড়ান (শিক্ষক) তারা বেশির ভাগই মুসলিম। স্কুলে পড়া শরীয়ত বাধা প্রদান করে না। যদি শরীয়তের বিধান অবজ্ঞা না করা হয়।

স্কুল, কলেজের শিক্ষাও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন আছে। কারণ আমরা এখনও  মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় সাধারণ বিষয় গুলোতে স্কুল বা কলেজের মতো সেরকম মানের কিছু দিতে সক্ষম হই নাই। কিন্তু পর্দার মত ফরজ বিধানকে অনেকেই আবার অস্বীকার করে, বাস্তব জীবনে ইসলামী বিধানকে পালন করেনা । দেখা যায় মুসলিম হিসেবে পরিচিতি শিক্ষক পর্দা পালন করলে বাঁধা প্রদান করে। পর্দা পালন না করতে বাধ্য করে। তাহলে এখন প্রশ্ন তারা কী মুসলিম না কাফের? তারা বলে পর্দার ভিতরে শয়তান থাকে। সেটা থাকতে পারে, প্রকৃত পক্ষে সেটা পর্দার দোষ নয় ব্যক্তির দোষ। কেউ যদি সেটাকে খারাপ কাজে ব্যবহার করে, তাহলে সেটা পর্দার দোষ নয় ।কিন্তু আমরা

দেখি অনেকেই বলে আমরা পর্দা করিনা, আমরা ভালো । অথচ আমরা দেখি তারা জাস্টফ্রেন্ড বলে বলে সম্মতির ভিত্তিতে সব কিছু করে যাচ্ছে।

যদি বিষয়টা এমন হতো স্কুলে বা কলেজে পড়ুক, সে যদি পর্দা করে, ইসলামের বিধি-বিধান গুলো পালন করে। তারপরে ভালো ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হয় । দেশের মানুষের সেবা করে ; তাহলে তো ভালোই হতো। শিক্ষকরা যদি পর্দা না করতে বাধ্য না করত, ইসলামের মৌলিক বিধি- বিধান পালনে উৎসাহ দিত তাহলে কি হতো তাদের?। যদিও সাধারণ শিক্ষা পদ্ধতিটা অমুসলিমদের। তাই বলে কি আমরা মুসলিমরাও তাদের মতো নিজেদের ধর্ম বাদ দিয়ে তাদের ধর্মের অনুসরণ করবো?। আমরা শুধুমাত্র তাদের শিক্ষা পদ্ধতির অনুসরণ করবো। অন্য সব ক্ষেত্রে নিজেদের সংস্কৃতি-সভ্যতার অনুসরণ করবো । অন্যান্য ধর্মের লোকেরা তাদের ধর্ম নিজেদের মতো পালন করবে। কাউকে অন্য ধর্ম পালনে বাধ্য করা হবেনা। তবে সর্বশেষ কথা হলো একমুখী শিক্ষাব্যবস্থাই দেশে চালু থাকা প্রয়োজন। তবে যদি সেটা সম্ভাব না হয়, তাহলে আমি মনে করি এভাবে স্কুল - কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা কে ইসলামি করণ সম্ভাব।আর সেটা সময়ের দাবী।

ইসলামী জীবন

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০
স্কুল-কলেজে ইসলাম শিক্ষার ধারাক্রম
মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ

স্কুল-কলেজে ইসলাম শিক্ষার ধারাক্রম

ধর্মভীরু বাঙালি মুসলমানের পবিত্র আবাসস্থল বাংলাদেশ। এখন মাদরাসা-মক্তবকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার স্থলে দেশের বেশির ভাগ মানুষের সন্তানকে স্কুল-কলেজে পড়েই ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করতে হয়। এ দেশে মুসলমানের সন্তানরা স্কুল-কলেজে ইসলাম শিক্ষা পড়ার সুযোগ পেয়ে আসছে ব্রিটিশ আমল থেকেই। বর্তমান বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মকে সুস্থ-স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক আবহে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

১৯১৪ সালে শামসুল উলামা অধ্যক্ষ আবু নসর ওয়াহিদের নেতৃত্বাধীন মোহামেডান এডুকেশন অ্যাডভাইজারি কমিটি ওল্ড স্কিম ও নিউ স্কিম দুই ধরনের মাদরাসা শিক্ষা পদ্ধতির ধারণা দেন। এই নিউ স্কিম পদ্ধতিতে জুনিয়র ও সিনিয়র দুই ধারার শিক্ষাব্যবস্থাকে কেন্দ্র করেই মুসলমানদের জন্য বিশেষায়িত স্কুল-কলেজ সৃষ্টি হয়। ওই সব স্কুল-কলেজে আরবি ও ইসলাম শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক ছিল। তখন আরবি ও ইসলাম শিক্ষাকে একত্রে বলা হতো ‘দ্বিনিয়াত’, পরে বলা হতো ‘ইসলামিয়াত’।

[লেখক :
মো.আলী এরশাদ হোসেন আজাদ

সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর।কালের কণ্ঠ]

তাই আসুন দেশ তো এখন স্বাধীন বা ব্রিটিশ তো নেই,  যেসকল প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নামাজ পড়েন এবং ধর্মীয় শিক্ষক রয়েছেন।হিন্দুধর্ম ছাড়া মেয়েদের জন্য হিজাবের ব্যবস্থা করুন।এপ্রোন থাকবে সাথে।

লেখক
আব্দুর রহিম
আরবি বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ