সিনিয়র শিক্ষক
০৪ অক্টোবর, ২০২৪ ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
বদলী এখন সময়ের দাবি মেনে নাও মানতে হবে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করার জন্য ২০০৫ সালে(NTRCA) এনটিআরসি গঠন করা হয়।প্রথম দিকে এনটিআরসি শুধু সনদ দিতো। এইভাবে চলতে থাকে কিছু দিন।এরপর দেখা গেল যে উদ্দেশ্য এনটিআরসি গঠন করা হয়েছে সে উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে। ঘুষ, দুর্নীতি, সনদ জালিয়াতি ইত্যাদি শুরু হয় যায়। এরপর সচ্চ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করার লক্ষ্যে গণবিজ্ঞপ্তি চালু হয়।গণবিজ্ঞপ্তি চালু হওয়ার আগে প্রার্থী তার নিজ এলাকায় বা উপজেলায় বা তার পছন্দের প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিতো।কিন্তু গণবিজ্ঞপ্তি চালু হলে একজন শিক্ষক তার নিজ এলাকা, উপজেলা ও জেলা রেখে ৩০০ বা ৪০০ কিলোমিটার দূরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সুপারিশ পাচ্ছেন। এর কারণ হতে পারে নিজ এলাকায় শূন্য পদ না থাকা বা মেধা তালিকায় পিছিয়ে থাকা বা প্রতিষ্ঠান পছন্দ না হওয়া ইত্যাদি।এরপরও কিছু শিক্ষক পরবর্তী গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করে নিজ এলাকায় আসতে পারতেন। আবার ৭নং ধারা মানে ইনডেক্সেধারীদের ২য় বার আবেদনের সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়।তখন সেই সুযোগটুকুও শিক্ষকরা হারায়!
বদলি না থাকায় যে সমস্যাগুলো হচ্ছে :
১.শিক্ষকরা মানসিক ভাবে সন্তুষ্ট নয়।ফলে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে।
২.মেধাবীরা এই পেশায় নিযুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করে না।
৩.পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি।
৪.স্বামী - স্ত্রী একে অপরের অধিকার থেকে বঞ্চিত।
৫.সন্তান তার বাবা-মার অধিকার আদায় করতে পারছেনা।
৬.পারিবারিক কলহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৭.নিজ সন্তান বাবা -মায়ের আদর যত্ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
৮.পরকিয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৯.ডিভোর্স বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১০.শূন্য পদ ফাঁকা থাকছে।
আগে যখন কমিটি নিয়োগ দিতো তখন একজন শিক্ষক জেনে বুঝেই নিজ এলাকায় বা দূরের প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিতো।কিন্তু এখন যেহেতু নিজ ইচ্ছায় না, নিয়োগ সুপারিশের ভিত্তিতে হয়। তখন আসলে একজন শিক্ষকের কিছু করার থাকেনা।পরিবার, সমাজ, নিজের ও বেকারত্বের অভিশাপ থেকে বাঁচতে তাকে পরিবার রেখে নিজ এলাকা থেকে দূরের প্রতিষ্ঠানে যোগদান করা লাগে।এখন প্রশ্ন হলো শিক্ষক নিজ এলাকায় চাকরি করলে তার বাড়ি ভাড়া লাগেনা।কিন্তু সরকার যে বাড়ি ভাড়া প্রদান করেন তাতে কী বাড়ি পাওয়া যায়? পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে ১২৫০০৳ টাকায় দূরে পরিবার নিয়ে কীভাবে একজন শিক্ষক সংসার চালাবেন।নিজ এলাকায় থাকলে হয়তো শিক্ষকতার পাশাপাশি অন্য কিছু করা যায়।আগে তো বলাই হতো শিক্ষকতা করবা এর সাথে সাথে কৃষি কাজ, হাল চাষ, মাছ চাষ করবা বাছ।শিক্ষকতার পাশাপাশি ইমামতী, লজিং থাকবা, সেখানেই বিয়ে করবা। হয়তো আপনি বলবেন টিউশন করাতে। কিন্তু একজন শিক্ষক কয়টা টিউশন পান।আমাদের কলেজ -বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশনও তো বেশি দরকার। সব যদি শিক্ষকরা নিয়ে নেন তাহলে তাদের জন্য কী।আর বর্তমান সময়ে শিক্ষকতা পেশায় নৈতিকভাবে সৎ থাকতে হলে টিউশন থেকে দূরে থাকা ভালো।
এবার আসেন পরিবারের মা-বাবা,সন্তান, স্ত্রী। আপনি দূরে চাকরি করেন।মা-বাবা অসুস্থ, আপনি ছুটি পান না। পেলেও আসতে যেতে শেষ। তাদের দেখা শুনা কীভাবে হবে? কে করবে? টাকা দিয়ে অন্য কাউকে দিয়ে করাবেন? টাকাওতো নেই। আর নিজের বাবা- মার সেবা অন্যদেরকে দিয়ে হয়?
ছেলে -সন্তানদের লেখা-পড়া ইত্যাদির খরচ মিটাতে না পেরে তাদেরকে গ্রামেই রাখতে হচ্ছে। বাবার - মায়ের আদর যত্ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এবার স্ত্রীর অধিকার সেটাও কী অনলাইনে হবে?স্বামী থাকে চট্টগ্রাম স্ত্রী রংপুর! তাহলেতো পরকিয়া বেড়ে যাবে! ব্যাচেলয় থাকার চাইলে বিবাহিত ব্যাচেলর থাকা আরো বেশি কষ্ট দায়ক।
সরকার বদলি চালু করেনা, বেতন বৃদ্ধি করেনা, সুযোগ -সুবিধা করেনা,বাড়ি ভাড়া , চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি করে না,শতভাগ উৎসব ভাতা নেই। তাহলে একজন মেধাবী স্টুডেন্ট কেনো? শিক্ষকতার আসবে?
যেই সন্তানের বাবা একজন শিক্ষক, সেই সন্তান তো তার নিজ বাবার দুঃখ ও কষ্ট, অভাব-অনটন দেখতে নিজ চোখে সে কী কোনো দিন এই পেশায় নিযুক্ত হতে চাইবে? কখনো না সে হবে ব্যাংকার।
বর্তমানে যেহেতু এনটিআরসি এর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। তাই অনেকেই তার নিজ এলাকার বাহিরে জব করেন।তার বেতন বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা যা দেয় তাতে দিন চলেনা।
বদলি সুবিধা না থাকায় তারা নিজ এলাকায় আসতেও পারেনা।আবার অনেক এলাকা নদী বেষ্টিত হওয়ার কারণে সেখানে কেউ যেতে চায়না।ফলে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট থেকে যায়।যদি সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করেন তাহলে কাউকে যদি বলা হয় যে তোমাকে আফ্রিকার জঙ্গলে যেতে হবে।তখন সবাই রাজি হবে।
বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা: বর্তমানে মানসম্মত একটা বাসা সাড়ে চার -তিন হাজারের কমে পাওয়া যায়না।এক হাজার টাকার কম একজন ডাক্তারের ভিজিট নেই। সরকার এক হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া পাঁচশত টাকা চিকিৎসা ভাতা দেয় তাতে কোন ডাক্তারের কে দেখানো যায়।
আমি বলি যদি এরকমই চলে তাহলে এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের জন্য কোয়াটারে ব্যবস্থা করুন।মাসে এক হাজার টাকা করে সরকারকে ভাড়া দিবো।আর সরকারি হাসপাতালে ডক্টর দেখানোর জন্য কার্ড করে দিক।
মানসম্মত বেতন-ভাতা: একজন শিক্ষকে যদি ক্লাসে গিয়ে ভাবতে হয় তার ঘরে চাল নেই। সন্তান অসুস্থ পকেটে টাকা নেই।ঘরে বাজার নেই,মাস শেষ বাসা ভাড়া দিতে হবে। এই যদি হয় শিক্ষকের অবস্থা তাহলে সে কী পড়াবে? কী পাঠ পরিকল্পনা করবে?
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো একটা ইফেক্টিব ক্লাস নিতে হলে সবার আগে একটা টেনশন মুক্ত মাথা প্রয়োজন।আমার রাষ্ট্র কী আমাকে একটা টেনশন মুক্ত মাথা দিতে পেরেছে?
সরকার বেশি বেতন দেয় একজন ব্যাংকারকে।যার ফলে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশা বাদদিয়ে ব্যাংকে চলে যায়। একজন শিক্ষকে বেশি বেতনদিলে সে টাকা সে নিজ দেশেই খরচ করবে।কখনো বাহিরে টাকা পাচার করবেনা
তাই শূন্য পদে সার্বজনীন বদলি চালু করুন।বদলি চালু হলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী অন্য পেশা রেখে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত হবেন।
পরিচিত অনেকেই বদলি চালু না থাকায় তারা যোগদান করে নাই।
তাই অতিদ্রুত সার্বজনীন বদলি চালু করে শিক্ষকদের অধিকার পূর্ণ করুন।
৪
৪ মন্তব্য