Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ অক্টোবর, ২০২৪ ০৪:৩২ অপরাহ্ণ

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বক্তব্য

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বক্তব্য

 

আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৪। তাড়াশ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে আজকের এই মহতী অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীরা, শিক্ষক মহোদয়গণ ও সুধীমন্ডলি সকলের প্রতি রইল সালাম, আসসালামু আলাইকুম অয়া রহমতুল্লাহ এবং অন্যান্য জাতির প্রতি রইল শুভেচ্ছা। আমার বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি, আমার সহযোদ্ধা সম্মানিত শিক্ষকদের প্রতি। আজকের এই অনুষ্ঠানে মহান শিক্ষকদের সম্পর্কে কিছু বলার সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিকভাবে ইউনেস্কোর উদ্যোগে ৫ অক্টোবর, ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালিত হয়।

§  দিবসটি শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা, এই দিনে বিশ্বজুড়ে শিক্ষকদের আলাদাভাবে স্মরণ করা হয়, শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং কর্মক্ষেত্রে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা দেওয়া হয়।

§  অনেক দেশে দিবসটি ভিন্ন ভিন্ন তারিখে পালিত হয়।

§  বিশ্বে যেসব শিক্ষক স্মরণীয়-বরণীয় হয়েছেন, তাঁরা ধৈর্য আর ত্যাগের অসাধারণ দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং বিশ্বখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিস-এর কথা বলা যায় :

1.      পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে গিয়ে মহানবি (সা.) কত যে লাঞ্ছনা আর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তা তো সবার জানা। কিন্তু পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত হুকুম-আহকামগুলো মানুষকে শিক্ষা দিতে কখনও তিনি পিছপা হননি। জাগতিক কোনো কিছুর জন্য নয়; বরং মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তিনি আজীবন শিক্ষাদানের কাজটি করে গেছেন; যার ফলে, বিশ্ব আজ পেয়েছে শান্তির এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান ইসলাম, যা ইহকাল আর পরকালের শান্তি ও কামিয়াবি লাভের উপায়।

2.     বিশ্বখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিস মূলত ছিলেন একজন শিক্ষক। আর তার এই শিক্ষাদানের পেছনে জাগতিক কোনো চাওয়া-পাওয়ার বিষয় না-থাকা সত্ত্বেও এথেন্সের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তাতে সক্রেটিসের কোনো ক্ষতি হয়নি; বরং সারা বিশ্বে আজ তিনি স্মরণীয়-বরণীয় এক দার্শনিক ও শিক্ষকের প্রতীক হয়ে বেঁচে আছেন কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের মনিকোঠায়।

3.     আমাদের সমাজেও যেসব সম্মানিত শিক্ষক নিঃস্বার্থভাবে একটু গতানুগতিকতার উর্ধ্বে ওঠে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে পারেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে স্মরণীয় ও বরণীয় হন। শুধু যে শিক্ষার্থীরা তাঁদের সম্মান করে এমন নয়, বরং সমাজেও তাঁরা বরণীয় হয়ে থাকেন।

Ø এবছর সরকার এই দিবসটি সরকারিভাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে প্রসংশনীয়। শিক্ষকগণ এতে সম্মানিত বোধ করছেন, যা তাঁদের জন্য বড় ধরনের একটা প্রণোদনা হিসেবে কাজ করছে।

Ø এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবস এর প্রতিপাদ্য হলো, Empowring educators for a sustainable future টেকসই ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষকের ক্ষমতায়ন’

§  আমরা জানি, শিক্ষকদের অনেক বঞ্চনা আছে, আছে পাওয়া না-পাওয়ার পুঞ্জীভূত বেদনা। তবুশিক্ষকগণ যা পান, অন্য কোনো পেশাজীবীরা তা পান না। একজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে যে আন্তরিক সম্মান ও ভালোবাসা পান, তার সঙ্গে পৃথিবীর অন্য কিছুর তুলনা হতে পারে না। আর তাই আমরা এই পেশাটাকে অন্য কোনো পেশার চেয়ে কোনোমতেই ছোট মনে করি না। আজ মনের গভীর থেকে বিশ্বের শিক্ষকগণকে জানাই অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক আপনাদের জীবন ও কর্ম, আপনাদের আলোকে আলোকিত হোক গোটা জাতি।

§  বাংলাদেশের শিক্ষকরা নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও জ্ঞান-বিতরণের মহান কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখেছে। কিন্তু যোগ্য ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাবও রয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত এই সমস্যা বিদ্যমান।

§  শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছে বেতন-বৈষম্য। যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষকদের বেতনকাঠামো নির্ধারিত হওয়া উচিত, কিন্তু আমাদের দেশে শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী যে বেতনকাঠামো নির্ধারিত হয়, তা খুবই দুঃখজনক।

Ø পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবে শিক্ষকদের দক্ষতা ও গুণগত মানের উন্নয়ন হচ্ছে না। প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ বর্তমানে শিক্ষকদের উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। শুধু তাই নয়, শিক্ষকদের সন্তোষজনক বেতনপ্রাপ্তিও পাঠদানে মনোযোগী হতে আগ্রহী করবে।

Ø উচ্চশিক্ষায় পাঠদানরত অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকগণ এখনও ননএমপিও। অথচ, এরাই উচ্চ শিক্ষাদানে ৭০ ভাগ অবদান রেখে চলেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেওয়া ৫/১০ হাজার টাকায় তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। তাঁদের এমপিওভুক্তকরণ অতীব জরুরী।

Ø অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও ননএমপিও। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ অতি কষ্টে জীবনযাপন করছেন।    এতে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অঙ্গিকার ব্যহত হচ্ছে। তাঁদের এমপিওভুক্তিকরণ এখন সময়ের দাবি।

Ø আজকের ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’-এ সকল এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা জাতীয়করণ করার জন্য বৈষম্য বিরোধী ও শিক্ষাবান্ধব সরকারের নিকট তাড়াশ উপজেলার শিক্ষগণের পক্ষ থেকে আমি জোর দাবি জানাচ্ছি।

Ø জাতীয়করণের পূর্বপর্যন্ত ৪৫% বাড়ি ভাড়া, শতভাগ উৎসব ভাতা ও ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এখন শিক্ষকদের প্রাণের দাবি।

শিক্ষকের জীবন-মানের উন্নয়ন হোক, তৈরি হোক যোগ্য শিক্ষক, আলোকিত হোক সমাজের প্রতি মানুষ, বিশ্ব শিক্ষক দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। উপস্থিত সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আসসালামু আলাইকুম অয়া রহমাতুল্লাহি অয়া বরকাতুহু।

মন্তব্য করুন