সিনিয়র শিক্ষক
০৪ অক্টোবর, ২০২৪ ১১:২৫ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
যদি ও শিক্ষকতা একটি সম্মানজনক পেশা, এই পেশায় যুক্ত হয় রাষ্ট্রের প্রথম সারির উচ্চ শিক্ষিত নাগরিকগণ। জ্ঞানের আলো বিতরনের কাজে যারা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারাই কিন্তু রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বৈষ্যমের শিকার। রাষ্টের একটু সচেতনতা ও সু-বিবেচনা এবং আন্তরিকতাই পারেই এই বৈষ্যমের অবসান ঘটাতে। আমি মনেকরি এই বৈষ্যমের অবসানের সাথেই সম্ভব মান সম্মত শিক্ষা বাস্তবায়ন। শিক্ষক যদি মালী হয় তাহলে শিক্ষার্থী হবেই সেই বাগানের সবুজ চারা গাছ। মালীর সব উপাদান আছে, গাছের যত্নের ঘাটতি থাকার কথা না। বাংলাদেশের বেসরকারী শিক্ষক সমাজ এই মারাত্মক বৈষ্যমের শিকার, ১০০০ টাকা ঘর ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, আর বেতন ভাতার সরকারী স্কেল যা আছে তা নিয়ে সকাল ৯.০০ টা থেকে বিকাল ৫.০০ টা পর্যন্ত খেটে যাচ্ছে । তাছাড়া ও BCS স্টাইলে NTRCA থেকে সুপারিশসপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ ও নিয়োগ পান ১২৫০০ টাকা স্কেলে সাথে সেই ১০০০টাকা ঘরভাড়া আর ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা। আমরা চাই এই বৃহৎ বৈষ্যমের অবসান এই বিশ্ব শিক্ষক দিবসের সম্মানে। সমাজের সকল পেশার নাগরিকদের যদি আর্থিক স্বচ্ছলতার নিশ্চয়তা থাকে তাহলে রাষ্ট্রের প্রথম শ্রেণির শিক্ষিত নাগরিক বেসরকারী শিক্ষকদের কেন রাষ্ট্র রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত করতে পারবে না। শিক্ষকদের আর্থিক স্বচ্ছলতার সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে কারন রাষ্টের সকল নাগরিক এই শিক্ষকের হাত ধরেই সমাজে বা রাষ্ট্রে নিজের পরিচয় ও সফলতার গল্প তৈরী করে। রাষ্ট্র আন্তরিক হলেই এই বৈষ্যমের অবসান কোন ব্যাপারই না। আজ ৫ই অক্টোবর -২০২৪ ইং বিশ্ব শিক্ষক দিবস। সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও এই দিবস যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করা হচ্ছে রাষ্ট্রিয়ভাবে শিক্ষার সাথে সম্পর্কিত সকল প্রতিষ্ঠানে। মান সম্মত শিক্ষার জন্য ঐক্যের বিকল্প নাই।তাই এই দিবসে বেসরকারী শিক্ষক সমাজের মূল দাবী ‘ চাকুরী জাতীয়করন’ যেখানে থাকবে না কোন বৈষম্য।
এবার জানা যাক ‘ বিশ্ব শিক্ষক দিবস ‘ এর এই অগ্রযাত্রার অজানা তথ্য কবে, কোথা থেকে কিভাবে এলো সারা বিশ্বে।
৫ই অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসঃ প্রতিবছর ৫ই অক্টোবর এই বিশ্ব শিক্ষক দিবস বিশ্বের অনেকগুলো দেশে একসাথে পালন করা হলে ও ভারত বর্ষে এই দিবস পালনের ক্ষেত্রে একটু ভিন্নতা আছে । ৫ই সেপ্টেম্বর ভারত বর্ষে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয় প্রতি বছর, কারন হিসাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এক মাস আগে এই দিবস পালন করার অন্যতম কারন হল ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ এর জন্মদিন।
জানা যাক ভারত বর্ষের ৫ই সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসের অজানা ইতিহাস ঃ১৯৬২ সালে ড.সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। জানা যায়,প্রাক্তন এ রাষ্ট্রপতি জন্মদিন পালন করতে চেয়েছিলেন তাঁর বন্ধু-বান্ধব এবং কয়েকজন ছাত্র। জন্মদিনের কথা শুনে তিনি বলেন,আলাদা ভাবে তাঁর জন্মদিন পালন না করে দেশের সমস্ত শিক্ষকদের জন্য যদি পালন করা হয়- তাহলে তিনি গর্ববোধ করবেন। রাধাকৃষ্ণণ-এর এ কথাকে সম্মান দেয়ার জন্যই তাই ১৯৬২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি বছর পালন করা হয় শিক্ষক দিবস।
এবার জানাযাক কিভাবে এল ৫ই অক্টোবর সার বিশ্বব্যাপী বিশ্ব শিক্ষক দিবস ঃ ভারতবর্ষে ৫ই সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালন করা হলেও জার্মানি, ইংল্যান্ড, রাশিয়া, রোমানিয়া, সার্বিয়ার মতো বেশ কয়েকটি দেশে শিক্ষক দিবস পালন করা হয় ৫ই অক্টোবর। ২৮ শে ফেব্রুয়ারি লিবিয়া,মরক্কো আলজেরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমির শাহীর মতো দেশগুলিতে শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। এছাড়া বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে শিক্ষক দিবস পালন করা হয় আলাদা আলাদা দিনে।
১৯৪৪ সালে আমেরিকার মৈটে ওয়ারেটে উডব্রিজ সর্বপ্রথম শিক্ষক দিবসের পক্ষে কথা বলেছিলেন। ১৯৫৩ সালে এই প্রসঙ্গে কথা বলেন মার্কিং কংগ্রেস। ১৯৮০ সাল থেকে ৭ মার্চ সারা বিশ্বব্যাপী শিক্ষক দিবস পালন করা শুরু হয়। পরবর্তীকালে মে মাসের প্রথম মঙ্গলবার শিক্ষক দিবস পালন করা শুরু হয়। সিঙ্গাপুরে সেপ্টেম্বরের প্রথম শুক্রবার পালন হয় শিক্ষক দিবস। পরবর্তীকাল ১৯৯৪ সাল থেকে ৫ অক্টোবর সারা বিশ্বব্যাপী শিক্ষক দিবস পালন করা শুরু করে ইউনেস্কো।
১৯৪৬ সালে ইউনেস্কো শিক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতা,অধিকার এবং আর্থ-সামাজিক ও নৈতিক ভিত্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ব শিক্ষক সনদ নামক একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে। বিশ শিক্ষক দিবস পালনের যৌক্তিকতা সম্পর্কে বলা হয়েছে-১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ইউনেস্কোর উদ্যোগে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্ত : সরকার সম্মেলনে শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সংক্রান্ত বিশেষ সুপারিশ মালা গ্রহণ করা হয়।
১৯৯৩ সালে বিশ্বের ১৬৭ টি দেশের ২১০ টি জাতীয় সংগঠনের ৩ কোটি ২০ লাখ সদস্যদের প্রতিনিধিত্বকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষক সংগঠন“ এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল” গঠিত হয় এ আন্তর্জাতিক সংগঠন । জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশগুলো কর্তৃক প্রণীত দলিলটি যথাযথ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করার অর্থবহ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ক্রমাগত অনুরোধ ও আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ইউনেস্কোর মহা-পরিচালক ড.ফ্রেডারিক এম মেয়রের যুগান্তকারী ঘোষণার মাধ্যমে ৫ অক্টোবর “ বিশ্ব শিক্ষক দিবস” পালনের শুভ সূচনা করা হয়।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্সমূহ ওয়েবসাইড থেকে সংগৃহীত করা হয়েছে।
সফল হোউক বিশ্ব শিক্ষক দিবস এই প্রত্যাশায়।
লেখক
মমতাজ রোখাসানা আখতার
সিনিয়র সহকারী শিক্ষক
মাদাম বিবিরহাট শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয়,
ভাটিয়ারী, সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম
মোবাইল ঃ ০১৬৭৬৬৮৭৭৩১
৩
৩ মন্তব্য