প্রধান শিক্ষক
০৫ অক্টোবর, ২০২৪ ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক
প্রাসঙ্গিক ভাবনা : “বিশ্ব শিক্ষক দিবস”
৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করছি। কীভাবে আমাদের মাঝে শিক্ষক দিবস আসল সে বিষয়টি সংক্ষেপে আলোকপাত করার চেষ্টা করছি ?
১৯৪৬ সালে ইউনেস্কো শিক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতা,অধিকার এবং আর্থ-সামাজিক ও নৈতিক ভিত্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ব শিক্ষক সনদ নামক একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে। মূলত সে থেকেই শিক্ষক দিবসের সুত্রপাত হয়।
সে ধারাবহিকতায় ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ইউনেস্কোর উদ্যোগে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্ত : সরকার সম্মেলনে বিশ শিক্ষক দিবস পালনের যৌতিকতা তুলে ধরে শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সংক্রান্ত বিশেষ সুপারিশ মালা গ্রহণ করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে বিশ্বের ১৬৭ টি দেশের ২১০ টি জাতীয় সংগঠনের ৩ কোটি ২০ লাখ সদস্যদের প্রতিনিধিত্বকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষক সংগঠন “ Education International” নামে আন্তর্জাতিক এ সংগঠন গঠিত হয় । জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো এ দলিলটির যথাযথ ব্যাস্তবায়নের লক্ষ্যে সঠিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য নিয়মিত সুপারিশমালা পেশ করতে থাকেন।
ক্রমাগত আহবানের প্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ইউনেস্কোর মহা-পরিচালক ড.ফ্রেডারিক এম মেয়রের যুগান্তকারী ঘোষণার মাধ্যমে ৫ অক্টোবর “ বিশ্ব শিক্ষক দিবস” পালনের শুভ সূচনা করা হয়।
* এভাবেই শুরু হয় “বিশ্ব শিক্ষক দিবসের শুভ সুচনা”
ইউনেস্কো সদর দফতরে আয়োজিত বৈশ্বিক সংগঠনটি নীতিগতভাবে শিক্ষকদের কন্ঠস্বর, দৃষ্টিভঙ্গিকে একীভূত করার মার্ধমে তাঁদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রসঙ্গক্রমে চলে আসে শিক্ষক বলতে কী বুঝায়?
সধারণ অর্থে শিক্ষক হলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি অপরজনের মেধা, চাহিদা, দৃষ্টিভঙ্গিকে হৃদয়ঙ্গম করে তাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
আক্ষরিক অর্থে বলতে হয় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের লালন পালন এবং শিক্ষাগত অগ্রগতি চালনা করে ভবিষ্যত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাদের রুচি, চাহিদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর জন্য প্রক্রিয়াগত পদ্ধতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
২০২৪ এর প্রতিপাদ্য বিষয় হলো “ শিক্ষকের কন্ঠস্বর , শিক্ষায় নতুন সামাজিক অঙ্গীকার”
প্রতিপাদ্য বিষয় যাই হোক না কেন শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্যসমুহ নিরসন না করে বছরে একদিন শিক্ষক দিবস পালন করার মাধ্যমে শিক্ষকরা সম্মানিত হয় না। শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন না করে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চত করা যায় না। দূ:খেরি বিষয় যে এখনও বিভিন্ন দাবী আদায়ের জন্য শিক্ষকরা রাজপথে কিংবা এ দফতর , ও দফতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
“ শিক্ষকের কন্ঠস্বর , শিক্ষায় নতুন সামাজিক অঙ্গীকার” এ স্লোগানের যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান অসঙ্গতি, বৈষম্যসমুহ দূরীকরণের আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবী।
পরিশেষে বলব সকল শিক্ষকের সুরক্ষা নিশ্চিত হউক, “ শিক্ষকের মর্যাদা জয় হউক” । খোদা হাফেজ
১৩
১৯ মন্তব্য