সহকারী শিক্ষক
০৫ অক্টোবর, ২০২৪ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আজ ৫অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এ দিনটিতে পৃথিবীর সকল শিক্ষকের প্রতি রইল বুকভরা শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা।
জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কোর সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশে, শিক্ষকদের অবদান স্মরণ করার জন্য প্রতি বছর ৫ অক্টোবর এই দিবসটি উদ্যাপন করা হয়ে থাকে। ১৯৯৫ সাল থেকে পৃথিবীজুড়ে এই দিবসটি উদ্যাপিত হলেও আমাদের দেশে এই দিবসটি উদ্যাপন শুরু হয় ২০০৩ সালে। বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজের যথাযোগ্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে, ২০০৩ সালের ১৯ জানুয়ারি তৎকালীন সরকার বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর “বিশ্ব শিক্ষক দিবস” পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই থেকে আজ অবধি আমাদের দেশে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
আমরা সবাই জানি, শিক্ষার প্রথম স্তর হলো প্রাথমিক শিক্ষা। ২০০৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২২ বছর কেটে গেলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদা কতটুকু প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, এখন তা পরিমাপ করা আবশ্যক। বহির্বিশ্বের সাথে আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা তুলনা করলে উক্ত পরিমাপ নির্ণয় করা সম্ভব।
বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে তাদের সর্বোচ্চ মেধাবীদের প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, রাষ্ট্রের অন্যান্য পেশাজীবীদের চেয়ে সর্বাধিক বেতন দেওয়া হয়, শিক্ষকদের ভিআইপি এবং ১ম শ্রেণির মর্যাদা হয়, আদালতে কেবল শিক্ষকদেরই চেয়ারে বসার অধিকার দেওয়া হয়। অন্যদিকে আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে স্নাতক পাশ যোগ্যতার মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। যাদের মাসিক বেতন দেওয়া হয় সর্বসাকুল্যে ১৭৬৫০ টাকা এবং মর্যাদা হিসেবে দেওয়া হয় ৩য় শ্রেণির কর্মচারী নামক সম্মাননা। যা বিশ্বের একমাত্র বিরল উদাহরণ এবং সম্মাননা।
যেই দেশে শিক্ষকদের ৩য় শ্রেনির কর্মচারীর মর্যাদায় রাখা হয়। সেই দেশে ঘটা করে শিক্ষকদের সম্মাননায় শিক্ষক দিবস উদযাপন করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? তাই রাষ্ট্রের উচিত আগামী শিক্ষক দিবসের পূর্বে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে, শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদায় দিয়ে একটি শিক্ষা বিপ্লব ঘটানো।
১৪
২১ মন্তব্য