সহকারী শিক্ষক
০৫ অক্টোবর, ২০২৪ ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
চেরি ফল খাওয়ার উপকারিতা
চেরি ফলে প্রচুর এন্টি-অক্সিডেন্ট (Antioxidants) রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী ভূমিকা পালন করে। এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস প্রদাহ নিরাময়ে সাহায্য করে, কোষের অকাল মৃত্যু ঠেকায় এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। যেমনঃ ডায়াবেটিস, আলজেইমার্স ডিজিজ, ক্যান্সার, আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি।
হার্টের জন্য উপকারী
হার্টের রোগের প্রধান কারণ হলো কোলেস্টেরল। রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে হার্টের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক যা অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ।
চেরি ফলের এন্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলী ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ চেরি ফল খাওয়ার অভ্যাস হার্টের রোগের ঝুঁকি কমায়। এছাড়াও চেরি ফলে পটাশিয়াম রয়েছে যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
চেরি ফলের এন্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলী আর্থ্রাইটিস বা বাত জনিত ব্যথা ও প্রদাহ নিরাময়ের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রদাহ নিরাময়ে চেরি ফল অনেকটা ব্যথা নাশক ওষুধের (যেমনঃ আইবুপ্রোফেন) মতোই কাজ করে।
এছাড়াও ব্যায়াম বা কঠোর পরিশ্রমের পর চেরি ফল বা চেরির জুস খাওয়ার ফলে সহজেই ক্লান্তি দূর হয়, পেশির ব্যথা দূর হয়ে যায় এবং পেশির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
ভালো ঘুমের পক্ষে সহায়ক
সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ভালো ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। গবেষণায় দেখা গেছে যে, চেরি ফলে বিদ্যমান এন্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলী ভালো ঘুমের পক্ষে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। (Kubala, 2019)
রাতে ঘুমানোর আগে চেরি ফল বা চেরির জুস খাওয়া হলে ঘুমের সাথে সম্পর্কিত হরমোন (মেলাটোনিন) ও রাসায়নিক উপাদান (সেরোটনিন ও ট্রিপটোফ্যান) নিঃসরণ হয়। (Cleveland Clinic, 2023)
ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য উপকারী
চেরি ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুবই কম। অর্থাৎ চেরি ফল খাওয়ার ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় না। উপরন্তু চেরি ফল রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য চেরি ফল একটি দারুন স্ন্যাকস হতে পারে।
পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপকারী
চেরি হলো ফাইবার সমৃদ্ধ একটি ফল যা পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপকারী ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ চেরি ফল খাওয়ার অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করে, হজম শক্তি ভালো রাখে এবং কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এছড়াও নিয়মিত চেরি ফল খাওয়ার অভ্যাস (চেরি ফলে থাকা এন্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলীর জন্য) লিভারের কার্যক্ষমতা ভালো রাখতে সাহায্য করে।
ত্বক ও চুল ভালো রাখে
ত্বক ও চুল ভালো রাখার জন্য নারী ও পুরুষ উভয়েরই চেষ্টার কোনো কমতি থাকে না। কারণ মানুষের সৌন্দর্যের বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে ত্বক ও চুলের অবদান। ত্বক ও চুল ভালো রাখতে চেরি ফল খাওয়া উপকারী হতে পারে।
চেরি ফল খাওয়ার ফলে ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়ে না (অর্থাৎ ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে যায়), ত্বকের রুক্ষতা দূর হয়, ত্বকের উজ্জ্বলতা ও লাবণ্যতা বেড়ে যায়, চুল পড়া রোধ হয় ইত্যাদি।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ইমিউন সিস্টেম বা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার গুরুত্ব অপরিসীম। চেরি ফলে বিদ্যমান ভিটামিন ও এন্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে সহজেই ইনফেকশন ও রোগাক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
চেরি ফল বনাম করমচা
করমচা (টক স্বাদযুক্ত ফল যার বৈজ্ঞানিক নাম Carissa carandas) ও চেরি সম্পূর্ণ ভিন্ন জাতের দুটি ফল। তবে করমচা ও চেরি ফলের পুষ্টিগুণ প্রায় একই রকম। চেরির মতো করমচা কম ক্যালোরিযুক্ত ফল এবং এতে প্রচুর এন্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী ভূমিকা পালন করে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
চেরি ফল খাওয়ার তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ক্ষতিকর দিক নেই বললেই চলে। তবে চেরি ফল খুব বেশি পরিমাণে খাওয়া যাবে না। কারণ অতিরিক্ত মাত্রায় (দিনে ৪৫ টির বেশি) চেরি ফল খেলে পেট ব্যথা বা ডায়রিয়া হতে পারে।
চেরি ফল বীজ সহ খাওয়া হলেও কোনো বিষক্রিয়া বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যেমনটি আপেলের বীজের ক্ষেত্রে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে, আপেলের বীজ খেলে বিষক্রিয়া হয়ে মানুষ মারা যেতে পারে। প্রকৃতপক্ষে আপেলের বীজ বা চেরি ফল বীজ সহ খাওয়া হলে বিষক্রিয়া ঘটে না এবং মৃত্যু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
আপেল ও চেরি ফলের বীজে অ্যামিগড্যালেন থাকে যা একটি ক্ষতিকর (যদি বেশি মাত্রায় গ্রহণ করা হয়) উপাদান। তবে আপেলের বীজ ও চেরি ফলের বীজে এতোই সামান্য পরিমাণ অ্যামিগড্যালেন থাকে যা মানুষের শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি বা কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে না। তাই অহেতুক ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
চেরি ফল খুব পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারিতা বয়ে আনতে পারে। বিদেশি ফল হওয়ায় প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা সম্ভব হয় না। তবে মাঝেমধ্যে চেরি ফল কিনে খাওয়া উচিত।
১৪
২৩ মন্তব্য