সহকারী শিক্ষক
০৬ অক্টোবর, ২০২৪ ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
শ্রোতাবন্ধুরা, সালাম ও শুভেচ্ছা নিন। আশা করছি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আপনাদের হয়তো মনে আছে গত আসরে আমরা সূরা সফের ৬ নম্বর পর্যন্ত আয়াত নিয়ে আলোচনা করেছি। আজ আমরা এই সূরার ৭ থেকে ১৪ নম্বর পর্যন্ত আয়াতের সংক্ষিপ্ত তাফসির উপস্থাপন শুরু করব। প্রথমেই সূরাটির ৭ থেকে ৯ নম্বর পর্যন্ত আয়াতের তেলাওয়াত ও তর্জমা শোনা যাক।
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُوَ يُدْعَى إِلَى الْإِسْلَامِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (7) يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ (8) هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ (9)
“আর সে ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে? অথচ তাকে ইসলামের দিকে আহবান করা হয়। আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।” (৬১:৭)
“তারা তাদের মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর নূরকে পূর্ণতাদানকারী, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।” (৬১:৮)
“তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্যদ্বীন দিয়ে [মানুষের কাছে] প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি সকল দ্বীনের উপর তা বিজয়ী করে দেন। যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।” (৬১:৯)
আল্লাহর নবী হযরত ঈসা (আ.) তাঁর পর যে আরেকজন নবী আসবেন সেকথা তাঁর উম্মতকে জানিয়েছিলেন। গত আসরে আমরা সে প্রসঙ্গে কথা বলেছি। এরপর এই তিন আয়াতে বলা হচ্ছে: আহলে কিতাবদের কাছে যখন সর্বশেষ নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) দ্বীনের দাওয়াত দেন তখন তাদের একাংশ আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে বলে: আল্লাহ তোমাকে নবুওয়াত দেননি। এই আচরণের মাধ্যমে তারা আল্লাহর হেদায়েত থেকে বঞ্চিত হয় এবং নিজেদের প্রতি জুলুম করে।
এ ধরনের মানুষ ভাবে, আল্লাহর নূর মোমবাতির মতোই হীনবল এবং তারা মুখের ফুঁৎকারে সে আলো নিভিয়ে ফেলতে পারবে। অথচ আল্লাহ তায়ালা স্থির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশ্বনবীর মাধ্যমে তিনি তাঁর হেদায়েতের নূর সূর্যের আলোর মতো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেবেন এবং সকল ধর্মের উপর বিজয়ী করবেন। আর এটা স্পষ্ট যে, আল্লাহর সিদ্ধান্ত ঠেকিয়ে রাখার সাধ্য কারো নেই। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিগত ১৪শ’ বছর ধরে সকল প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ইসলাম সামনের দিকে এগিয়ে গেছে এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে মুসলমানের সংখ্যা প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই তিন আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হলো:
১- মানবতার প্রতি সবচেয়ে বড় জুলুম হচ্ছে, আল্লাহর বাণী মানুষের কানে পৌঁছে দিতে বাধা প্রদান করা এবং মানব সমাজে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা।
২- পবিত্র কুরআনের ভাষায় দ্বীনে ইসলাম হচ্ছে নূর বা আলোর সমতুল্য।
৩- ইসলামের শত্রুরা সব সময় হেদায়েতের আলো নিভিয়ে ফেলার চেষ্টা করে এবং এই কাজে তারা যেকোনো উপায় অবলম্বনে দ্বিধা করে না।
৪- সকল ধর্মের মধ্যে একমাত্র ইসলাম চিরস্থায়ী ধর্ম এবং এর সত্যতাই অন্য ধর্মগুলোর ওপর এর আধিপত্যের কারণ।
৫- নিঃসন্দেহে মিথ্যার ওপর সত্যের বিজয় আল্লাহ তায়ালার সিদ্ধান্ত। কাজেই কাফির ও মুশরিকদের সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবেই।
৪
৪ মন্তব্য