সহকারি সুপার
০৬ অক্টোবর, ২০২৪ ০১:০৩ অপরাহ্ণ
ভালো থাকার জন্য ১৫টি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন
মোঃ তৌহিদ মিয়া
বর্তমান শহুরে জীবনে নাগরিকদের নানা শারীরিক সমস্যা লেগেই থাকে। আর এসব সমস্যার অন্যতম কারণ শারীরিক পরিশ্রমহীনতা ও বাজে খাদ্যাভাস। এসব বিষয় বিবেচনা করে ১৫টি পয়েন্ট থাকছে এ লেখায়। যেগুলো মেনে চললে তাৎক্ষণিকভাবেই সুস্বাস্থের দিকে একধাপ অগ্রসর হবেন আপনি।

বর্তমান শহুরে জীবনে নাগরিকদের নানা শারীরিক সমস্যা লেগেই থাকে। আর এসব সমস্যার অন্যতম কারণ শারীরিক পরিশ্রমহীনতা ও বাজে খাদ্যাভাস। এসব বিষয় বিবেচনা করে ১৫টি পয়েন্ট থাকছে এ লেখায়। যেগুলো মেনে চললে তাৎক্ষণিকভাবেই সুস্বাস্থের দিকে একধাপ অগ্রসর হবেন আপনি।
১. চিনি/কৃত্রিম চিনি বর্জন করুনচিনির ক্ষতিকর দিক আমরা অনেকেই জানি। আর তাই অনেকেই চিনির বদলে কৃত্রিম চিনি খাওয়া শুরু করেছেন। কিন্তু এসব কৃত্রিম জিনিস খাওয়ার বদলে মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে ফেলার চেষ্টা করাই ভালোএকবারে সম্ভব না হলে ধীরে ধীরে চেষ্টা করা যেতে পারে।২. পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ঘুমান
ঘুমের গুরুত্ব অপরিসীম। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তা নানা মানসিক ও শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ঘুম সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।৩. নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন
নানা কাজের ফলে আপনার হাত ময়লা হয়ে যেতে পারে। আর তাই এসব কাজ শেষ হলে আপনার হাত ধোয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপাতদৃষ্টিতে নির্দোষ কাজ যেমন, টাকা-পয়সা গোনার পরও হাত ধোয়া উচিত। এ ছাড়া ঘরের বা বাইরের কোনো জিনিস ধরার পরে হাত ধোয়া উচিত।
৪. উপযুক্ত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন
খাবার আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
৫. পিপাসার্ত থাকবেন না
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা আপনার সুস্বাস্থ্যের অন্যতম চাবিকাঠি। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৬. জগিং করুন
দৌড়ানোর মতো ভালো ব্যায়াম আর হয় না। দৌড়ের প্রভাব সারা দেহেই পড়ে। আর বহু রোগের খপ্পর থেকে দূরে থাকার জন্যও এটা কাজ করে। হৃদরোগ দূরে রাখতে এর তুলনা হয় না। এ ছাড়া মাত্র পাঁচ মিনিটের দৌড়ে আপনার আয়ু বেড়ে যাবে বলে জানা গেছে এক গবেষণা থেকে।
৭. দইজাতীয় খাবার খান
দইয়ের মতো যেসব খাবারে উপকারি ব্যাক্টেরিয়া রয়েছে, এসব খাবার বেশি করে খান। এতে আপনার দেহ যেমন প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার হবে তেমন দেহের বিষও দূর হবে।
৮. খাদ্যতালিকায় রাখুন ভিটামিন বি
ভিটামিন বি-এর বহু উপকারিতা রয়েছে। এটি বহু খাবারেই পাওয়া যায়। ভিটামিন বি-সমৃদ্ধ এসব খাবার রাখুন আপনার খাদ্যতালিকায়।
৯. অ্যালকোহল বর্জন করুন
অ্যালকোহল আপনার দৈনন্দিন ক্যালরির সঙ্গে যোগ করে বাড়তি ক্যালরি। আর এর বাজে প্রভাব পড়ে হরমোনের ওপরেও। তাই নানা শারীরিক প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকতে চাইলে বর্জন করতে হবে এ অ্যালকোহল।
১০. ননফ্যাট দই আবশ্যক নয়
অনেকেই দইয়ের ফ্যাটের জন্য চিন্তিত থাকেন। ফলে বাজার থেকে ননফ্যাট দই খাওয়ায় আগ্রহী হন। কিন্তু বাস্তবে এসব ননফ্যাট দইয়ের উপকারিতা প্রমাণিত হয়নি। জানা গেছে, স্বাভাবিক দই দেহের জন্য উপকারী।
১১. খাবারের পাত্রের দিকে নজর দিন
খাবারের পাত্রের আকার ও রং আপনার খাবারের মাত্রা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পাত্র ছোট রাখলে মানুষ কম খেতে আগ্রহী হয়। অন্যদিকে বড় পাত্রে বা থালায় খাবার খাওয়া হলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
১২. খাবার দূরে রাখুন
হাতের কাছে খাবার রাখলে তা আপনার খাদ্যাভাসে প্রভাব বিস্তার করে। এতে মানুষ বেশি খাবার খেতে আগ্রহী হয়। অন্যদিকে খাবার সহজলভ্য না হলে তা খেতে মানুষ কম আগ্রহী হয়। তাই খাবার যথাসম্ভব দূরে রাখলে আপনার খাওয়ার পরিমাণ কমে যেতে পারে।
১৩. লক্ষ্য নিধারণ করুন
আপনার দেহের ওজন কম বা বেশি-যাই হোক না কেন, তা স্বাভাবিক পর্যায়ে আনার জন্য একটি মাত্রা নির্ধারণ করুন। খাবারের মাত্রা নির্ধারণ করুন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখুন।
১৪. ভিনেগারের বন্ধু হোন
ভিনেগার নানা বিকল্প চিকিৎসার কাজে লাগে। রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণে এটি ভূমিকা রাখে। নানা খাবারের সঙ্গে ভিনেগার ব্যবহার করা যায়।
১৫. ডেসার্ট নিয়ে নতুন করে চিন্তা করুন
খাবার শেষে মিষ্টি কিছু খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। খেয়াল রাখতে হবে, এটি যেন হয় স্বাস্থ্যকর খাবার। প্যাকেটজাত অস্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে মিষ্টি ফল বা অনুরূপ পুষ্টিকর খাবার, জুস ইত্যাদি রাখতে পারেন আপনার খাদ্যতালিকায়।
মন্তব্য করুন
৭
৭ মন্তব্য