সহকারী শিক্ষক
০৬ অক্টোবর, ২০২৪ ০২:৩০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
???????????
ড. মেঘনাদ সাহা ছিলেন একজন জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী, যিনি পদার্থবিজ্ঞানে থার্মাল আয়নাইজেশন তত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিখ্যাত। তার আবিষ্কৃত সাহা আয়োনাইজেসন সমীকরণ নক্ষত্রের রাসায়নিক ও ভৌত ধর্মাবলি ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত হয়। বিখ্যাত এই বিজ্ঞানী ১৮৯৩ সালের ৬ অক্টোবর গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার শেওড়াতলী গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা-মায়ের ৫ম সন্তান ছিলেন মেঘনাদ সাহা। বিজ্ঞানে তার অনেক অবদান থাকলেও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই মহান বিজ্ঞানীর নাম অনেকেই হয়ত জানেন না।
মেঘনাদ সাহার শিক্ষাজীবন শুরু হয় তার গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়েই। বাড়ির আশপাশে কোনো স্কুল না থাকায় গ্রাম থেকে সাত মাইল দূরে শিমুলিয়া এসপি হাইস্কুলে ভর্তি হন পড়াশোনার উদ্দেশ্যে। এর পরই তিনি রাখতে থাকেন তার মেধার স্বাক্ষর।
১২ বছর বয়সে মেঘনাদ সাহা মাইনর পরীক্ষায় ঢাকা বিভাগে প্রথম হয়ে বৃত্তি লাভ করেন। এরপর ১৯০৯ সালে এন্ট্রান্স (প্রবেশিকা) পরীক্ষায় তৎকালীন পূর্ববাংলার তিনি প্রথমস্থান লাভ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ থেকে ১৯১১ সালে আইএসসি (ইন্টারমিডিয়েট) পরীক্ষায় তিনি তৃতীয়স্থান লাভ করেন। এরপর কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ হতে বিএসসি গণিত বিভাগে প্রথমস্থান লাভ করেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিত বিষয়ে এমএসসিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথমস্থান লাভ করেন ।
তৎকালীন সরকার মেঘনাদ সাহাকে ১২৫ টাকা মাসিক বৃত্তিতে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে জার্মান ভাষা শেখার জন্য নিয়োগ করেন। মেঘনাদ সাহার দায়িত্ব ছিল কোয়ান্টামবাদ নিয়ে পড়াশোনা। তিনি এক বছর ধরে জার্মান ভাষা শেখেন। পরবর্তীতে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। ড. মেঘনাদ সাহা ও তার সহপাঠী সতেন্দ্রনাথ বসু আলবার্ট আইনস্টাইন কর্তৃক রচিত আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রথম ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
১৯১৬ সালে মেঘনাদ সাহা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট গণিত বিভাগে গবেষক হিসেবে যোগদান করেন। এক বছরের মধ্যে তিনি আপেক্ষিক তত্ত্ব ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর মৌলিক গবেষণার জন্য ডক্টর অব সায়েন্স উপাধি পান।
১৯১৭ সালে মেঘনাদ সাহার বিদ্যুৎ চুম্বকের ওপর গবেষণালব্ধ নিবন্ধ ‘ম্যাকওয়েল স্টাসেস’ ফিলোসফিক্যাল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। ১৯১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ‘বিদ্যুৎ চুম্বক তত্ত্ব ও তেজস্ক্রিয়’ মৌলিক গবেষণার স্বীকৃতি স্বরূপ ডিএসসি খেতাব প্রদান করে। ১৯১৯ সালে ‘বিকিরণ তাপ ও আপেক্ষিক তত্ত্ব’ শিরোনামে তার একটি মৌলিক নিবন্ধ এস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়। একই বছর মেঘনাদ সাহা প্রেমচাঁদ-রায়চাঁদ বৃত্তি অর্জন করেন।
১৯২০ সালে তার থামার্য আয়োনিজেশন (পরমাণু সংক্রান্ত তত্ত্ব) প্রকাশিত হয়। এই তত্ত্ব আবিষ্কারের ফলে অনেক জটিল রহস্যের বিশ্লেষণ সহজ হয়ে যায়। এরপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তি দিয়ে উচ্চতর গবেষণার জন্য লন্ডন যান। সেখান থেকে ফিরে ১৯২৩ সালে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯২৬ সালে তিনি ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ইতালি সরকারের আমন্ত্রণে ভোল্টা জন্মশত বার্ষিকী উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে নিবন্ধ পাঠ করেন। তার একটি মৌলিক নিবন্ধ রেকর্ড অব হার্বার্ড কলেজ অবজারভেটরিতে প্রকাশিত হয়।
মেঘনাদ সাহা পরমাণু বিজ্ঞান, আয়ন মল, পঞ্জিকা সংস্কার, বন্যা প্রতিরোধ ও নদী পরিকল্পনা বিষয়ে গবেষণা করেন। তাপীয় আয়নবাদ সংক্রান্ত তত্ত্ব উদ্ভাবন করে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকাও রাখেন এই বিজ্ঞানী। মেঘনাদ সাহার মৃত্যুর পর তার প্রতিষ্ঠিত কলকাতা ‘ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্স’-এর নামকরণ হয় ‘সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্স’। বিজ্ঞানে তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে চাঁদের বুকে একটি গহ্বরের নাম রাখা হয়েছে ‘মেঘনাদ সাহা গহ্বর’। সাহিত্য ক্ষেত্রে ড. সাহার কৃতিত্ব কম নয়। বৈজ্ঞানিক, সামাজিক, কৃষি ও জাতির উন্নয়ন সব বিষয়েই তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। সব মিলিয়ে তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৮৬টি। ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মহান এ বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়।
Collected
১৪
২১ মন্তব্য