সহকারী প্রধান শিক্ষক
০৬ অক্টোবর, ২০২৪ ০৩:৩৭ অপরাহ্ণ
পাপ কাজে আলহামদুলিল্লাহ বা ইনশাআল্লাহ বলার বিষয়ে ইসলাম যা বলে
হাল-জামানায় কিছু মানুষকে স্পষ্ট হারাম বিষয়ে সফলতার জন্য ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে শোনা যায়। উদাহরণস্বরূপ—কোনো গায়কের গান খুব ভালো চলছে। ইউটিউব, ফেসবুকে আর টিকটকে ট্রেন্ডিংয়ে আছে। অল্প দিনে অনেক মানুষ সেটা শুনেছে। এটার জন্য তাকে প্রেস ব্রিফিংয়ে গর্বের সাথে বলতে শোনা যায়, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ আমি সফল হয়েছি। শেষে এই কাজ যেন চালিয়ে যেতে পারেন সেই জন্য দোয়াও চায়।
আবার অনেককে ভবিষ্যতে গোনাহের কাজ সংঘটনের ইচ্ছায় ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতে শোনা যায়। যেমন কারও ভবিষ্যতে সিনেমা তৈরির পরিকল্পনা আছে। সে ইচ্ছা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি গর্বের সাথে বলছেন, ইনশাআল্লাহ! সামনে আমরা এই সিনেমা নিয়ে কাজ করব।
প্রশ্ন হচ্ছে, গোনাহের কাজের সফলতার জন্য ‘আলহামদুলিল্লাহ’ কিংবা ভবিষ্যতে গোনাহের কাজ করার ইচ্ছায় ‘ইনশাআল্লাহ’ বলার হুকুম কী? ইনশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ইত্যাদি বলার ক্ষেত্রে একজন মুসলিম হিসেবে জেনে রাখা উচিত, আমি কোথায় ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে হবে আর কোথায় ‘ইনশাআল্লাহ’। কৃতজ্ঞতা ও সন্তুষ্টি বোঝাতে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে বলেন। যার অর্থ সকল প্রশংসা আল্লাহর। ভবিষ্যতে ভালো কোনো কাজ করার মানসে আল্লাহর সাহায্য চেয়ে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা ইসলামের বিধান।
অপব্যবহারে বেঈমান হওয়ার আশঙ্কা!
আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ইত্যাদি ইসলামিক পরিভাষা। এগুলো কেবল উচ্চারণ সর্বোচ্চ কোনো পরিভাষা নয়। বরং এসব বাক্য ইসলামের নিদর্শন। এগুলোর সম্মান করা ঈমানের চিহ্ন ও আলামত। অন্তরের তাকওয়ার বিষয়। সুরা হাজ আল্লাহ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করবে সেটা তার হূদয়ের তাকওয়া প্রসূত।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৩২)
ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলোর অসম্মান করা। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা গোনাহের কাজ। এর কারণে ব্যক্তির ঈমানহারা হওয়ার আশঙ্কা আছে। হারাম বিষয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলাও হারাম।
তাফসিরে রুহুল মায়ানিতে এসেছে, হারাম ও মাকরুহ বিষয়ে বিসমিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ ইত্যাদি বলা উচিত নয়। বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, যদিও তা কুফুরি নয়; কিন্তু হারাম বিষয়ের জন্য বিসমিল্লাহ বা আলহামদুলিল্লাহ বলা হারাম। মাকরুহ বিষয়ে বলা মাকরুহ। (তাফসিরে রুহুল মায়ানি : ১/৭০)
এটা সপষ্ট যে ইসলামে গানবাজনা, বাদ্যযন্ত্র হারাম। তেমনি নাটক, সিনেমাও হারাম ও নিষিদ্ধ কাজ। এগুলো বিষয়ে সফলতার জন্য আলহামদুলিল্লাহ কিংবা ইনশাআল্লাহ বলা হারাম কাজ।
তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের উদ্দেশে আলহামদুলিল্লাহ বলা
যদি কেউ ইসলামিক এই সব পরিভাষাকে ছোট করার নিয়তে। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা উদ্দেশ্যে বলে থাকে, তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে। তাফসিরে রুহুল মাআনিতে এসেছে, ‘আল্লাহ মাফ করুন! যদি কেউ ইসলামিক বিধানকে ছোট করার মানসে এমনটা বলে থাকে তাহলে তা কুফুরি বলেই গণ্য হবে।’ (রুহুল মাআনি : ১/৭০)
এই শব্দগুলো উচ্চারণের ক্ষেত্রে আমাদের সজাগ ও সর্তক হওয়া উচিত।
লেখক : খতিব, বাইতুল আজিম জামে মসজিদ, রংপুর।
১
১ মন্তব্য