সহকারী শিক্ষক
০৬ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:৪১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্ব পাওয়ার কথা ছিলো। অথচ অজানা কারণে এই দুটি স্তরই সবচেয়ে অবহেলিত। প্রাথমিক স্তরে নিয়োগের যেমন বাস্তবসম্মত যোগ্যতা সবসময় দেখা যায় না, মাধ্যমিক আরো বেশি জগাখিচুড়িতে। এখানে সরকারি, বেসরকারিতে নিয়োগ দেয় ভিন্ন ভিন্ন কর্তৃপক্ষ। তাই এদের বেতনের স্তরও ভিন্ন। এখানে প্রমোশনের জন্য নেই কোনো সুপরিকল্পিত পদসোপান, নেই বদলি নীতিমালা, থাকলেও তা মানা হয়না। ফলে অনেক নামধারী শিক্ষক প্রভাব খাটিয়ে একই স্কুলে বছরের পর বছর থেকে স্কুলটাকে বাপ দাদার সম্পত্তি মনে করে নির্লজ্জ প্রভাব খাটান। একই কর্মস্থলে যোগদান করে অবসরে যাওয়ার একমাত্র নজির শিক্ষকতাতেই আছে।
মাধ্যমিকের প্রশাসক আবার বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকেস আসা নন-শিক্ষকরা যা অন্য কোনো পেশায় দেখা যায় না। তাছাড়াও ঔপনিবেশিক আমলের মতো উপরস্তরের প্রশাসক মাধ্যমিকের উপর চাপিয়ে দিয়ে আমাদেরকে আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং আমরা শোষিত হচ্ছি।
এছাড়াও তিন পার্বত্য জেলার সরকারি কলেজ/স্কুলে শিক্ষক সংকট সেখানকার শিক্ষার্থীদের একরকম বঞ্চিত করার শামিল। ঐসব এলাকায় শাস্তিমূলক বদলি একটা নেগেটিভ প্রভাব ফেলে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পরিবার বিহীন কষ্টকর জীবন যাপন করতে হয়।
সরকারি কলেজের প্রভাষকরা তাদের উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির জন্য উচ্চতর বেতন পেলেও শুধু সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষকরা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
আরো নানা বৈষম্য নিয়েও আমরা জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাবো কারন আমরা নিরীহ, গৃহপালিত শিক্ষক!!
তারপরেও দাবী জানাতে চাই, আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকবৃন্দের এন্ট্রি পদ ৯ম গ্রেড দিয়ে শুরু হোক।
...............
মোহাম্মাদ ইসহাক চৌধুরী
সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান),
জ্যৈষ্ঠপুরা রমিনী মোহন উচ্চ বিদ্যালয়,
বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম।
৪
৪ মন্তব্য