Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ অক্টোবর, ২০২৪ ০৮:০৪ অপরাহ্ণ

শিক্ষক দিবসে প্রিয় শিক্ষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সকল শিক্ষকবৃন্দের প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কত শিক্ষকদেরকে আমরা মিস করছি। অনেক শিক্ষকের কাছ থেকে দীক্ষা গ্রহন করার পরেও প্রতিটি ধাপে কিছু শিক্ষক প্রিয় শিক্ষক হিসাবে উপনীত হন। যারা একাডেমিক শিক্ষা দানের পাশাপাশি এমন কিছু অনুপ্রেরণার বানী আমাদেরকে শুনান যা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আজ যেসকল শিক্ষকদের কথা শ্রদ্ধা ভরে স্মরন করতে হয়, তারা হলেন আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা মহসিন স্যার। স্যার অনেক আগেই মারা গিয়েছেন। আল্লাহ তাকে বেহেশ নসিক করুক। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্র্রিয় শিক্ষকের তালিকায় রয়েছেন মোঃ আবুবকর সিদ্দিক রিটন স্যার। তিনি প্রথম জয়েন করেই আমাদের ৫ম শ্রেণিতে পেয়েছিলেন। স্যারকে অল্প কিছুদিন পেলেও সেই অল্প কিছু দিনেই তিনি আমাদের মন জয় করে নিয়েছিলেন। স্যারের দীর্ঘায়ু কামনা করছি। হাই স্কুলে গিয়ে যাদেরকে পেয়েছি তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন এস এম আব্দুল মান্নান, প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক পূর্বডামুড্যা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়া শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করছি সহকারী প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার, সহকারী শিক্ষক আব্দুল গফুর স্যার, মাওলানা আবুল কাশেন স্যার, মোঃ দ্বীন ইসলাম স্যার, সিরাজুল ইসলাম ছৈয়াল স্যার, নুরুল ইসলাম নুরু স্যার, শরফুদ্দিন স্যার বিএসসি, সালাম স্যার সহ অনেকে ছিলেন। এদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তিনি হলেন প্রধান শিক্ষক এস এম আব্দুল মান্নান স্যার ও মাওলানা আবুল কাশেম স্যার। জোহরের নামাজের জন্য স্যারের পিটানের কথা এখনো মনে পড়ে। প্রতিদিন জোহরের নামাজে স্যার মসজিদে হাজিরা ডাকতেন। প্রিয় স্যারদের দীর্ঘায়ু কামনা করছি। কলেজে গিয়ে পেয়েছিলাম ইসলামিক স্টাডিজের লেকচারার নুরুল ইসলাম (বাজান স্যার), যুক্তি বিদ্যার রেজাউল স্যার, সমাজ কল্যাণের সৈয়দ আহম্মেদ স্যার ও শফিউল বাশার স্যার, পৌরনীতির ছায়াদুল হক মোল্লা স্যার ও ইব্রাহিম খলিল স্যার, বাংলার আশেকুজ্জামান স্যার ও মাহাবুব স্যার, ইংরেজির অলি আহমদ স্যার ও শেখ সিদ্দিকুর রহমান স্যার। পূর্বমাদারীপুর কলেজে অধ্যায়ন কালে স্যারদের ভালোবাসা ও শাসন কখনো ভুলবার নয়। স্যারদের আল্লাহ দীর্ঘ হায়াত দান করুক। এর মধ্যে কয়েকজন গত হয়ে গিয়েছেন তাদের আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক। এই কয়েক স্যারের মধ্যে পৌরনীতির ছায়াদুল হক মোল্লা স্যার, ইংরেজির অলি আহমদ স্যার ও বাংলার আশেকুজ্জামান স্যারের কথা বেশি মনে পরে। যাদের কাছ থেকে শিক্ষাদানের পাশাপাশি পেয়েছি অনেক অনুপ্রেরণা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্যারদের কথা মনে নেই কারন দারিদ্রতার কষাঘাতে জীবিকার তাগিদে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে স্যারদের সান্নিধ্যে আসতে পারিনি। শুধু পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছিলাম। আমার হাজী শরীয়তুল্লাহ ডিগ্রী কলেজ ও সরকারী মাদারীপুর কলেজের সকল স্যারদের জন্য রইল হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। শিক্ষকদের কাছে আমি চিরঋণী। কারন তাদের সুশিক্ষার ফলে আজকে আমি নিজেও একজন শিক্ষক হয়েছি। চেষ্ঠা করেছি স্যারদের আদর্শকে ধরে রেখে জীবনে চলার জন্য। চেষ্ঠা করি একজন আদর্শবান শিক্ষক হওয়ার। সর্বদা শিক্ষার্থীদেরকে ভালো কাজে, নৈতিকতার পথে চলতে অনুপ্রানিত করি। আজকের এইদিনে একটাই চাওয়া প্রতিটি শিক্ষক তার আত্মসম্মান নিয়ে, সম্মানের পাত্র হয়ে মাথা উচু করে সমাজে বাচুক।

মন্তব্য করুন

ব্লগ