Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ অক্টোবর, ২০২৪ ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেড নয়,আমি চাই এটা ৯ম গ্রেড করা উচিত।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেড নয়,আমি চাই এটা ৯ম গ্রেড করা উচিত।
আপনি শিক্ষককে জাতির মেরুদণ্ড বলবেন, অথচ সেই শিক্ষককে তো আগে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে দিতে হবে।
আমার প্রস্তাবের সাথে আপনারা এক মত হবেন না এটাই স্বাভাবিক। এমনকি এটাকে পাগলের প্রলাপও বলতে পারেন। আপনারা বলবেন এইচএসসি সার্টিফিকেট দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করলে কীভাবে ৯ম গ্রেড বা প্রথম শ্রেণি পাবে? মূলত এখানেই গলদ।
একটা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর জায়গা হলো প্রাথমিক শিক্ষা। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশসহ পৃথিবীর বেশিরভাগ উন্নত দেশ, এমনকি বাংলাদেশের মতো অনেক উন্নয়নশীল দেশেও প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।এটাকে নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয় এবং সবচেয়ে মেধাবি ছেলেমেয়েদের এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রতিবেশি দেশ ভারত,শ্রীলঙ্কা কিংবা ভূটানেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে অনেক ডিগ্রিধারী এবং যোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
যোগ্য এবং মেধাবিরা তখনই আসবেন যখন তাদের সুযোগ সুবিধা বেশি দিবেন,বেতন ভাতা বেশি দিবেন।ভারত, জাপান, কোরিয়া কিংবা ইউরোপের দেশগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেক বেশি বেতন দিয়ে থাকে। তারা জানে কোন বিল্ডিং তৈরি করতে গেলে তার বেজমেন্ট সবচেয়ে মজবুত হতে হবে। আপনি কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে যতই গুরুত্ব দেন কিংবা বাজেট দেন আর প্রাথমিক শিক্ষাকে অবহেলা করেন দিন শেষে এখন যা আছে তাই হবে। সবাই মুখস্ত করবে,সার্টিফিকেট নিবে। এরপর দেশে একটা ব্রিজ বানাবেন, একটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবেন তখন মেধা আমদানি করবেন ভারত কিংবা চীন থেকে। কিছু ব্যতিক্রম যে আছে এটা মেনে নিচ্ছি। অনেক ছেলেমেয়ে নিজের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে সর্বোচ্চ শিখরে যাচ্ছে কিন্তু সেখানেও তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ না দেওয়াও হতাশ হয়ে দেশ ছাড়ছে।
আমি নিজেও শিক্ষকতা পেশায় আছি প্রায় দুই বছর। একটানা দুটো ক্লাস নেওয়ার পর মাথাটা ঝিমঝিম করে। কিন্তু আমি শুনেছি প্রাথমিকের একজন শিক্ষক দিন ৫-৬টি ক্লাস নেন এবং যাদের ক্লাস নেন তাদের সবাই শিশু। শিশুদের নিয়ন্ত্রণ করে,তাদের বুঝিয়ে পড়া আদায় করে ছয়টি ক্লাস নেওয়া কতটা কঠিন এটা কিছুটা হলেও অনুমান করা যায়। আমরা যেটা বারবার ভুল করি সেটা হলো,কথায় কথায় বলি অমুক চাকরি ১১গ্রেড, তমুক চাকরি ১২গ্রেড, তাহলে প্রাথমিকের শিক্ষকদের কেন ১০ গ্রেড দিতে হবে?
এটা সত্যি আমাদের মানসিক দীনতা। অন্য চাকরির সাথে প্রাথমিক শিক্ষাকে মিলিয়ে ফেলি বলেই আমরা ধ্বজভঙ্গ হয়ে গেছি।
যারা এইচএসসি সার্টিফিকেট দিয়ে জব করছেন তাদের নতুন কোর্স করান।তাদের নতুন করে প্রস্তুত করে তোলেন। আর সবাই তো এইচএসসি সার্টিফিকেট দিয়ে জব করছেন না। বর্তমানে অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জব করছে। এটাও ঠিক তারা এখান থেকে বের হওয়ার বা অন্য জবে যাওয়ার সুযোগ পেলে চলে যাবেন। কেন থাকবেন? এই শিক্ষক নিজ গ্রামে থাকবেন,বিকেলে বাজারের প্যাকেট হাতে বাজারে যাবেন,আর আশেপাশের মানুষজন নাম ধরে ডাকবে কিংবা বলবে ঐ মাস্টার!
কিন্তু এই লোকটা যদি কোন সরকারি অফিসের কেরানি কিংবা অফিস সহকারী হন তাকেও অফিসারসুলভ ট্রিট করা হয়।
সরকারি কর্ম কমিশন বিসিএস নন ক্যাডার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কয়েক শত ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছিল।এটা খুবই ইতিবাচক ছিল।কিন্তু অনেকেই চাকরিতে যোগদান করেননি।
তাদের যদি উন্নত বেতন গ্রেড থাকতো তাহলে নিশ্চয়ই যোগদান করতেন।
আমার প্রত্যাশা হলো, দেশের শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো করা উচিত। তাদের উন্নত বেতন গ্রেডের পাশাপাশি একাধিক ইনক্রিমেন্ট দিলে দেশের সবচেয়ে যোগ্য নাগরিক এখানে যোগ দিবেন।ফলে আমাদের গাছের গোড়াটা হবে মজবুত, শিক্ষার শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে যাবে। ফলে ভবিষ্যতে আজকের শিশু পথহারা হবে না।
আবার বলছি দেশের টপ লেভেলের ছেলেমেয়ে যতদিন শিক্ষার হাল না ধরবে ততদিন আমরা শুধু গাছের পাতায়,পানি ছিটিয়ে যাব,কিন্তু গাছ বাঁচবে না, আর বাঁচলেও পুষ্টি থাকবে না। তাই টপ লেভেলের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা সেক্টরে ধরে রাখতে হলে তাদের জন্য আলাদা চিন্তা করতেই হবে।
মোঃ মোস্তফা জামান
প্রভাষক, শৈলকুপা সরকারি কলেজ, ঝিনাইদহ
Mostofa Zaman
মন্তব্য করুন

ব্লগ