সহকারী মৌলভী
০৭ অক্টোবর, ২০২৪ ০৫:০৩ অপরাহ্ণ
সহকারী মৌলভী
শিরোনাম :"সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো পৃথক ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থাকলে ইবতেদায়ী স্তরে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যেত":
মাদরাসা শিক্ষার ভিত্তি হলো ইবতেদায়ী স্তর।আর এই ইবতেদায়ী স্তরের শিক্ষার মান এতোটা বাজে সেটা কল্পনা করা যায় না।আরবি ভাষা[সরফ ও নাহু], কুরআন তাজভীদের বুনিয়াদি শিক্ষা এই স্তরে সম্পন্ন করা হয়।কিন্তু দেখা যায় আমাদের এই স্তরের শিক্ষার মান এতো নিচে যার দ্বারা দক্ষ আলেম ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা অসম্ভব। একটা পাঁচ তালা বিল্ডিং যেমনিভাবে তার ফাউন্ডেশনের উপর দাঁড়িয়ে থাকে ঠিক তেমনিভাবে মাদরাসা শিক্ষার দাখিল ও আলিম স্তর এর উপর টিকে থাকে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মতো আলাদা ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর নেই। যার ফলে এই স্তরের জন্য পৃথক বরাদ্দ নেই এবং কাজের গতিশীলতাও নেই।
বেশির ভাগ ইবতেদায়ী মাদরাসা দাখিল,আলিম,ফাযিল এবং কামিল স্তরের সাথে সংযুক্ত থাকায় এই স্তরের গুরুত্ব কম প্রদান করা হয়। তাই এই সব সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে পৃথক করে দিলে শিক্ষার মান বাড়বে।
অনেক স্থানে দেখা যায় একই ব্যক্তির দান করা জমিতে একপ্রান্তে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আর অপর প্রান্তে মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ।একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তর শেষ করে সেখানের মাধ্যমিক স্তরে ভর্তি হন।ঠিক তেমনিভাবে সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে একই পদ্ধতিতে পৃথক করলে আলাদা জমি ও ভবনের প্রয়োজন হবে না।
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ইবতেদায়ী স্তরকে তেমন গুরুত্ব প্রদান করেন না।ইবতেদায়ী স্তরের জন্য আলাদা বরাদ্দও থাকেনা। যেমন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকে।
ইবতেদায়ী মাদরাসা সংযুক্ত থাকায় স্বতন্ত্র ও সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণ করা হয়নি। আর এইভাবে সংযুক্ত থাকলে কখনো জাতীয়করণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। স্বতন্ত্র ও সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ও সুযোগ- সুবিধা কম।
যেকোনো প্রতিষ্ঠানে একজন অভিভাবক থাকে।আর ইবতেদায়ী মাদরাসার অভিভাবক হলেন" ইবতেদায়ী প্রধান"।
অনেক প্রতিষ্ঠানে ইবতেদায়ী প্রধান নেই।অথচ এই প্রশাসনিক পদটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন ইবতেদায়ী প্রধান এই স্তরকে দেখবাল করবেন এবং এর মান উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন সেইজন্য এই প্রশাসনিক পদটি সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই ইবতেদায়ী প্রধান না থাকায় সহকারী শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাসে যান না। গেলেও ঠিকভাবে ক্লাস নেন না ক্লাসে বসে বসে ঘুমান।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বছরের শুরুতে বাৎসরিক রুটিন, শিক্ষার্থীদের প্রান্তিক যোগ্যতা ইত্যাদি নির্ধারণ করে নেন।কিন্তু ইবতেদায়ী স্তরে এর কিছুই নেই। আলাদা ভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের কিছুই ইনপুট দিতে হয় না। নেই কেনো মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে তদারকি ও জবাবদিহি ব্যবস্থা।তাই যেভাবে ইচ্ছা চলছে।
সরকারি পিটিআই এর মতো বিভাগিয় পর্যায় ইবতেদায়ী স্তরের শিক্ষকদের[বিএমটিটিআই, গাজীপুর, ব্যতীত] প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ নেই।বিভাগীয় পর্যায়ে বিএমটিটিআই থাকলে ইবতেদায়ী স্তরের শিক্ষকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া যেত।
পৃথক অধিদপ্তর না থাকায় ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলো উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং এবং ইউনিসেফের বরাদ্দ থেকেও বঞ্চিত হয়।
ইবতেদায়ী মাদরাসায় গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই পৃথক "ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর" গঠন করা প্রয়োজন।
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে অধীনস্ত অফিসের তালিকায় ইবতেদায়ী মাদরাসার নামে পৃথক লিংক ও তথ্য নেই!!
আব্দুর রহিম
শিক্ষক
সৈয়দ আব্দুল মান্নান ডি. ডি.এফ আলিম মাদরাসা।
মুসলিম গোরস্থান রোড, বরিশাল।
১
১ মন্তব্য