Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ অক্টোবর, ২০২৪ ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ

কুরআনে বর্ণিত ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্তিগফার: নামাজের সিজদায় এগুলো দু‘আ হিসেবে পড়া যাবে; তিলাওয়াতের উদ্দেশ্যে পড়া যাবে না

● প্রথম ইস্তিগফার: 


যখন মুসা (আ.) কিবতি বংশীয় লোকটিকে আঘাত করেন এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে নিহত হয়ে যায়, তখন তিনি এই দু‘আটি (ইস্তিগফারটি) করেন এবং আল্লাহ্ তাঁকে ক্ষমা করে দেন।


رَبِّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ فَاغْفِرْ لِيْ

(হে আমার) রব! নিশ্চয়ই আমি নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। [সুরা ক্বাসাস, আয়াত: ১৬]


● দ্বিতীয় ইস্তিগফার: 


رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

হে আমাদের রব, নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। [সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬]


● তৃতীয় ইস্তিগফার: ইস্তিগফারের শ্রেষ্ঠ বাক্যগুলোর মাঝে এটি অন্যতম।


আদম (আ.) ও মা হাওয়া যখন শয়তানের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে ভুল করে বসেন, তখন তাঁরা এই দু‘আ (ইসতিগফার) করেন এবং আল্লাহ তাঁদের দু‘আ কবুল করেন। 


رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ

হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবো।’’ [সুরা আল আ‘রাফ, আয়াত: ২৩]


● চতুর্থ ইস্তিগফার:


মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর চমৎকার দু‘আ (ইস্তিগফার)। এর মাধ্যমে একই সাথে নিজের জন্য, বাবা-মার জন্য এবং সকল জীবিত ও মৃত ঈমানদারের জন্য দু‘আ করা যায়।


رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ 

হে আমাদের রর! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং ঈমানদারদের ক্ষমা করে দিয়েন।’’

[সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪১]


● পঞ্চম ইস্তিগফার: 


رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ

হে আমার রব! (আমাকে) মাফ করুন এবং (আমার উপর) রহম করুন; আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’’

[সুরা আল মুমিনুন, আয়াত: ১১৮]


● ষষ্ঠ ইস্তিগফার:


سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ

আমরা (আপনার বিধান) শুনলাম এবং মেনে নিলাম। হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন। আপনার কাছেই তো (আমাদের) ফিরে যেতে হবে।’’

[সুরা আল বাকারাহ, আয়াত: ২৮৫]


● সপ্তম ইস্তিগফার:


رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِيْنَ سَبَقُوْنَا بِالْإِيْمَانِ 

হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং যারা আমাদের পূর্বে ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে, তাদেরকেও ক্ষমা করুন।’’

[সুরা হাশর, আয়াত: ১০]


● অষ্টম ইস্তিগফার: 


رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِيْ أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ 

হে আমাদের রব! আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিন। আমাদের কাজের মধ্যে যেসব বাড়াবাড়ি হয়েছে, তা মাফ করে দিন। আমাদের পদযুগল অবিচল রাখুন এবং ক!ফিরদের মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করুন।’’

[সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৪৭]


● নবম ইস্তিগফার:


رَبَّنَا وَلاَ تُحَمِّلْنَا مَا لاَ طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا.

হে আমাদের রব! যে বোঝা বহন করার সাধ্য আমাদের নেই, সে বোঝা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েন না। আমাদের প্রতি কোমল হোন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের উপর দয়া করুন।’’

[সুরা আল বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬]


● দশম ইস্তিগফার: এই ইস্তিগফারের ভাষা ও আবেদন খুবই হৃদয়গ্রাহী; অগ্রাধিকারযোগ্য।


.رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُّنَادِيْ لِلْإِيْمَانِ أَنْ آمِنُوْا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا

হে আমাদের রব! আমরা একজন আহবানকারীকে ঈমানের প্রতি (এই) আহবান করতে শুনেছি (জেনেছি) যে, তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আনো; তাই আমরা ঈমান এনেছি। 


.رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ 

হে আমাদের রব! অতএব, আমাদের গুনাহগুলো মাফ করুন, আমাদের দোষ-ত্রুটিগুলো দূর করে দিন এবং সৎকর্মশীল লোকদের সাথে আমাদের মৃত্যু দান করুন।’’

[সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯৩]

মন্তব্য করুন