সহকারী শিক্ষক
১০ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:০৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ওরস্যালাইন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার এটি। কলেরা ও পেটের অসুখের চিকিৎসার জন্য এ এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। কলেরা, ডায়রিয়া বা পেটে নানা রোগ হলে দেহে পানি ও লবণের ঘাটতি দেখা দেয়। বারবার পাতলা পায়খানা হয় ডায়রিয়ার জন্য। ফলে অল্প সময়ে দেহের লবণ ও পানি কমে যায়। এই ঘাটতি পূরণের জন্যই খেতে হয় স্যালাইন। শুধু স্যালাইনের সাহায্যে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ শিশুর জীবন রক্ষা পেয়েছে ও পাচ্ছে।
বর্তমানে যে স্যালাইন বাজারে পাওয়া যায়, আগে তা এমন ছিল না। উপাদানে ভিন্নতা ছিল। তা ছাড়া সেই স্যালাইন খাওয়া যেত না। ইনজেকট করে দিতে হতো শরীরে। পাশ্চাত্যের সেই স্যালাইনে ছিল সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড ও গ্লুকোজের সঙ্গে সামান্য বাইকার্বোনেট। কিন্তু সেই স্যালাইন সহজে পাওয়া যেত না। ফলে সহজলভ্য স্যালাইনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল।
এই কাজ করেছেন একজন বাংলাদেশি। তখন দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে। ঢাকার তৎকালীন পাকিস্তান সিয়াটো কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে (পিএসসিআরএল) চলছে গবেষণা। পানিস্বল্পতা ও লবণ-ঘাটতি নিরসনে কাজ করেন ডা. রফিকুল ইসলাম। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান নাম আইসিডিডিআর,বি। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এক অধ্যাদেশ বলে পিএসসিআরএল রূপান্তরিত হয় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রে। এটি আইসিডিডিআর,বির পূর্ণরূপ ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ’-এর বাংলা নাম। অবশ্য লোকমুখে ১৯৮০-এর দশকে এই গবেষণা কেন্দ্রের নাম দাঁড়িয়ে গিয়েছিল ‘কলেরা হাসপাতাল’। যাহোক, ডা. রফিকুল ১৯৬০ সালে এ গবেষণা কেন্দ্রে যুক্ত হন। ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন। কাজের পাশপাশি করেন গবেষণা।
১৩
১৯ মন্তব্য