Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ অক্টোবর, ২০২৪ ০৪:০৭ অপরাহ্ণ

তেল কম ভাজা মচমচে এই থিওরি বাদ দিন ;দেখবেন তখনই গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত হবে


শিরোনাম :❝তেল কম ভাজা মচমচে এই থিওরি বাদ দিন ;দেখবেন তখনই গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত হবে❞:



বেতন কম, কাজ বেশি। অল্প পূঁজি, বেশি রুজি এই থিওরি বাদ দিন। বেতন বৃদ্ধি করুন তখনই কোয়ালিফাইড শিক্ষক আসবে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত হবে।


উন্নত দেশে শিক্ষকতা পেশায় তারা যেতে পারে যাদের একাডেমি রেজাল্ট ভালো।বিশেষ করে মালয়েশিয়াতে তারাই শিক্ষক হন যাদের একাডেমি ব্যাকগ্রাউন্ড যথেষ্ট ভালো। আবার যেই সব দেশে শিক্ষকদের বেতন -ভাতা,সম্মান এবং  সুযোগ -সুবিধা হাই কোয়ালিটির।এর পাশাপাশি সেসব দেশে যারা শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন তাদের পরিশ্রমও বেশি।কাজে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ অনেক কম।শিক্ষার্থীরা শিক্ষক সম্পর্কে খারাপ ফিডব্যাক দিলে চাকরি চলে যায় ।কারণ তাঁর পারফরম্যান্স খারাপ।  আবার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের যোগ্যতাকে ডেভেলপ করে শিক্ষকতায় ফিরে আসতে পারেন।



আমাদের দেশে ভিন্ন চিত্র দেখতে পাবেন। এখানে শিক্ষকতায় তারাই আসেন যাদের অধিকাংশেরই কোনো গতি না থাকায়  শিক্ষকতা পেশায় এসেছেন। এদের অনেকের আবার শিক্ষা জীবনে তৃতীয় শ্রেণিও রয়েছে। যদিও এখন জব কম থাকায় মেধাবীরাও আসতেছেন।তবে সুযোগ পেলে চলে যান।এদেশে শিক্ষকদের মর্যাদা কাগজ-কলমে।বেতন -বাতা একজন দিনমজুরের আয়ের চাইতেও কম।একবার চাকরি পেলে আর কখনো চাকরি যাওয়ার ভয় থাকেনা।তাই কাজে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ অনেক বেশি। এদেশের শিক্ষকরা পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন করার জন্য নিয়মিত পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ নিতে চান না।কোনো প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করার আগে জানতে চান প্রশিক্ষণ শেষে টাকা দেওয়া হবে কিনা!



একটি দেশ কতটা উন্নত সেটা নির্ভর করে সেদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। আর একটা আর্দশ জাতি গঠনের জন্য কাজ করে শিক্ষকরা।তাই শিক্ষকদেরকে জাতি গঠনের কারিগর বলা হয়।দেশের জন্য উন্নত জাতি  এবং সুনাগরিক হিসেবে  শিক্ষকরাই গড়ে তোলেন।কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো তাদেরকে  সুযোগ -সুবিধা দেওয়া হয় কম এবং বেতন -ভাতা একজন দিনমজুরের আয়ের চাইতেও কম দেওয়া হয়।এর ফলে ভালো মেধাবী জনশক্তি এই শিক্ষকতা পেশায় আসতে চান না। যদি কেউ  ঘটনাক্রমে আসেও তাহলে সে  কোনোদিন সুযোগ পেলে আবার  চলে যান। 



শিক্ষকদের সুযোগ -সুবিধা ও বেতন -ভাতা কম দেওয়ায় মেধাবীরা ব্যাংক সহ অন্যান্য পেশায় নিযুক্ত হন।এখন প্রশ্ন হলো ব্যাংকে মেধাবীদের কাজ কি? মেধাবীদের কাজতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সেখানে কী জাতি গঠন করা হয়? তারাতো সেখানে বসে বসে কারো আমানতের টাকা গুণে।একজন ব্যাংকারকে ঋণ নেওয়ায় সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি উচ্চ বেতনও।

কিন্তু একজন শিক্ষকের জন্য তেমন কিছুই নেই। তাই স্বাভাবিক ভাবে কেউ শিক্ষকতা পেশায় না এসে ব্যাংকে যাবে বা এর চাইতে ভালো কোথাও যাবে।



অনেকে বলেন শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের দরকার নেই। কারণ অনেক মেধাবীকে দেখছি তারা ভালো পড়াতে পারেন না।আমি বলি ভাই এটা আপনার ভুল ধারণা নয়তো হিংসা। হ্যা, একজন সদ্য স্নাতক বা স্নাতকোত্তর শেষ   করা মেধাবী কী পড়াতে হবে সেটা জানে কিন্তু কীভাবে পড়াতে হবে সেটা জানেনা।তাই তাকে কীভাবে পড়াতে হবে সেই প্রশিক্ষণ দিতে হবে।কিন্তু তাহলে একজন কম মেধাবী কী ভালো পড়াতে পারেনা? ব্যাক্তি বিশেষ পারে। কিন্তু তুলনামূলক ভাবে কম পারে কারণ তার মাথায় সেই বিষয় গুলো ধরার জন্য যেই সেল দরকার সেটাই নেই।বিশ্বাস তো হবে না জানি। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি এই লোকগুলো শিক্ষকতা পেশায় এসেছেন কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই। কারণ তার বাবা,দাদার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তারা বিএড কোর্স করতে এসেছেন। কিন্তু সঠিকভাবে মোবাইল চালনা সহ নিজের পরিচয়টা আরবিতে দিতে পারেন না। অথচ তারা সহকারী মৌলভী।তাদের জন্য নতুন ক্যারিকুলাম আরো ভয়ের কারণ। তারা তো নিজেরাই অন্ধ তাহলে অপরকে কীভাবে পথ দেখাবেন? তাই নতুন ক্যারিকুলাম বাস্তবায়নে একঝাঁক তরুণ মেধাবী জনশক্তি প্রয়োজন।



বিভিন্ন জটিল থিওরি ও শিক্ষা দর্শন বুঝতে বুদ্ধির প্রয়োজন।মেধার স্তর তিনটি :যথা, এক.উচ্চ মেধা,দুই.মধ্য মেধা,তিন.নিম্ন মেধা।শিক্ষকতা পেশায় প্রয়োজন উচ্চ মেধাবী। তবে মধ্য মেধা হলেও হয়। কিন্তু আমাদের দেশে নিম্ন মেধার শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। ছাত্র জীবনে যে বিজ্ঞান, দর্শন, কলা, গণিত ও ব্যাকরণের জটিল বিষয়গুলো ভয়ে পড়ে নাই তারাই আজ ঘটনাক্রমে  সেই বিষয়ের শিক্ষক। আর ক্লাসে যে চার-পাঁচ জন পড়ে ছিলো তারা আজ প্রশাসনিক লোক অথবা ব্যাংকার।তারা ছাত্র জীবনে যে বিষয়গুলো ভয়ে পড়েনি আজ  শিক্ষক জীবনে পড়াতে এসে ছাত্রদেরকে যেনতেন করে বুঝ দিয়ে চলে আসে।বেশি প্রশ্ন করলে ছাত্রদের উপর রাগ করে।এই নিম্ন মেধার শিক্ষকরা না পারলে যে শিখে আসবে সেই প্রচেষ্টা টুকুও করেনা।করবে কীভাবে করার জন্য তো বুদ্ধির প্রয়োজন। তার তো সেই বুদ্ধিই নেই।তাই শিখার আগ্রহ নেই ।কারো প্রশ্ন হতে পারে তাহলে নিম্ন মেধার জনবল কী করবে?  তারা কী শিক্ষক হতে পারবেনা? তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী অন্য পেশায় নিযুক্ত হবেন। নাকি দুনিয়াতে খালি শিক্ষকতা পেশাই আছে? আর এতে যদি আমিও কম মেধাবী হই যোগ্যতার প্রমাণ দিতে না পারি তাহলে আমিও বাদ যাবো সমস্যা নেই। তবে যোগ্য  কেউ আসুক। আর আমাকে যে শিক্ষকতা পেশাই নিযুক্ত হতে হবে এমনতো কোনো নিয়ম নেই। 



এদেশে কেউ একবার শিক্ষক হতে পারলে তার চাকরি চলে যাওয়ার আর ভয় নেই। তাই সে নিজের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নের জন্য কোনো প্ররিশ্রম করেন না।অনেকে শিক্ষকতা পেশায় আছেন অথচ" শিক্ষা বিজ্ঞান " সম্পর্কে জানেন না।মাঝে মাঝে দুই একজন প্রশিক্ষণ নেন নিজের বেতন বৃদ্ধি করার জন্য শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য নয়।সর্বদা নিজের লাভের কথা চিন্তা করেন। একটি বারও শিক্ষার্থীদের কল্যাণ কীসে হবে সেটার চিন্তা -ভাবনা করেনা।



উন্নত বিশ্বে সকল শিক্ষকের বেতন এক রকম না। যার একাডেমি গবেষণা ও পরিশ্রম বেশি তার বেতন-ভাতা ও বেশি।কিন্তু আমাদের দেশে এমন কোনো নিয়ম নেই। আপনি যত পরিশ্রম করেন না কেন বেতন ১২ হাজারই। আরেকজন বসে বসে থাকলেও সেই ১২ হাজার টাকা মাসে পেয়ে যান। তাহলে আরেকজন কেন বেশি পরিশ্রম করবেন?  যদি এরকম নিয়ম থাকতো চাকরি জীবনে শুরুতে প্রবেশ করার পর সবার বেতন-ভাতা সমান।এরপর যে যত বেশি  একাডেমি গবেষণা ও পাঠদান উন্নয়নে বেশি ভূমিকা রাখবে সে তত বেশি বেতন পাবে।যে কোনো কাজেরই স্বীকৃতি না পেলে সবাই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। 



উন্নত ও আদর্শ জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। জাতি গঠন করার কাজ কিন্তু শিক্ষকরাই করে অন্যরা নয়।আর যারা জাতি গঠন করে তাদের সুযোগ -সুবিধা ও বেতন-ভাতা কম।যারা জাতি গঠনে কাজ করে তাদেরকে বেশি বেতন দেওয়ার পরিবর্তে একজন সেবা দানকারী কে, একজন ব্যাংকারকে বেশি বেতন -ভাতা দেয়া হচ্ছে। তাদেরকে দেওয়া হলো একজন শিক্ষককে কেনো দেয়া হবেনা?

আর যদি না দেওয়া হয় তাহলে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত হতে চাইবেন না।ফলে মূর্খ জাতি হিসেবে এদেশের নাগরিকগণ গড়ে উঠবেন। তারা হবেন দেশ ও হাজির ধ্বংসের কারণ।


আপনি সুযোগ -সুবিধা ও বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করুন।তেল কম ভাজা মচমচে এই থিওরি বাদ দিন।শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করুন। অতঃপর তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনুন।  দেখবেন মেধাবীদের অভাব হবেনা।তখন গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।আর যদি না করেন তাহলে শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখতে হবে শিক্ষা জীবনে তৃতীয় শ্রেণি গ্রহণ যোগ্য। 




লেখক:

আব্দুর রহিম 

সাবেক শিক্ষার্থী 

আরবি বিভাগ 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। 


মন্তব্য করুন

ব্লগ