Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ অক্টোবর, ২০২৪ ০৭:৩৬ অপরাহ্ণ

আমাদের অসাম্প্রদায়িকতা!


১।

গতকাল রাতে সিলেট থেকে বাড়ি ফিরছিলাম।  পথিমধ্যে দেখলাম বিশাল একটা পূজামণ্ডপ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা চলছে। পূজাকে কেন্দ্র করে হরেক রকমের দোকান বসেছে। তার মধ্যে একটি চটপটির দোকান। বড় ব্যানারে লেখা " বিসমিল্লাহ চটপটি হাউজ।" নামটি আমাকে একটু উৎসুক করে তুলল। ভাবলাম সনাতনীদের ধর্মীয় একটা উৎসবে খাস মুসলমানের একটি দোকান। দোকানের সকল কাস্টমার যেমন মুসলমান নয় তেমনি হিন্দু কাস্টমার ও সংখ্যাধিক্য হবে তা অনুমেয়। এটা দেখে মনে হলো সেই এলাকায় অসাম্প্রদায়িক চেতনা মানুষ ধারণ করেন। এটা আমাকে আশান্বিত করেছে।

২।

আজ একটা নিউজে দেখলাম প্রয়োজনে নৌবাহিনী ও পূজা মণ্ডপ পাহারা দেবে। এটা আমাকে আশাহত করেছে। আমাদের দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান  সহ অন্যান্য জাতিসত্তার লোক মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক  লোকের বাস। শুধু হিন্দু ধর্মের জনংখ্যার বিচারে ভারত ও নেপালের পর বাংলাদেশের অবস্থান। তাঁদের ও ধর্মপালনের সমান নাগরিক অধিকার রয়েছে। আমরা (মুসলমানেরা) যদি বিনা বাঁধায় ধর্ম-কর্ম পালন করতে পারি তাহলে অন্য ধর্মের উপাসনালয় পাহারায় এতো এতো পুলিশ, র‍্যাব, আনসার, বিজিবি, নৌবাহিনী বা অন্য সংস্থার লোকের পাহারা লাগবে কেন? 

৩।

আমার পরিচিত একটা মুসলিম পরিবারের বদান্যতা বলে লেখা শেষ করব। সেই পরিবারের যাতায়াতের সহজ পথ হিন্দু বাড়িরর উপর দিয়ে। তারা একই হাটিতে (লাগুয়া বাড়ি) থাকেন। চলাচলের অন্য পথ ও তাদের আছে। কিন্তু তারা প্রতিবেশী হিসেবে একে অন্যের বাড়ি দিয়ে যাতায়ার করেন। একদিন কথাপ্রসঙ্গে মুসলিম বাড়ির মহিলা বললেন কোরবানীর গোশত বা বাজার থেকে গরুর গুশত কিনে আনলে তারা সেই হিন্দু বাড়ির উপর দিয়ে আসেন না। অন্য পথে আসেন। আমি জানতে চাইলাম তাদের কি নিষেধ আছে? তিনি বললেন না, আমরা নিজেদের থেকেই এটা মেনে চলি। সেই অল্প শিক্ষিত মহিলা ও তাদের পরিবারকে এখনো পর্যন্ত আমার সব থেকে অসাম্প্রদায়িক ভাবনার মানুষ মনে হয়েছে।

(শেষে বলতে চাই "ধর্ম যারযার,  বাংলাদেশ সবার"।)

মন্তব্য করুন