Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ অক্টোবর, ২০২৪ ০৭:২৪ পূর্বাহ্ণ

কেন এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ আমাদের জীবনে এতটা গুরুত্বপূর্ণ?

এখনকার ছেলেমেয়েদের মাঝে যে জিনিস লক্ষ করা যায় সেটি হচ্ছে তারা পড়াশোনায় যদিও খুব বেশি অংশগ্রহণ করে কিন্তু খেলাধুলা কিংবা অন্যান্য Extra Curricular Activities এ সেই তুলনায় তাদের অংশগ্রহণ খুবই নগণ্য। এটা যে সবসময় তারা স্বেচ্ছায় করছে তা কিন্তু নয়। এজন্য তাদেরকে চাপ দেয়া হয় অভিভাবক কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে। রেজাল্ট ভালো করলে বৃত্তি পাওয়ার লোভে ছেলেমেয়েরা সারাদিন পড়াশোনায় মগ্ন হয়ে থাকে। আমি পড়াশোনা না করতে বলছি না। অবশ্যই পড়াশোনা করা উচিত। কিন্তু শুধু পড়াশোনাই জীবনের একমাত্র কাজ হতে পারে না। এর সাথে আনুষঙ্গিক আরো নানা কাজে অংশগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু এত এত পড়াশোনার চাপ সামলিয়ে পড়াশোনার বাইরে আর তেমন কিছু যেন করাই হয়ে ওঠে না। ফলে দিন শেষে ছেলেমেয়েরা অর্জন করছে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা। প্রতিকূল কর্ম জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য আনুষঙ্গিক যেসব দক্ষতা প্রয়োজন সেগুলোর বেশ অভাব লক্ষষ্য করা যায় এই ছেলে মেয়েদের মধ্যে। আবার তার উপর আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সমাজে এমন একটা প্রভাব ফেলেছে যেন পড়াশোনার অর্জনের কাছে অন্যান্য সকল অর্জন সব সময় হেরে যায়। এখন অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েরা বিতর্ক প্রতিযোগিতা কিংবা বিজ্ঞান মেলায় প্রথম স্থান অধিকার করলে খুব একটা খুশি হয় না। কিন্তু সেই একই ছেলে মেয়ে যখন পড়াশোনায় প্রথম স্থান অধিকার করে তখন পুরো পরিবার এবং সমাজের বাহবা কুড়ায়। কিন্তু এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না। দু’টি অর্জনই তো সমান বাহবার যোগ্য। এদের মাঝে তো একটা সামঞ্জস্য থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই সামঞ্জস্যতা কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে। এর জন্য দায়ী পরিবার, সমাজ, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং আমরা নিজেরাই। এখন আর ঘরের বাইরে ছেলেমেয়েদের খেলতে দেখা যায় না। সারাদিন তাদের দেখা যায় বইয়ের পাতায় নিমগ্ন কিংবা ইন্টারনেটের দুনিয়ায় হারিয়ে থাকতে। একটা প্রবাদ আছে না? “গ্রন্থগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন, নাহি বিদ্যা নাহি ধন হলে প্রয়োজন”। তাই বিদ্যা যেন বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে আমাদের জীবনেও কাজে লাগে সেজন্য অংশগ্রহণ করতে হবে এক্সট্রা কারিকুলার কর্মকাণ্ডে। চলুন এক নজরে দেখে নিই কেন এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ আমাদের জীবনে এতটা গুরুত্বপূর্ণ। ১) সিভি ভারী করে: আমরা হয়তো বা অনেকেই জানি না যে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলোতে স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমন সব ছাত্র-ছাত্রীকে অগ্রাধিকার দেয় যাদের রেজিউমে একাডেমিক পড়াশোনা সহ এক্সট্রা কারিকুলার অন্যান্য এক্টিভিটিস দ্বারা পরিপূর্ণ। তাই যারা বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী কিংবা কর্পোরেট সেক্টরে চাকরি করতে আগ্রহী, তাদের উচিতপড়াশোনার পাশাপাশি Extra Curricular Activities এ মনোনিবেশ করা। ২) কর্মদক্ষতা বাড়ায়: ছোটবেলা থেকেই যারা খেলাধুলা এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে থাকে, তারা সাধারণত অন্যান্য সাধারণ ছেলে মেয়ে থেকে শারীরিকভাবে কর্মঠ হয়ে থাকে। কায়িক পরিশ্রমের ফলে বিপাক প্রক্রিয়া এবং রক্ত প্রবাহ বাড়ে। এতে আরো বাড়ে স্টামিনা এবং মানসিক সর্তকতা। শক্তি বাড়ার ফলে দূর হয় অবসন্নতা। ফলে স্বাভাবিক জীবনে এবং কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত মানুষ গুলো অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি ভাল করে থাকে। তাদের একটানা অনেকক্ষণ কাজ করতেও খুব একটা সমস্যা হয় না।

মন্তব্য করুন

ব্লগ