Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ অক্টোবর, ২০২৪ ০৯:১৫ পূর্বাহ্ণ

মাঙ্কি পক্স (Monkeypox)

মাঙ্কিপক্স (Monkeypox) একটি বিরল ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত পশু থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। এটি প্রথম ১৯৫৮ সালে গবেষণাগারে বন্দি বানরের মধ্যে পাওয়া যায়, তাই এর নাম "মাঙ্কিপক্স"। ১৯৭০ সালে মানুষের মধ্যে প্রথমবারের মতো এটি শনাক্ত হয়েছিল। মাঙ্কিপক্স ভাইরাস Orthopoxvirus গোত্রের অংশ, যা স্মলপক্স ভাইরাসের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত।


১. লক্ষণ:


মাঙ্কিপক্সের লক্ষণগুলো স্মলপক্সের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তবে মাঙ্কিপক্স সাধারণত কম গুরুতর।


জ্বর


মাথাব্যথা


পেশীর ব্যথা


পিঠে ব্যথা


ক্লান্তি


লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া (lymphadenopathy)


র‍্যাশ (skin lesions), যা প্রথমে মুখে শুরু হয়ে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে



র‍্যাশগুলো প্রথমে ফুসকুড়ি বা ছোট গুটি আকারে শুরু হয়, এরপর সেগুলো পুঁজপূর্ণ হয়ে ফেটে যায় এবং পরে ক্রাস্ট তৈরি করে শুকিয়ে যায়।


২. সংক্রমণের ধরন:


মাঙ্কিপক্স প্রধানত পশু থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়, তবে মানুষে মানুষের মধ্যেও এটি ছড়াতে পারে। সংক্রমণের প্রধান মাধ্যমগুলো হল:


সংক্রমিত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়


সংক্রমিত পশুর মাংস বা অন্যান্য পণ্য স্পর্শ করা


সংক্রমিত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ শারীরিক যোগাযোগ


শ্বাসনালীর মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে, তবে এটি তুলনামূলক কম সাধারণ।



৩. ভাইরাসের দুই ধরনের স্ট্রেইন:


কঙ্গো বেসিন স্ট্রেইন: বেশি মারাত্মক এবং উচ্চ মৃত্যুর হার (১০% পর্যন্ত)।


পশ্চিম আফ্রিকান স্ট্রেইন: তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর এবং কম মৃত্যুর হার (প্রায় ১%)।



৪. প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:


প্রতিরোধ:


স্মলপক্স ভ্যাকসিন মাঙ্কিপক্সের বিরুদ্ধে কিছুটা সুরক্ষা দেয়। স্মলপক্সের ভ্যাকসিন যারা নিয়েছেন, তাদের মাঙ্কিপক্সে সংক্রমণের ঝুঁকি কম।


মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।


হাত ধোয়া এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।


আক্রান্ত প্রাণী থেকে দূরে থাকা।



চিকিৎসা:


মাঙ্কিপক্সের জন্য নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা নেই, তবে লক্ষণগুলোকে উপশম করার জন্য সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।


কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ (যেমন: টেকোভিরিম্যাট, সিডোফোভির) প্রয়োগ করা হতে পারে।



৫. সম্প্রতি সংক্রমণ ও পরিস্থিতি:


২০২২ সালে মাঙ্কিপক্সের একটি উল্লেখযোগ্য প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, যা বিশেষত ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রাথমিকভাবে, মাঙ্কিপক্স আফ্রিকার কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল, তবে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবগুলো অন্য অঞ্চলেও দেখা যাচ্ছে।


৬. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সতর্কতা:


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন নির্দেশিকা প্রদান করেছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা চলছে।


সারসংক্ষেপ: মাঙ্কিপক্স একটি বিরল তবে ছোঁয়াচে রোগ, যা তুলনামূলকভাবে কম প্রাণঘাতী হলেও বিশেষত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


মন্তব্য করুন