Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ অক্টোবর, ২০২৪ ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ

ইসকেমিক হার্ট ডিজিস যে কারণে হয়।

ইসকেমিক হার্ট ডিজিস যে কারণে হয়

হৃদপিণ্ড আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। চার প্রকোষ্ঠের হৃদযন্ত্র। এককথায় মস্তিষ্কের পরই এটির স্থান। হৃদযন্ত্র মানবদেহের জন্য অনেক জরুরি কাজ করে থাকে। বিশ্বের সমগ্র জনগোষ্ঠীর ১.৭২ শতাংশ বা ১২৬ মিলিয়ন ‘ইসকেমিক হার্ট ডিজিস’ বা হৃদযন্ত্রে অক্সিজেন স্বল্পতা রোগে আক্রান্ত। হৃদযন্ত্রে অক্সিজেনের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য হলেই হৃদযন্ত্রে অক্সিজেনের স্বল্পতা রোগ হয়। হৃদযন্ত্রের রক্তনালিতে রক্ত চলাচল বন্ধ বা বাধাপ্রাপ্ত হলে রক্তনালির সংকোচন বা ব্লক কমপক্ষে ৭০ শতাংশ হলেই হৃদযন্ত্রের মাংসপেশিতে রক্ত তথা অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। অক্সিজেন স্বল্পতার প্রাথমিক অবস্থা হচ্ছে ইসকেমিয়া বা অ্যানজাইনা। আর তীব্র বা প্রকট অবস্থা হচ্ছে ইনফারকশন বা হার্ট অ্যাটাক।

হৃৎপিণ্ডের কাজ : এটির কাজ হলো দেহের প্রতিটি কোষে খাদ্যকণা পৌঁছে দেওয়া। ফুসফুস থেকে বিশুদ্ধ অক্সিজেন কোষে কোষে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। বিশুদ্ধকরণের জন্য কোষ থেকে দূষিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ফুসফুসে পৌঁছে দেয়। দেহের তাপমাত্রা ও শরীরের মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হৃৎপিণ্ড নিজেই নিজেকে দুটি রক্তনালির মাধ্যমে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য খাদ্য উপাদান সরবরাহ করে থাকে। এ দুটি রক্তনালির কমপক্ষে একটি আংশিক বা পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেলেই সমস্যা হয়।

যারা ঝুঁকিতে : নারী বা পুরুষের অতিরিক্ত স্থূলতা, খাবারে অনিয়ম, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অত্যধিক চর্বি, পরিশ্রমহীনতা, পারিবারিক ইতিহাস- এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

লক্ষণ : বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ অনুভূত হওয়া, বুক ভারী ভারী লাগা, ঘাড়ে ব্যথা, চেয়ালে ব্যথা- এসব লক্ষণ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসা : বুকে ব্যথাই এ রোগের আভাস দেয়। হৃদযন্ত্রে অক্সিজেন স্বল্পতা ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করে। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় বিশ্রাম বা জিহ্বার নিচে নাইট্রেট স্প্রে বা ট্যাবলেট দিলেই বুকের ব্যথা কমে যায়। কিন্তু জটিল পর্যায়ে বিশ্রাম এবং নাইট্রেট জিহ্বার নিচে ব্যবহার করেও বুকে ব্যথা কমানো যায় না। আক্রান্ত রোগীর জন্য পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছার ব্যবস্থাও করতে হবে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ রোগীর অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসা দেবেন।

প্রতিকার : রুটিন মাফিক জীবনযাপন ও প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করতে হবে। বেশি শাকসবজি খেতে হবে। গিলা, কলিজা, গরু ও খাসির মাংস খাওয়া ছাড়তে হবে। তেল, চর্বি, মিষ্টিজাতীয় খাবার কম খেতে হবে। ধূমপান ও জর্দা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিমিত বিশ্রাম নিতে হবে এবং পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা থাকলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে থাকতে হবে। উত্তেজনা তৈরি হয়- এমন ধরনের কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। আলগা লবণ খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে। দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, হৃদযন্ত্রে অক্সিজেনের স্বল্পতা চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই সহজ ও নিরাপদ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ