Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ অক্টোবর, ২০২৪ ০৯:১৫ অপরাহ্ণ

মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষা খুব জরুরি

দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে বিজ্ঞান ও ধর্মের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বাস্তবমুখী, সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হয়ে ওঠার যে শিক্ষাব্যবস্থা, তা তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষকরা। তিনি বলছেন, আমাদের শিক্ষার উদ্দেশ্য যতখানি সার্টিফিকেট অর্জন, তার চেয়ে অনেকখানি কম মানুষ হওয়া। অথচ আমাদের লক্ষ্য হওয়ার দরকার ছিল মানুষ হওয়া।

এ প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করে রংপুর কারমাইকেল কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মো. শাহ আলম বলেন, ‘আমাদের সময়টাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর স্মৃতি অনেক মধুর। ধরুন, ২৫ বছর আগের কথা। ওই সময়টা বিদ্যালয়, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক—এই চারে যেমন দারুণ একটা সমন্বয় ছিল, তেমনি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা, স্নেহ, শাসনও ছিল বেশ কড়া। একাডেমিক শিক্ষায় ছিল বর্ণনাভিত্তিক। কিন্তু আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় গড়ে তোলার ব্যাপক প্রতিযোগিতা চলছে। এতে মানবিকতা অনেকটা পিছিয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পনাও।’

রংপুরের বদরগঞ্জের লোহানী পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় একটি মারাত্মক ক্ষতিকর দিক হলো কম পড়ে সহজে পাস করার জন্য অনেক শিক্ষার্থী পাঠ্যবই পরিহার করে ঝুঁকে পড়ছে নোট-গাইড বা সহপাঠের দিকে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আরেকটি সমস্যা হলো পাবলিক পরীক্ষা বৃদ্ধি। আমাদের দেশে আগে দুটো পাবলিক পরীক্ষা ছিল, এখন হয়েছে চারটি। শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ একে সমর্থন করেন না।’

রংপুর আফান উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোফাখখারুল ইসলাম সোহেল বলেন, ‘ ওই সময়ের স্কুল বলেন আর স্যারদের কথাই বলেন, তাদের আমরা বাঘের মতো ভয় পেতাম। ক্লাস ফাঁকি তো দূরের কথা স্যারদের সামনে দিয়েও হেঁটে যেতে ভয় পেতাম। আমাদের যেমন শাসন করা হয়েছে, তেমনি স্নেহও করেছেন তারা। পড়ালেখা না পারলে ভীষণ মার খেতেও হয়েছে। কিন্তু সেটি বাড়িতে বাবা-মাকে বলা তো দূরের কথা মুখে আনার সাহসও পেতাম না। স্যারদের ভয়ে রাতেই পড়া মুখস্থ করে যেতাম।’





মন্তব্য করুন

ব্লগ