Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:০৮ অপরাহ্ণ

আলিয়া মাদ্রাসায় ঝরা- জ্বীর্ণ অ্যাকাডেমিক ভবন ও ক্লাসরুম এবং অবকাঠামোগত বৈষম্য।

শিরোনাম :❝আলিয়া মাদ্রাসায় ঝরা- জ্বীর্ণ অ্যাকাডেমিক ভবন ও ক্লাসরুম এবং  অবকাঠামোগত বৈষম্য ❞:


ওহীর জ্ঞান সবচেয়ে নির্ভুল ও দামি জ্ঞান। আর এই দামি জ্ঞান বিতরণের কেন্দ্রও দামি হওয়া চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো বেশির ভাগ  আলিয়া মাদরাসার আধুনিক অ্যাকাডেমিক ভবন নেই। যা আছে অধিকাংশ টিন সেট বা অর্ধ পাকা,কিছু বিল্ডিং আছে ছাদ সহকারে কিন্তু তাও পুরাতন ও রং করা না।শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলো বাতাস নেই। দেয়াল ও বিল্ডিং অনেক পুরাতন পেইন্টিং করা না।


শিক্ষা বিজ্ঞান মতে আগে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য ভৌত বা অবকাঠামোগত পরিবেশ বা প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।যাতে একজন শিক্ষার্থীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে এবং মনোযোগ ধরে রাখতে পারে। ক্লাসরুমে পর্যাপ্ত আলো -বাতাস, দেয়াল পেইন্টিং করা, দেয়ালে বিভিন্ন শিক্ষামূলক বাণী বা লেখা থাকা।যাতে যে কেউ প্রবেশ করলে বুঝতে পারে এখানে জ্ঞান বিতরণ করা হয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে ঠিক তার উল্টো! ক্লাস রুমে লাইট নেই, পাখা নেই, দেয়ালের সিমেন্টের প্রলেব উঠে যাচ্ছে, পানি পরে,জানালা ভাঙ্গা, দরজা ঠিকভাবে আটকানো যায় না।মনে হয় সিরিয়ার কোনো ধ্বংসস্তুপ বা তার চাইতেও খারাপ। এরকম প্রতিষ্ঠানে বা ক্লাসরুমে একজন শিক্ষার্থী কেনো ভর্তি হবে? তার মন ও স্বপ্ন ছোটো হয়ে যাবে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ দেখে।তার মনে এই ধারণর জন্ম নিবে যে, যদি তাদের ভবনের ও শিক্ষার পরিবেশ  এমন নোংরা হয়। তাহলে তারা কেমন?  তাদের মন মানসিকতা কেমন? তারা কেমন শিক্ষা -দীক্ষা দেয়।


একজন প্রতিষ্ঠানের সবার আগে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করবে ।মাদ্রাসায় যেহেতু পবিত্র কুরআন ও হাদিস পড়ানো হয় তাই অ্যাকাডেমিক ভবনের সাথে ওয়াশিং রুম এবং শৌচাগার থাকতে হবে। আর শৌচাগার ও অযুখানা অবশ্যই উন্নত মানের হতে হবে,টাইলস বসানো থাকবে। অনেক মাদরাসার মসজিদ সংলগ্ন অযুখানা রয়েছে কিন্তু অ্যাকাডেমিক ভবনের সাথে নেই!মেয়েদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখতে হবে।গ্লাস লাগানো থাকবে, অযুখানা থাকবে,হ্যান্ডওয়াশ থাকবে, পর্যাপ্ত টিসু থাকবে।

এখন যদি এইসব বিষয় নিশ্চিত করা না হয় তাহলে অযু করবে কীভাবে?  যদি বাহিরে অযু করতে যায়, তাহলে দেখা যাবে সে আর ক্লাসে ফিরে আসে নাই। এবং অযু ছাড়াই পড়াশোনা চলবে।এতে গুনাহগার হবে  ও বরকত থেকে বঞ্চিত হবে।

উন্নত বিশ্বে সবার আগে তারা এই বিষয়গুলো  নিশ্চিত করে।অথচ মুসলিমের প্রত্যেকটি হাদিস ও ফিকাহর গ্রন্থের প্রথম অধ্যায় কিতাবুত তহারাত!


বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শৌচাগারের অবস্থা ও ভালো না! এমনকি অনেক মুসলিম তার বাস করার ঘর তৈরি করে লক্ষ লক্ষ  টাকা খরচ করে কিন্তু তার বাড়ির টয়লেটের অবস্থা নাজুক।


ক্লাসরুমে পবিত্র কুরআন শিখানোর জন্য আধুনিক শিক্ষা উপকরণ নেই। নেই সাউন্ড সিস্টেম। আর আপনি এই সাওয়াবের কাজ ও জরুরি বিষয়গুলোর জন্য মানুষের সহযোগিতা চাইলে পাবেন না।অথচ সেই লোকরাই মসজিদে টাইলস লাগানোর জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা দান করেছেন।এখন প্রশ্ন হলো মসজিদ কার জন্য? উত্তর:মুসল্লীর জন্য। যদি মুসল্লীই না থাকে ইমানদারই না থাকে তাহলে মসজিদ কার জন্য? মুসল্লী তৈরি করার জন্য আপনার প্ল্যান কী? মাদ্রাসা হলো মুসল্লী তৈরি করার কারখানা। আগে সেখানে দান করুন এটা বেশি জরুরি এবং সাওয়াবও বেশি হবে।কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমরা বেখবর।যদি ইমাম কোনো কারণে মসজিদে অনুপস্থিত থাকেন। তখন সলাত পড়ানোর মতো একজন মুসল্লী পাওয়া যায় না। তাই স্কুল ও কলেজে ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা দরকার। একজন মুসলিম হিসেবে মাদ্রাসা হোক আর স্কুল -কলেজের শিক্ষার্থী হোক দ্বীনের  জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।অনেকে স্কুলের পরিবেশ খারাপ থাকায় বলেন ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেও লাভ নাই! আমি বলবো আছে এবং এর সফলতা জন্য আরো কিছু কাজ হাতে নিতে হবে।যেমন: পর্দা, সহশিক্ষা, চরিত্র হিফাজত ইত্যাদি কর্মসূচি।তারা এর মোকাবিলায় নূরানী কিন্ডারগার্টেন শাখা চালু করেছেন।ভালো কিন্তু নূরানী কিন্ডারগার্টেনে পড়াশোনা করে কত জন স্কুলে ভর্তি হন? সেখানে কোন কোন বিষয়ে গভীর জ্ঞান দেওয়া হয়? নূরানী কিন্ডারগার্টেন কোন ক্লাস পর্যন্ত? তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত। এখন শিশুকালের এই পড়া টিনেজের সময় মনে থাকে? সেই বয়সে যে পড়াশোনা দরকার সেটা কী তৃতীয় শ্রেণিতে আছে।আগে জানতাম নূরানী কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসা শিক্ষার ভিত মজবুত করার জন্য চালু করা হয়।


অবকাঠামোগত বৈষম্য মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি। শিক্ষা প্রকৌশল থেকে বরাদ্দকৃত ভবন সবগুলো কী স্কুল আর কলেজের জন্য?  এটা কেমন বৈষম্য!  স্কুল ও কলেজে নতুন অ্যাকাডেমিক পেলে অবশ্যই মাদ্রাসাকেও দিতে হবে।


√এই সমস্যা নিরসনে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে :


১.পরিকল্পনা হাতে নেওয়া। 


২.ডোনার খোঁজা।যাতে সরকারের বরাদ্দের বাহিরে কিছু উন্নয়ন করা যায়। 


৩.আধুনিক ভবন তৈরি করা এবং শিক্ষা প্রকৌশলের নিকট আবেদন করা।


৪.মাদ্রাসায় স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ করা এবং অ্যাকাডেমিক ভবনের সাথে অযুখানার ব্যবস্থা করা। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত অযু করে ক্লাসে ঢুকে কিনা তা যাচাই করা।


৫.মাদ্রাসার ভবন পেইন্টিং করা। 


৬.মাদ্রাসার দেয়ালে বিভিন্ন কুরআন, হাদিস ও গুরুত্বপূর্ণ বাণী লেখা।


৭.মেয়েদের জন্য পৃথক শৌচাগার তৈরি করা এবং আয়না ফিট করা।


৮.মেয়েদের জন্য নামাযের ব্যবস্থা করা। 


৯.ক্লাসরুম পেইন্টিং করা। বিশেষ করে ইবতেদায়ী স্তর।


১০.ক্লাসরুমে আধুনিক শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করা এবং সাউন্ড সিস্টেম রাখা।


১১.এইগুলা সম্ভব না হলে কুরআন ক্লাসের জন্য আপাতত মসজিদকে ব্যবহার করা। 


লেখক 

আব্দুর রহিম 

আরবি বিভাগ 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

ব্লগ