Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ অক্টোবর, ২০২৪ ০৮:২৫ অপরাহ্ণ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মহান আল্লাহ বলেন, ইজ্জত আমার পরিধেয় এবং কিবরিয়া (অহংকার) আমার চাদর। যে কেউ আমার সাথে এই দু’টি জিনিস নিয়ে বিবাদ করবে, আমি তাকে শাস্তি দিবো।


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মহান আল্লাহ বলেন, ইজ্জত আমার পরিধেয় এবং কিবরিয়া (অহংকার) আমার চাদর। যে কেউ আমার সাথে এই দু’টি জিনিস নিয়ে বিবাদ করবে, আমি তাকে শাস্তি দিবো।

আল-আদাবুল মুফরাদ বিবিধ বিষয়

পরিচ্ছেদঃ ২৪৭

৫৪০। আসওয়াদ (রহঃ) বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরিবারবর্গের সাথে অবস্থানকালে কি কাজ করতেন? তিনি বলেন, পরিবারের কাজকর্ম করতেন এবং নামাযের ওয়াক্ত হলে বের হয়ে যেতেন। (বুখারী, তিরমিযী)

بَابُ مَا يَعْمَلُ الرَّجُلُ فِي بَيْتِهِ

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ رَجَاءٍ، وَحَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالاَ‏:‏ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ قَالَ‏:‏ سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا‏:‏ مَا كَانَ يَصْنَعُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي أَهْلِهِ‏؟‏ فَقَالَتْ‏:‏ كَانَ يَكُونُ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ، فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلاةُ خَرَجَ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৪৭- যে ব্যক্তি নিজ ঘরের কাজকর্ম করে।

৫৪১। হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে অবস্থানকালে কি কাজ করতেন? তিনি বলেন, তিনি তার জুতা মেরামত করতেন এবং লোকজন নিজ ঘরে সাধারণত যা করে থাক, তিনিও তাই করতেন (আবু দাউদ)।

بَابُ مَا يَعْمَلُ الرَّجُلُ فِي بَيْتِهِ

حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ‏:‏ سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا‏:‏ مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعْمَلُ فِي بَيْتِهِ‏؟‏ قَالَتْ‏:‏ يَخْصِفُ نَعْلَهُ، وَيَعْمَلُ مَا يَعْمَلُ الرَّجُلُ فِي بَيْتِهِ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৪৭- যে ব্যক্তি নিজ ঘরের কাজকর্ম করে।

৫৪২। হিশাম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে কি কাজ করতেন? তিনি বলেন, তোমাদের কোন ব্যক্তি নিজ ঘরে যা করে থাকে, তিনি জুতা মেরামত করতেন, কাপড়ে তালি দিতেন এবং সেলাই করতেন (আবু দাউদ)।

بَابُ مَا يَعْمَلُ الرَّجُلُ فِي بَيْتِهِ

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ‏:‏ سَأَلْتُ عَائِشَةَ‏:‏ مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ فِي بَيْتِهِ‏؟‏ قَالَتْ‏:‏ مَا يَصْنَعُ أَحَدُكُمْ فِي بَيْتِهِ‏؟‏ قَالَتْ‏:‏ مَا يَصْنَعُ أَحَدُكُمْ فِي بَيْتِهِ، يَخْصِفُ النَّعْلَ، وَيَرْقَعُ الثَّوْبَ، وَيَخِيطُ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৪৭- যে ব্যক্তি নিজ ঘরের কাজকর্ম করে।

৫৪৩। আমর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়েশা (রাঃ)-কে বলা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে কি কাজ করতেন? তিনি বলেন, তিনি তো লোকজনের মতো একজন মানুষই ছিলেন। তিনি তাঁর কাপড় পরিষ্কার করতেন এবং তাঁর বকরীর দুধ দোহন করতেন (শামাইলে তিরমিযী, বাযযার)।

بَابُ مَا يَعْمَلُ الرَّجُلُ فِي بَيْتِهِ

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، قِيلَ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا‏:‏ مَاذَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَعْمَلُ فِي بَيْتِهِ‏؟‏ قَالَتْ‏:‏ كَانَ بَشَرًا مِنَ الْبَشَرِ، يَفْلِي ثَوْبَهُ، وَيَحْلِبُ شَاتَهُ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৪৮- কেউ তার কোন ভাইকে মহব্বত করলে তাকে যেন তা অবগত করে।

৫৪৪। মিকদাম ইবনে মাদীকারিব (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার অপর (মুসলিম) ভাইকে মহব্বত করলে সে যেন তাকে জানিয়ে দেয় যে, সে তাকে মহব্বত করে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)

بَابُ إِذَا أَحَبَّ الرَّجُلُ أَخَاهُ فَلْيُعْلِمْهُ

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ ثَوْرٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ، وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَهُ، قَالَ‏:‏ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم‏:‏ إِذَا أَحَبَّ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُعْلِمْهُ أَنَّهُ أَحَبَّهُ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৪৮- কেউ তার কোন ভাইকে মহব্বত করলে তাকে যেন তা অবগত করে।

৫৪৫। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক সাহাবী আমার সাথে সাক্ষাত করলেন। তিনি আমার পেছন দিক থেকে আমার কাঁধ ধরে বলেন, শোন! আমি তোমাকে ভালোবাসি। রাবী বলেন, আমি বললাম, যে সত্তার (সন্তুষ্টির) জন্য আপনি আমাকে ভালোবাসেন, তিনি যেন আপনাকে ভালোবাসেন। সাহাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি একথা না বলতেনঃ “কেউ কাউকে ভালোবাসলে সে যেন তাকে অবহিত করে যে, সে তাকে ভালোবাসে”, তবে আমি তোমাকে তা অবহিত করতাম না। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি আমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, শোন! আমার কাছে একটি বালিকা আছে। তবে তার এক চোখ অন্ধ।

بَابُ إِذَا أَحَبَّ الرَّجُلُ أَخَاهُ فَلْيُعْلِمْهُ

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِشْرٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدِ اللهِ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ‏:‏ لَقِيَنِي رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذَ بِمَنْكِبِي مِنْ وَرَائِي، قَالَ‏:‏ أَمَا إِنِّي أُحِبُّكَ، قَالَ‏:‏ أَحَبَّكَ الَّذِي أَحْبَبْتَنِي لَهُ، فَقَالَ‏:‏ لَوْلاَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ إِذَا أَحَبَّ الرَّجُلُ الرَّجُلَ فَلْيُخْبِرْهُ أَنَّهُ أَحَبَّهُ مَا أَخْبَرْتُكَ، قَالَ‏:‏ ثُمَّ أَخَذَ يَعْرِضُ عَلَيَّ الْخِطْبَةَ قَالَ‏:‏ أَمَا إِنَّ عِنْدَنَا جَارِيَةً، أَمَا إِنَّهَا عَوْرَاءُ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৪৮- কেউ তার কোন ভাইকে মহব্বত করলে তাকে যেন তা অবগত করে।

৫৪৬। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুই ব্যক্তি পরস্পরকে মহব্বত করলে, তাদের মধ্যে যে অপরজনকে অধিক মহব্বত করে সে অধিক উত্তম। (হাকিম, ইবনে হিব্বান)

بَابُ إِذَا أَحَبَّ الرَّجُلُ أَخَاهُ فَلْيُعْلِمْهُ

حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مُبَارَكٌ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ‏:‏ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم‏:‏ مَا تَحَابَّا الرَّجُلاَنِ إِلاَّ كَانَ أَفْضَلُهُمَا أَشَدَّهُمَا حُبًّا لِصَاحِبِهِ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৪৯- কেউ কাউকে মহব্বত করলে সে যেন তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত না হয় এবং তার নিকট কিছু না চায়।

৫৪৭। মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) বলেন, তুমি তোমার কোন (মুসলিম) ভাইকে মহব্বত করলে তার সাথে ঝগড়া করবে না, তার ক্ষতি সাধনের চিন্তাও করবে না এবং তার কাছে কিছু চাইবেও না। এমন যেন না হয় যে, তুমি শত্রুর খপ্পরে পড়ে যাও এবং সে তোমাকে তার সম্পর্কে এমন কথা বলবে যা তার মধ্যে নেই। এভাবে সে তোমার ও তার মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে (জামে সগীর, হিলইয়া)।

بَابُ إِذَا أَحَبَّ رَجُلا فَلا يُمَارِهِ ولا يَسْأَلُ عَنْهُ

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ، أَنَّ أَبَا الزَّاهِرِيَّةِ حَدَّثَهُ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّهُ قَالَ‏:‏ إِذَا أَحْبَبْتَ أَخًا فَلاَ تُمَارِهِ، وَلاَ تُشَارِّهِ، وَلاَ تَسْأَلْ عَنْهُ، فَعَسَى أَنْ تُوَافِيَ لَهُ عَدُوًّا فَيُخْبِرَكَ بِمَا لَيْسَ فِيهِ، فَيُفَرِّقَ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৪৯- কেউ কাউকে মহব্বত করলে সে যেন তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত না হয় এবং তার নিকট কিছু না চায়।

৫৪৮। আবদুল্লাহ ইবন আমর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি তাঁর অপর ভাইকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে মহব্বত করে এবং বলে, আমি তোমাকে আল্লাহর (সন্তুষ্টি লাভের) উদ্দেশ্যে মহব্বত করি, তারা উভয়ে জান্নাতে দাখিল হবে। যার মহব্বত অধিক প্রবল হবে সে তার ভাইকে মহব্বত করার কারণে অধিক মর্যাদাবান হবে।

بَابُ إِذَا أَحَبَّ رَجُلا فَلا يُمَارِهِ ولا يَسْأَلُ عَنْهُ

حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ مَنْ أَحَبَّ أَخًا لِلَّهِ، فِي اللهِ، قَالَ‏:‏ إِنِّي أُحِبُّكَ لِلَّهِ، فَدَخَلاَ جَمِيعًا الْجَنَّةَ، كَانَ الَّذِي أَحَبَّ فِي اللهِ أَرْفَعَ دَرَجَةً لِحُبِّهِ، عَلَى الَّذِي أَحَبَّهُ لَهُ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৫০- অন্তর হলো বুদ্ধির উৎসস্থল।

৫৪৯। ইয়াদ ইবনে খলীফা (রহঃ) থেকে আলী (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি তাকে সিফফীন নামক স্থানে বলতে শুনেছেন, অন্তর হলো বুদ্ধির উৎসস্থল, করুণার স্থান হৃদপিণ্ড, মায়া-মমতার স্থান যকৃত এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের স্থান ফুসফুস।

بَابُ الْعَقْلُ فِي الْقَلْبِ

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ خَلِيفَةَ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ سَمِعَهُ بِصِفِّينَ يَقُولُ‏:‏ إِنَّ الْعَقْلَ فِي الْقَلْبِ، وَالرَّحْمَةَ فِي الْكَبِدِ، وَالرَّأْفَةَ فِي الطِّحَالِ، وَالنَّفَسَ فِي الرِّئَةِ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৫১- অহংকার-অহমিকা।

৫৫০। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। তখন বনভূমি থেকে সীজান (এক প্রকার মাছ) রং-এর জুব্বা পরিহিত এক ব্যক্তি এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মাথার কাছে দাঁড়ালো এবং বললো, তোমাদের সাথী প্রত্যেক আরোহীকে অবদমিত করেছে বা আরোহীদেরকে অবদমিত করার সংকল্প করেছে এবং প্রত্যেক রাখালকে সমুন্নত করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জুব্বার হাতা ধরে বলেনঃ আমি কি তোমাকে নির্বোধের পোশাক পরিহিত দেখছি না?

অতঃপর তিনি বলেনঃ আল্লাহর নবী হযরত নূহ (আঃ) এর ইন্তিকালের সময় উপস্থিত হলে তিনি তাঁর পুত্রকে বলেনঃ আমি তোমাকে একটি উপদেশ দিচ্ছি। আমি তোমাকে দুটি বিষয়ের আদেশ দিচ্ছি এবং দুটি বিষয় নিষেধ করছি। আমি তোমাকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”-এর নির্দেশ দিচ্ছি। কেননা, সাত আসমান ও সাত জমিনকে যদি এক পাল্লায় তোলা হয় এবং অপর পাল্লায় “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” তোলা হয়, তবে সেই তাওহীদের পাল্লাই ভারী হবে। সাত আসমান ও সাত জমিন যদি একটি জটিল গ্রন্থির রূপ ধারণ করে, তবে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” এবং “সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী” তা চুরমার করে দিবে। কেননা তা প্রত্যেক বস্তুর নামায এবং সকলেই এর বদৌলতে রিযিক লাভ করে থাকে।

আর আমি তোমাকে বারণ করছি শিরক এবং অহংকারে লিপ্ত হতে। আমি বললাম অথবা বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! শিরক তো আমরা বুঝলাম, তবে অহংকার কি? আমাদের মধ্যকার কারো যদি কারুকার্য খচিত চাদর থাকে, আর তা পরিধান করে? তিনি বলেনঃ না। সে আবার বললো, যদি আমাদের কারো সুন্দর ফিতাযুক্ত সুন্দর একজোড়া জুতা থাকে? তিনি বলেনঃ না। সে পুনরায় বললো, যদি আমাদের কারো আরোহণের একটি জন্তুযান থাকে? তিনি বলেনঃ না। সে বললো, যদি আমাদের কারো বন্ধু-বান্ধব থাকে এবং তারা তার সাথে ওঠা-বসাও করে (তবে তা কি অহংকার হবে)? তিনি বলেনঃ না।

সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে অহংকার কি? তিনি বলেনঃ সত্য থেকে বিমুখ থাকা এবং মানুষকে হেয় জ্ঞান করা। (আহমাদ, নাসাঈ, বাযযার, হাকিম, হিব্বান, তাহাবী)

بَابُ الْكِبْرِ

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ الصَّقْعَبِ بْنِ زُهَيْرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ قَالَ‏:‏ لاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ‏:‏ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ عَلَيْهِ جُبَّةُ سِيجَانٍ، حَتَّى قَامَ عَلَى رَأْسِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ‏:‏ إِنَّ صَاحِبَكُمْ قَدْ وَضَعَ كُلَّ فَارِسٍ، أَوْ قَالَ‏:‏ يُرِيدُ أَنْ يَضَعَ كُلَّ فَارِسٍ، وَيَرْفَعَ كُلَّ رَاعٍ، فَأَخَذَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَجَامِعِ جُبَّتِهِ فَقَالَ‏:‏ أَلاَ أَرَى عَلَيْكَ لِبَاسَ مَنْ لاَ يَعْقِلُ، ثُمَّ قَالَ‏:‏ إِنَّ نَبِيَّ اللهِ نُوحًا صلى الله عليه وسلم لَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ لِابْنِهِ‏:‏ إِنِّي قَاصٌّ عَلَيْكَ الْوَصِيَّةَ، آمُرُكَ بِاثْنَتَيْنِ، وَأَنْهَاكَ عَنِ اثْنَتَيْنِ‏:‏ آمُرُكَ بِلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، فَإِنَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ وَالأَرَضِينَ السَّبْعَ، لَوْ وُضِعْنَ فِي كِفَّةٍ وَوُضِعَتْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فِي كِفَّةٍ لَرَجَحَتْ بِهِنَّ، وَلَوْ أَنَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ وَالأَرَضِينَ السَّبْعَ كُنَّ حَلْقَةً مُبْهَمَةً لَقَصَمَتْهُنَّ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَسُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، فَإِنَّهَا صَلاَةُ كُلِّ شَيْءٍ، وَبِهَا يُرْزَقُ كُلُّ شَيْءٍ، وَأَنْهَاكَ عَنِ الشِّرْكِ وَالْكِبْرِ، فَقُلْتُ، أَوْ قِيلَ‏:‏ يَا رَسُولَ اللهِ، هَذَا الشِّرْكُ قَدْ عَرَفْنَاهُ، فَمَا الْكِبْرُ‏؟‏ هُوَ أَنْ يَكُونَ لأَحَدِنَا حُلَّةٌ يَلْبَسُهَا‏؟‏ قَالَ‏:‏ لاَ، قَالَ‏:‏ فَهُوَ أَنْ يَكُونَ لأَحَدِنَا نَعْلاَنِ حَسَنَتَانِ، لَهُمَا شِرَاكَانِ حَسَنَانِ‏؟‏ قَالَ‏:‏ لاَ، قَالَ‏:‏ فَهُوَ أَنْ يَكُونَ لأَحَدِنَا دَابَّةٌ يَرْكَبُهَا‏؟‏ قَالَ‏:‏ لاَ، قَالَ‏:‏ فَهُوَ أَنْ يَكُونَ لأَحَدِنَا أَصْحَابٌ يَجْلِسُونَ إِلَيْهِ‏؟‏ قَالَ‏:‏ لاَ، قَالَ‏:‏ يَا رَسُولَ اللهِ، فَمَا الْكِبْرُ‏؟‏ قَالَ‏:‏ سَفَهُ الْحَقِّ، وَغَمْصُ النَّاسِ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৫১- অহংকার-অহমিকা।

৫৫১। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজেকে বড়ো মনে করে অথবা তার চালচলনে অহংকার প্রকাশ করে, সে এমন অবস্থায় মহামহিম আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে যে, তিনি তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকবেন (আবু দাউদ, হাকিম)।

بَابُ الْكِبْرِ

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ الْقَاسِمِ أَبُو عُمَرَ الْيَمَامِيُّ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ‏:‏ مَنْ تَعَظَّمَ فِي نَفْسِهِ، أَوِ اخْتَالَ فِي مِشْيَتِهِ، لَقِيَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৫১- অহংকার-অহমিকা।

৫৫২। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার খাদেমকে সাথে নিয়ে আহার করে, গাধায় চড়ে বাজারে যায়, ছাগল পোষে এবং তার দুধ দোহন করে, সে অহংকারী নয়।

بَابُ الْكِبْرِ

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ‏:‏ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم‏:‏ مَا اسْتَكْبَرَ مَنْ أَكَلَ مَعَهُ خَادِمُهُ، وَرَكِبَ الْحِمَارُ بِالأَسْوَاقِ، وَاعْتَقَلَ الشَّاةَ فَحَلَبَهَا‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৫১- অহংকার-অহমিকা।

৫৫৩। কাপড় বিক্রেতা সালেহ (রহঃ) থেকে তার দাদীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী (রাঃ) কে দেখলাম যে, তিনি এক দিরহামের খেজুর কিনে তা তার চাদরে করে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি তাকে বললাম অথবা এক ব্যক্তি তাকে বললো, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার বোঝাটি আমিই বহন করি। তিনি বলেন, না, পরিবারের পিতাই বোঝা বহনের অধিক উপযুক্ত (তারীখুল কামিল)।

بَابُ الْكِبْرِ

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ بَحْرٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ هَاشِمِ بْنِ الْبَرِيدِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا صَالِحٌ بَيَّاعُ الأَكْسِيَةِ، عَنْ جَدَّتِهِ قَالَتْ‏:‏ رَأَيْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اشْتَرَى تَمْرًا بِدِرْهَمٍ، فَحَمَلَهُ فِي مِلْحَفَتِهِ، فَقُلْتُ لَهُ، أَوْ قَالَ لَهُ رَجُلٌ‏:‏ أَحْمِلُ عَنْكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ‏؟‏ قَالَ‏:‏ لاَ، أَبُو الْعِيَالِ أَحَقُّ أَنْ يَحْمِلَ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৫১- অহংকার-অহমিকা।

৫৫৪। আবু সাঈদ (রাঃ) ও আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মহান আল্লাহ বলেন, ইজ্জত আমার পরিধেয় এবং কিবরিয়া (অহংকার) আমার চাদর। যে কেউ আমার সাথে এই দু’টি জিনিস নিয়ে বিবাদ করবে, আমি তাকে শাস্তি দিবো। (মুসলিম, ইবনে মাজাহ, হাকিম)

بَابُ الْكِبْرِ

حَدَّثَنَا عُمَرُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ الأَغَرِّ حَدَّثَهُ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ الْعِزُّ إِزَارِي، وَالْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي، فَمَنْ نَازَعَنِي بِشَيْءٍ مِنْهُمَا عَذَّبْتُهُ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৫১- অহংকার-অহমিকা।

৫৫৫। হায়সাম ইবনে মালেক আত-তাই (রহঃ) বলেন, আমি নোমান ইবনে বশীর (রাঃ) কে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছি, শয়তানের অনেক রকম জাল ও ফাঁদ আছে। শয়তানের জাল ও ফাঁদ হচ্ছে আল্লাহর নিয়ামত সম্পর্কে অহংকার করা, আল্লাহর দান সম্পর্কে গর্ব করা, আল্লাহর বান্দাগণের উপর অহংকার করা এবং আল্লাহর সত্তা ব্যতীত নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করা (বায়হাকীর শুআবুল ঈমান, জামে সগীর, ইবনে আসাকির)।

بَابُ الْكِبْرِ

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي أَبُو رَوَاحَةَ يَزِيدُ بْنُ أَيْهَمَ، عَنِ الْهَيْثَمِ بْنِ مَالِكٍ الطَّائِيِّ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ، قَالَ‏:‏ إِنَّ لِلشَّيْطَانِ مَصَالِيًا وَفُخُوخًا، وَإِنَّ مَصَالِيَ الشَّيْطَانِ وَفُخُوخَهُ‏:‏ الْبَطَرُ بِأَنْعُمِ اللهِ، وَالْفَخْرُ بِعَطَاءِ اللهِ، وَالْكِبْرِيَاءُ عَلَى عِبَادِ اللهِ، وَاتِّبَاعُ الْهَوَى فِي غَيْرِ ذَاتِ اللهِ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৫১- অহংকার-অহমিকা।

৫৫৬। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বেহেশত ও দোযখ পরস্পর বিতর্ক ও বাদানুবাদে লিপ্ত হলো। দোযখ বললো, পরাক্রমশালী, স্বৈরাচারী ও অহংকারীরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। বেহেশত বললো, দুর্বল ও দরিদ্ররা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। বরকতময় মহান আল্লাহ বেহেশতকে বলেন, তুমি হলে আমার রহমত, আমি যাকে ইচ্ছা তোমার মাধ্যমে অনুগ্রহ করবো। অতঃপর তিনি দোযখকে বলেন, তুমি হলে আমার শাস্তি। আমি যাকে ইচ্ছা তোর মাধ্যমে শাস্তি দিবো। তোদের দু’জনকেই পূর্ণ করা হবে। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আহমাদ, ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে হিব্বান)

بَابُ الْكِبْرِ

حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ احْتَجَّتِ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ، وَقَالَ سُفْيَانُ أَيْضًا‏:‏ اخْتَصَمَتِ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ، قَالَتِ النَّارُ‏:‏ يَلِجُنِي الْجَبَّارُونَ، وَيَلِجُنِي الْمُتَكَبِّرُونَ، وَقَالَتِ الْجَنَّةُ‏:‏ يَلِجُنِي الضُّعَفَاءُ، وَيَلِجُنِي الْفُقَرَاءُ‏.‏ قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لِلْجَنَّةِ‏:‏ أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ، ثُمَّ قَالَ لِلنَّارِ‏:‏ أَنْتِ عَذَابِي أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ، وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْكُمَا مِلْؤُهَا‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৫১- অহংকার-অহমিকা।

৫৫৭। আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ অশিষ্ট বা মনমরা ছিলেন না। তারা তাদের মজলিসসমূহে উত্তম কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং জাহিলী যুগের বিষয়াদি আলোচনা করতেন। কিন্তু তাদের কাউকে আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ করাবার প্রয়াস চালানো হলে তার দৃষ্টি বিস্ফোরিত হয়ে যেতো। যেন তিনি এক উন্মাদ। (ইবনে আবু শায় বাযযার)

بَابُ الْكِبْرِ

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ جَمِيعٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ‏:‏ لَمْ يَكُنْ أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مُتَحَزِّقِينَ، وَلاَ مُتَمَاوِتِينَ، وَكَانُوا يَتَنَاشَدُونَ الشِّعْرَ فِي مَجَالِسِهِمْ، وَيَذْكُرُونَ أَمْرَ جَاهِلِيَّتِهِمْ، فَإِذَا أُرِيدَ أَحَدٌ مِنْهُمْ عَلَى شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ اللهِ، دَارَتْ حَمَالِيقُ عَيْنَيْهِ كَأَنَّهُ مَجْنُونٌ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৫১- অহংকার-অহমিকা।

৫৫৮। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক অতিশয় সুন্দর ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, সৌন্দর্য আমার অতি প্রিয়, আর আমাকে সৌন্দর্য দান করা হয়েছে যা আপনি দেখছেন। এমনকি আমি এতটুকুও পছন্দ করি না যে, জুতার ফিতা বা তার লাল অগ্রভাগের সৌন্দর্যের দিক দিয়েও কেউ আমাকে ডিংগিয়ে যাক। এটা কি অহংকার? তিনি বলেনঃ না, বরং অহংকার হলো সত্য থেকে বিমুখ হওয়া এবং মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা। (দারিমী, তিরমিযী)

بَابُ الْكِبْرِ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وَكَانَ جَمِيلاً، فَقَالَ‏:‏ حُبِّبَ إِلَيَّ الْجَمَالُ، وَأُعْطِيتُ مَا تَرَى، حَتَّى مَا أُحِبُّ أَنْ يَفُوقَنِي أَحَدٌ، إِمَّا قَالَ‏:‏ بِشِرَاكِ نَعْلٍ، وَإِمَّا قَالَ‏:‏ بِشِسْعٍ أَحْمَرَ، الْكِبْرُ ذَاكَ‏؟‏ قَالَ‏:‏ لاَ، وَلَكِنَّ الْكِبْرَ مَنْ بَطَرَ الْحَقَّ، وَغَمَطَ النَّاسَ‏.‏

পরিচ্ছেদঃ ২৫১- অহংকার-অহমিকা।

৫৫৯। আমর ইবনে শুআইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্র বর্ণিত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের দিন অহংকারীদেরকে পিপিলিকা সদৃশ (ক্ষুদ্রদেহ) মানুষরূপে হাশরের মাঠে সমবেত করা হবে। তারা সব দিক থেকে লাঞ্ছনা পরিবেষ্টিত থাকবে। তাদেরকে দোযখের বূলাস নামক কারাগারের দিকে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। তারা দোযখের আগুনে জ্বলতে থাকবে এবং দোযখীদের (দেহ নিৰ্গত) ঘাম পান করবে। (তিরমিযী, নাসাঈ, আহমাদ)

بَابُ الْكِبْرِ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ يُحْشَرُ الْمُتَكَبِّرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْثَالَ الذَّرِّ فِي صُورَةِ الرِّجَالِ، يَغْشَاهُمُ الذُّلُّ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ، يُسَاقُونَ إِلَى سِجْنٍ مِنْ جَهَنَّمَ يُسَمَّى‏:‏ بُولَسَ، تَعْلُوهُمْ نَارُ الأَنْيَارِ، وَيُسْقَوْنَ مِنْ عُصَارَةِ أَهْلِ النَّارِ، طِينَةَ الْخَبَالِ‏.‏

মন্তব্য করুন

ব্লগ