Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:১১ পূর্বাহ্ণ

একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপরেখা, কতৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করি।


একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপরেখা, ভালো কিছু প্রস্তাবনা।

সূত্র-দৈনিক যুগান্তর, লেখক-ড. মিফতাহুর রহমান

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে। জাতিকে পুনর্গঠন ও সংস্কারের জন্য একটি সুগঠিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক কৌশল প্রয়োজন। অন্তর্র্বর্তী সরকারকে অবশ্যই একটি বিশাল আর্থ-সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সেক্টরাল সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে; যা হবে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। উত্তরণ-পরবর্তী একটি সফল রোডম্যাপকে শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপকে স্থিতিশীল করার মধ্যে সীমিত রাখলে চলবে না; বরং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে এবং সামাজিক সমতাকে উন্নীত করে দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপন করতে হবে। এর মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, স্থানীয় সরকারগুলোতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে অবশ্যই তার শিল্পে বৈচিত্র্য আনতে হবে; পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে দূরে সরে যেতে হবে এবং প্রযুক্তি, ওষুধ ও নবায়নযোগ্য শক্তির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রের উদ্ভাবনকে উদ্দীপিত করতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য আইসিটি, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সংস্কার অপরিহার্য। তদুপরি, অন্তর্র্বর্তী সরকারকে অবশ্যই একটি স্থিতিশীল বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি, রপ্তানি বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা সুরক্ষিত করার জন্য বৈদেশিক রিজার্ভ বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ পুনর্গঠনের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ, বহুমাত্রিক পদ্ধতির প্রয়োজন হবে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খাতগত পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও ন্যায়সংগত, উদ্ভাবনী এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে একটি পথ নির্ধারণ করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সেক্টরকে সম্বোধন করার জন্য একটি বিশদ রূপরেখা দেওয়া হলো-

সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তন : সব রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে আঞ্চলিক নেতৃত্বের ক্ষমতায়ন ও কার্যকর শাসন নিশ্চিত করে স্থানীয় সরকারের স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি করতে হবে। জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা রক্ষায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে। সামাজিক সমতা রক্ষায় নারী, জাতিগত সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সমঅধিকার নিশ্চিত করে বৈষম্য কমানোর দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।

অর্থনৈতিক সংস্কার : কর সংস্কারের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত ও নিুবিত্তদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য কর ব্যবস্থাকে সরলীকরণ এবং কর ফাঁকির বিরুদ্ধে লড়াই করার সঠিক পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে প্রযুক্তি, ওষুধ ও পর্যটনের মতো উচ্চমূল্যের খাতগুলোতে ফোকাস করা প্রয়োজন। উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগকে প্রণোদনা ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান চালু করা উচিত বলে আমার অভিমত।

বৈদেশিক রিজার্ভ বৃদ্ধি : রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে পাট, আইসিটি, কৃষিভিত্তিক পণ্য এবং ওষুধের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পোশাকের বাইরে রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে মেধাবী ও যোগ্য জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিকরণ প্রয়োজন। ভর্তুকি, গবেষণা ও উন্নয়ন বিনিয়োগের মাধ্যমে এ খাতে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে হবে। রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রবাসীদের সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করা, বৈদেশিক রিজার্ভ বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ করার সঠিক প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নও দরকার। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নবায়নযোগ্য শক্তি এবং ডিজিটাল পরিষেবার মতো উদীয়মান সেক্টরগুলোতে মনোনিবেশ করে অনুকূল নীতি, ট্যাক্স বিরতি ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। বিষয়গুলো সুবিবেচনার জন্য যথাযথ কতৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করি।

মন্তব্য করুন

ব্লগ