একদিন একটি ছোট্ট গ্রামে একটি গাছের নিচে একটি বৃদ্ধ মানুষের বসে থাকার দৃশ্য দেখা গেল। তিনি ছিলেন গ্রামটির বৃদ্ধ, তাঁর নাম ছিল হজরত দাদা। হজরত দাদা সব সময় গল্প বলতেন এবং গ্রামের বাচ্চারা তার চারপাশে বসে শুনতো।
একদিন, হজরত দাদা একটি অদ্ভুত গল্প শোনাতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, “অনেক বছর আগে এই গ্রামে একটি জাদুকরী পাথর ছিল। যে কেউ সেই পাথরের স্পর্শ করল, তার হৃদয়ের মনের ইচ্ছে পূরণ হতো। কিন্তু সেই পাথরকে সুরক্ষিত রাখার জন্য একটি শর্ত ছিল—যে ব্যক্তি পাথরটি ব্যবহার করবে, তাকে প্রথমে তার হৃদয়ের গভীর থেকে একটি ইচ্ছে বের করে আনতে হবে।”
গ্রামের শিশুদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হলো। তারা হজরত দাদার কাছ থেকে আরো জানতে চাইল। হজরত দাদা বললেন, “একটি ছেলে ছিল, নাম তার রাহুল। সে খুব দয়ালু এবং সৎ ছিল। সে তার পরিবারের জন্য কিছু করতে চাইত। কিন্তু তার মধ্যে ভয় ছিল, যদি সে পাথরটি স্পর্শ করে, তাহলে অন্যদের ইচ্ছে পূরণ না হয়।”
একদিন, রাহুল সিদ্ধান্ত নিল যে সে পাথরটি খুঁজে বের করবে। সে গভীর জঙ্গলে গেল এবং অনেক খোঁজার পর পাথরটি পেল। পাথরটি ছিল এক অনন্য রঙের এবং খুবই সুন্দর। রাহুল পাথরটির দিকে তাকিয়ে ভাবল, “আমার ইচ্ছে হলে আমি সব কষ্টের মাঝে সুখ চাই। কিন্তু আমি অন্যদের কষ্টও দেখতে পারি না।”
রাহুল তখন পাথরটির স্পর্শ করল। হঠাৎ, চারপাশে এক জাদুকরি আলো ছড়িয়ে পড়ল। কিন্তু কিছুই ঘটল না। রাহুল হতাশ হয়ে পাথরটির দিকে তাকাল। সে বুঝতে পারল যে, ইচ্ছেগুলি কেবল নিজের জন্য নয়, বরং অন্যদের জন্যও হতে হবে।
ততক্ষণে, গ্রামের লোকজন এসে তাকে ঘিরে ফেলল। তারা জানতে চাইলো কি হয়েছে। রাহুল তখন বলল, “আমি চাইছি, আমাদের গ্রামে যেন সবাই সুখী হয়, এবং কেউ কষ্টে না থাকে।” পাথরটি আবার আলো ছড়িয়ে দিল এবং হজরত দাদা হাসিমুখে বললেন, “তুমি সত্যিই একজন মহৎ হৃদয়ের মানুষ, রাহুল।”
এরপর থেকে, গ্রামের সবাই একসাথে সুখে বাস করতে লাগল। রাহুলের সেই দয়ার দৃষ্টান্ত চিরকাল গ্রামের মানুষের মনে থাকবে। আর গ্রামে একটি নতুন বিশ্বাস সৃষ্টি হলো—“প্রেম এবং দয়ার চেয়ে বড় কোন জাদু নেই।”
সেই থেকে, হজরত দাদা সেই গল্পটি সবাইকে শোনাতে থাকলেন, এবং গ্রামবাসীরা মনে রাখলো, সত্যিকারের সুখ কখনওই একা আসে না
১৪
২৪ মন্তব্য