সহকারী শিক্ষক
১৩ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:২১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
মাধ্যমিকের দাবি নয় বরং বকেয়া!
=========================
কে করবে, কে দেখবে আর কে বা কারা গবেষণা করে আসল সমস্যা বের করে মাধ্যমিককে একটা স্ট্যাবল জায়গায় নিয়ে যাবে?
? জঞ্জাল যখন ধরা দেয় দলবল নিয়েই ধরা দেয়। মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম নয়। এর মধ্যে বর্তমান সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি প্রথা লটারি চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতা থেকে সরে আসতেছে দিন দিন। শিক্ষার্থীদেরকে বইমুখী করতে লটারি প্রথা বাদ দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ভর্তি করা হচ্ছে না এক সমস্যা। এখানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাথমিক সংযুক্ত সেটা আরেকটা সমস্যা যেখানে প্রাথমিকের কারিকুলামের সাথে মাধ্যমিক শিক্ষকগণ অভ্যস্ত নন।
? আবার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে কতগুলো এক্সট্রা বিষয় আছে যেমন আইসিটি, ইসলাম ধর্ম বাদে অন্য ধর্মসহ ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট যেগুলোর পদ সরকারি মাধ্যমিকে নেই এবং এই বিষয়গুলোতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক না থাকায় অন্য বিষয়ের শিক্ষক দ্বারা শিখন কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এতে করে শিক্ষার্থীরা তীব্রভাবে সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এজন্য সরকারি মাধ্যমিকে উক্ত পদগুলো সৃজন করে ও শূন্য পদগুলোতে সহকারী শিক্ষক দ্বারা পূরণ করা সময়ের দাবি।
? আবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার, প্রধান শিক্ষক, জেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী পরিদর্শক, পরিদর্শক, গবেষণা কর্মকর্তা, সহকারী পরিচালক, উপ-পরিচালক, পরিচালকের পদগুলির বেশিরভাগই শূন্য আছে। তার উপরে এসব যাঁরা আছেন তাদের অনেকেই পিআরএলে যাবেন এতে করে আরো শূন্যতার সৃষ্টি হবে।
? অন্যদিকে সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের নামেমাত্র ২য় শ্রেণির গেজেটেড হওয়া, আড়াই যুগ পরে সহকারী শিক্ষক থেকে ৫০% পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র শিক্ষক ব্লক পোস্টে পদোন্নতি পাওয়া, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের পরিপত্র থাকা সত্ত্বেও পদায়ন না হওয়া, বকেয়া টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেড না পাওয়া, ১৪ বছর চাকরি করেও কোনো সুবিধা(পদোন্নতি/সিলেকশন গ্রেড/টাইমস্কেল) না পাওয়া, ২০১৫ এর পে-স্কেল অনুযায়ী বিএড ইনক্রিমেন্ট বন্ধ, স্থায়ীকরণ নেই। যা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।
? আবার বেসরকারি মাধ্যমিকের এমপিও সমস্যা, তাদের বদলি, নিয়োগ, জাতীয়করণ জনিত সমস্যা তো লেগেই আছে।
? প্রায় তিন যুগেরও অধিক সময়ের মাধ্যমিকের এই গ্লানি টানতে টানতে নানান হতাশায় নিমজ্জিত সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক এবং শিক্ষার পরিবেশ। এর অন্যতম কারণ হলো মাধ্যমিকের জন্য একটি যুগোপযোগী পদসোপান না হওয়া এবং মাধ্যমিকের জন্য পৃথক অধিদপ্তর না হওয়া।
? সরকারি মাধ্যমিক তথা গোটা মাধ্যমিকের এন্ট্রি পদ ৯ম গ্রেড ধরে পদসোপান করার যৌক্তিকতাঃ
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
০৭/০২/১৯৯১ তারিখ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা পদটির নিয়োগ যোগ্যতায় শিক্ষায় বিএডসহ স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সংযুক্ত হয় এবং উক্ত তারিখ হতেই এ পদটি অর্থ মন্ত্রনালয়ের ২১/০৩/১৯৭৪ তারিখের আদেশের আলোকে ৯ম গ্রেড পাওয়ার অধিকারী হয়। এদিকে সরকারি মাধ্যমিকের এন্ট্রি পদ সহকারী শিক্ষক পদের সমপদবিশিষ্ট অন্যান্য আরো ৬টি পদ ৯ম গ্রেডে রূপান্তর হয়েছে আগে থেকেই। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সরকারি মাধ্যমিকের এন্ট্রি পদ(সহকারী শিক্ষক) ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই ১০ম গ্রেডের থেকে যায় যা মাধ্যমিকের শিক্ষকদের একদিকে যেমন মর্মাহত করে তেমনি মর্যাদা হানিকর পরিস্থিতি নিয়ে চলা মাধ্যমিক শিক্ষার পায়ে কুঠারাঘাত করারও সামিল। এতে দুঃখ ও অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো কী সেই বাঁধা আছে যে কারণে আদু ভাই ১০ম গ্রেড থেকে আর মুক্তি হয় নি সরকারি মাধ্যমিকের!
আরেকটা জ্বলন্ত দিক আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পাই- মাধ্যমিকের এন্ট্রিপদ ৯ম ধরে পদসোপান না করে অধিদপ্তর আলাদা করলে হবে প্রাথমিকের ন্যায় মাধ্যমিকের গালে চপেটাঘাতের মত। কেননা সেটা কারো বুঝতে রকেট সায়েন্স লাগবে না সরেজমিনে যে কেউ খোঁজ নিলেই পেয়ে যাবে বৈষম্যের চিত্র।
এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো- যেনারা কাজটা করবেন নিঃসন্দেহে তেনারা শিক্ষক বা শিক্ষাবিদ। অতএব আনকোরা সিদ্ধান্ত হয়ত নেবেন না।
এতগুলো ডিপার্টমেন্ট ৯ম গ্রেড হয়ে যাওয়ার পর এই সময়ে এসেও যদি না করা হয় তাহলে শিক্ষকদেরকে তথা শিক্ষাকে গভীর খাদে ফেলে দেওয়ার সামিল হবে।
কোনো শিক্ষাবিদ বা শিক্ষা অনুরাগী এই ভুলটি পুনরায় করবেন না- আশা ও দাবি করছি।
? মাধ্যমিকের জন্য গবেষণাভিত্তিক পৃথক অধিদপ্তরের যৌক্তিকতাঃ
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে ৬৮৪ এবং বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রায় বিশ হাজারের উপর। কলেজ আছে প্রায় ২৫০০ এর ওপর যা মাধ্যমিকের তুলনায় বলা চলে প্রায় দশ গুণ কম। সেই হিসেবে মূল ভবনে মাধ্যমিকের জনবল বেশি থাকার কথা। কিন্তু মাঠে থাকলে কি হবে মাথা বা মূল জায়গায় নেই যে! এই যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ৯৬ পদের কর্মকর্তা কর্মরত আছেন তারা কি মাধ্যমিকের কেউ? না- কেউ না! তাহলে কেনই বা তারা মাধ্যমিক নিয়ে মাথা ঘামাবেন!
এক্ষেত্রে দেখে নিই মাউশিতে কর্মরত কর্মকর্তাবৃন্দ কোন পদে আছেন ---
➡️➡️➡️ কলেজ ও প্রশাসন বিভাগ(৮ জন)--
১. পরিচালক ১ জন
২. উপ-পরিচালক ৩ জন(কলেজ-১-সরকারি, কলেজ-২-বেসরকারি ও এইচআরএম)
৩. সহকারী পরিচালক ৪ জন(কলেজ ১, কলেজ-২,কলেজ -৩ ও কলেজ-৪)
➡️➡️➡️ সাধারণ প্রশাসন(২+৬+৪=১২ জন)
১. উপপরিচালক ১জন
২. সহকারী পরিচালক ১ জন
এতে শাখা ২ টি---
১. সাধারণ প্রশাসন ও ২. আইন শাখা
সাধারণ প্রশাসনে আছে(৬ জন)-
১. শিক্ষা কর্মকর্তা ৩ জন (সাধারণ প্রশাসন ১জন, এসিআর-১-১ জন ও এসিআর-২- ১ জন)
২. লাইব্রেরি উন্নয়ন কর্মকর্তা ১জন
৩. হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ১জন
৪. প্রশাসনিক কর্মকর্তা ১জন
আইন শাখা(৪ জন)---
১. শিক্ষা কর্মকর্তা ১জন (আইন - ২)
২. অফিসার ইনচার্জ ২ জন(কমার্শিয়াল ও আইন শাখা - বর্তমানে ১ জনই পালন করে)
৩. সংযুক্ত কর্মকর্তা ১ জন
➡️➡️➡️ মাধ্যমিক(১১ জন)---
১. পরিচালক ১জন
২. উপপরিচালক ২ জন( মাধ্যমিক ও বিশেষ শিক্ষা)
৩. সহকারী পরিচালক ৪ জন (মাধ্যমিক - ১, মাধ্যমিক -২, সেসিপ ও বিশেষ শিক্ষা)
৪. শিক্ষা অফিসার ৪ জন(মাধ্যমিক - ১, মাধ্যমিক -২, সেসিপ ও বিশেষ শিক্ষা - বর্তমানে ১ম ২ টায় আছে)
➡️➡️➡️ প্রশিক্ষণ শাখা(১০ জন)---
১. পরিচালক ১জন
২. উপ-পরিচালক ১ জন
৩. সহকারী পরিচালক ৪ জন (প্রশিক্ষণ-১, প্রশিক্ষণ-২, প্রশিক্ষণ-৩ ও প্রশিক্ষণ-৪)
৪. গবেষণা কর্মকর্তা ৪ জন(প্রশিক্ষণ-১, প্রশিক্ষণ-২, প্রশিক্ষণ-৩ ও প্রশিক্ষণ-৪)
➡️➡️➡️ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন(১৪+৮= ২২ জন)---
১. পরিচালক ১ জন
২. উপ-পরিচালক ১জন
৩. সহকারী পরিচালক ৫ জন(সহকারী পরিচালক- ৪ এ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন এর সাথে প্রকৌশল শব্দ আছে বাকি ৪ জনের যথাক্রমে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন- ১, ২, ৩ ও ৫)
৪. গবেষণা কর্মকর্তা ৭ জন ( গবেষণা কর্মকর্তা-১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭)
এর মধ্যে আবার নতুন উইং(৮ জন)-- একিউএইউ নাম কিন্তু অফিস লিখা একিউএইউ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিস; এখানে আছে--
১. সহকারী পরিচালক ৩ জন (একিউএইউ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের একিউএইউ-১, ২ ও ৩ নামে ৩ জনই)
২. গবেষণা কর্মকর্তা ৪ জন (একিউএইউ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের একিউএইউ-১, ২, ৩ ও ৪ নামে ৪ জনই)
৩. সহকারী প্রোগ্রামার ১ জন
➡️➡️➡️ অর্থ ও ক্রয় উইং(৮ জন)---
১. পরিচালক ১ জন
২. উপ-পরিচালক ১ জন
৩. সহকারী পরিচালক ৪ জন
৫. প্রকিউরমেন্ট অফিসার ১ জন
৬. গবেষণা কর্মকর্তা ১ জন
➡️➡️➡️ মনিটরিং এন্ড ইভাল্যুয়েশন(৬ জন)---
১. পরিচালক ১ জন
২. উপ-পরিচালক ১ জন
৩. সহকারী পরিচালক ২ জন
৪. মনিটরিং অফিসার ২ জন
➡️➡️➡️ ইএমআইএস সেল(১৫ জন)---
১. সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট ১ জন
২. প্রোগ্রামার ৫ জন(১-৫)
৩. সহকারী প্রোগ্রামার ৫ জন (১-৫- পিসিএস, এমপিও, ওয়েবসাইট, ফেসবুক, স্টাইপেন্ড নামে- ২ জন সংযুক্ত)
৪. মেইনটেইনেন্স ইঞ্জিনিয়ার ১ জন
৫. শিক্ষা পরিসংখ্যানবিদ ১ জন
৬. সিনিয়র কম্পিউটার অপারেটর ১ জন (এসিআর, এন্ট্রি)
৭. সহকারী মেইনটেইনেন্স ইঞ্জিনিয়ার ১ জন (ইন্টারনেট)
➡️➡️➡️ শারীরিক শিক্ষা উইং(৩ জন) ---
১. উপ-পরিচালক ১ জন
২. সহকারী পরিচালক ১ জন
৩. সংযুক্ত কর্মকর্তা ১ জন
যেখানে নামে বেনামে সর্বমোট ৯৬ পদে কর্মকর্তাগণ কর্মরত আছেন। যেখানে মূলপদ হলো---
? মহাপরিচালক
? পরিচালক
? উপ-পরিচালক
? সহকারী পরিচালক
? শিক্ষা কর্মকর্তা
? লাইব্রেরি উন্নয়ন কর্মকর্তা
? গবেষণা কর্মকর্তা
? প্রোগ্রামার
? মাউশির ২০২৩ হিসাব মতে প্রধান কার্যালয়, জোনাল অফিস, জেলা ও উপজেলায় পদ আছে নিম্নরূপ--
★প্রধান কার্যালয়ে---
১ম শ্রেণির কর্মকর্তা ৬৭ জন
২য় শ্রেণির কর্মকর্তা ১১ জন
৩য় শ্রেণির কর্মচারী ১৬৬ জন
৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী ৫০ জন
★ জোনাল অফিসে--- ২৩৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী
★ জেলা শিক্ষা অফিসে--- ৬৮৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী
★ উপজেলা শিক্ষা অফিসে--
২৩৭২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী আছেন।
তাহলে এর থেকে উত্তরণের উপায় কি নেই? হ্যাঁ অবশ্যই আছে। বিষয়টা যদিও জটিল কিন্তু অসম্ভব নয়। তবে "বাই লেয়ার স্টেপ আপ" পদ্ধতি ফলো করলে তাড়াতাড়ি এই খরা কাটিয়ে ওঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র। এক্ষেত্রে বিধি বিধান মেনে হরাইজেন্টাল ও ভার্টিক্যাল বিষয়গুলি বিবেচনায় এনে যদি উক্ত পদ্ধতি ফলো করা হয় তাহলে মাধ্যমিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের এই হতাশা আর বঞ্চনা কেনই বা থাকবে!!
নূরজাহান বেগম
সহকারী শিক্ষক(ভৌত বিজ্ঞান)
ব্রাহ্মন্দী কামিনী কিশোর মৌলিক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নরসিংদী।
#মাধ্যমিক #শিক্ষা #৯ম #গ্রেড #দিয়ে #গবেষণা #ভিত্তিক #পৃথক #অধিদপ্তর #হোক
১
১ মন্তব্য