Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:২৬ অপরাহ্ণ

ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তার প্রথম স্ত্রী খাদিজার কন্যা

ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (আরবিفاطمةfāṭimah; উচ্চারণ /ˈfɑːtˤɪma/; আনু. ৬০৫[] বা ৬১৫[] –৬৩২) ছিলেন ইসলামের মহানবী মুহাম্মাদ এবং তার প্রথম স্ত্রী খাদিজার কন্যা।[] তিনি মুসলিম নর-নারীর কাছে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসাবে সম্মানিত।[] মক্কায় কুরাইশদের দ্বারা তার পিতার উপর নিযার্তন ও দুর্দশার সময় ফাতিমা সবসময় তার পাশে ছিলেন। মদিনায় হিজরতের পর তিনি মুহাম্মাদের এর চাচাত ভাই আলি ইবন আবি তালিব এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের চারটি সন্তান হয়। তার পিতা হযরত মুহাম্মাদের এর পরলোকগমনের কয়েক মাস পরেই তিনি পরলোকগমন করেন এবং মদিনার জান্নাতুল বাকিতে তাকে সমাধিস্থ করা হয়। তবে তার কবরের প্রকৃত অচিহ্নিত রয়েছে।

জন্ম

ফাতিমা ৬০৫ সালে মক্কায় খাদিজার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মদিন সম্পর্কে নানা মতভেদ আছে, তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতে, তিনি প্রথম কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পাঁচ বছর পর কাবাঘর সংস্কারের সময় ৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।[১০][১১][১২][১৩] জয়নবরুকাইয়াহ এবং উম্মে কুলসুমের পর ফাতিমা মুহাম্মদের চতুর্থ কন্যা।[] খাদিজা তার অন্য সন্তানদের জন্য ধাত্রী রাখলেও ফাতিমাকে ধাত্রীর হাতে ছেড়ে না দিয়ে নিজের কাছে রেখে স্বীয় তত্ত্বাবধানে লালন-পালন করেন।[১৩]

ইসলাম গ্রহণ

মুহাম্মাদের নবুয়ত লাভের পরপরই ফাতিমা তার মা খাদিজার ও অন্যান্য বোনদের সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন। এবং ইসলামের প্রথম ভাগের নারীদের সাথে বাইয়াত লাভ করেন।[১৪] আয়িশা, ইমাম আয যুরকানি তার শারহুল মাওয়াহিবত গ্রন্থে এই মতকে গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন, ফাতিমার চারিত্রিক গুণাবলী পরিস্ফুটনের ক্ষেত্রে খাদিজার স্পষ্ট অবদান রয়েছে।[১৫]

শৈশবকাল

শৈশব থেকেই ফাতিমা তার পিতা মুহাম্মাদের ধর্ম সম্পর্কে বুঝতে পারতেন,তার পিতার কষ্ট দেখে তিনিও কষ্ট অনুভব করতেন।[১৬][] একদিন মসজিদে নববীতে সিজদা থাকা অবস্থায় কুরাইশ নেতাদের আদেশে উকবা ইবনে আবু মুয়াত মুহাম্মাদের পিঠে উটের পচা-গলা নাড়ী-ভুঁড়ি উঠিয়ে দিয়েছিলো,[১৬][১৭] ফাতিমা এই ঘটনা শুনতে পেয়ে দ্রুত এসে তার পিতার পিঠ থেকে এসব পচা নাড়িভুরি নামিয়ে দেন ও পরিষ্কার করে দেন। এরপর ফাতিমা কুরাইশ নেতাদের সাথে ঝগড়া করেন।[১৭][১৮] এই ঘটনা মুহাম্মাদের জন্য অনেক পীড়াদায়ক ছিল। কষ্টের ছিলো, তিনি কাফিরদের অভিশাপ দিয়েছিলেন। তৎপরতার ভূমিকার জন্য ফাতিমার প্রশংসা করেছিলেন।[১৯]

কিশোর বয়সে ফাতিমা পিতার হাত ধরে কাবার প্রাঙ্গণে গিয়েছিলেন। এ সময় মুহাম্মাদকে একা পেয়ে হাজরে আসওয়াদের নিকটে তাকে ঘিরে ফেলে, এবং বিভিন্ন কটু কথা বলে মুহাম্মাদকে উত্তেজিত করতে থাকে। হেনস্থার এক পর্যায়ে আক্রমণ করে মুহামাদের দাড়ি ধরে টানাটানি করে করতে থাকে ও চাদর গলায় পেঁচিয়ে ফাঁস লাগাতে শুরু করে। এমনকি এক পর্যায়ে মুহাম্মাদের মাথায় আঘাত করে, যার ফলে মাথা কেটে রক্তস্নাত হয়ে যায়।[২০] এই ঘটনা দেখে ফাতিমা প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যাযন।[২০] সেইদিন আবু বকরের সাহায্যে মুহাম্মাদ ও তার মেয়ে ফাতিমা শত্রুদের হাত থেকে মুক্তি পায়, এবং তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসে।[২১] এইসব ঘটনা ছোট থেকেই ফাতিমার উপর ধর্মীয় প্রভাব ফেলে, যার ফলে ফাতিমা ছোটবেলা থেকেই পিতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আনুগত হয়ে বড় হয়েছিলেন।[১৭][১৮]

শি‘বে আবি তালিবে ফাতিমা

৬১৬ খ্রিষ্টাব্দে যখন মক্কার কুরাইশরা মুহাম্মাদের উপর নির্যাতনের নতুন পথ হিসাবে তার সম্প্রদায়কে আদেশ করলো, মুহাম্মাদকে তাদের হাতে হত্যার জন্য তুলে দেওয়া হোক, তুলে না দেওয়া পর্যন্ত বনু হাশিম ও বনু আবদুল মুত্তালিব সম্প্রদায়কে বয়কট করা হবে। মক্কার সমস্ত গোত্র এক হয়ে ঘোষণা দিলো, মুহাম্মাদকে হত্যার জন্য তুলে না দেওয়া পর্যন্ত এই দুই সম্প্রদায়ের সাথে সমস্ত ব্যবসাবাণিজ্য করবেনা। এই কঠিন সময়ে ফাতিমা সহ আহলে বাইতের সবাই দুঃখ কষ্টে দিনানিপাত করেছে,সবাই খেয়ে না খেয়ে দিন পার করেছে, এই অবরোধ প্রায় তিন বছর চলছিলো।[২২]

তখন ফাতিমা বয়সে ছোট হলেও অত্যন্ত আত্মপ্রত্যয় ও দৃঢ়তার সাথে পিতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।[২৩][২৪] সেইজন্য পিতার আদর ও স্নেহ বেশি মাত্রায় পেতে থাকেন। মদিনায় হিজরতের আগ পর্যন্ত মক্কায় পিতার দা’ওয়াতী কার্যক্রমের সাহায্য করেন। পিতার বিরুদ্ধে কেউ কটূক্তি করলে ফাতিমাও তার জবাব দিতেন। আর এ কারণেই তার ডাকনাম হয়ে যায়- “উম্মে আবিহা[২৫] ( অর্থঃ পিতাম মা অর্থাৎ মুহাম্মাদের মা)। এবং এই সময়ে তার মা খাদিজা মারা গেলে তিনি পরিবারের অন্যতম কর্তা হিসাবে সুদৃঢ় হাতে দায়িত্ব পালন করেন।[২২]


মন্তব্য করুন

ব্লগ