সহকারী শিক্ষক
১৫ অক্টোবর, ২০২৪ ০১:১৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
একটি ব্যতিক্রমী গাছ গোলপাতা
আমরা সবাই কমবেশি গোল পাতার নাম শুনেছি।গোল পাতার কথা শুনলেই সুন্দরবনের নাম মনে পড়ে যায়।গোলপাতা হচ্ছে Arecaceae পরিবারের এক ধরনের পামজাতীয় উদ্ভিদ। এটি গাছ হলেও গোলপাতা নামেই বেশি পরিচিত। ম্যানগ্রোভ এই উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম Nypa fruticans. বাংলাদেশে ম্যানগ্রোভ বন যেমন—সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবেই এই গাছ প্রচুর জন্মে।
বাংলাদেশ ছাড়াও মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার প্রভৃতি দেশের স্বল্প ও মধ্যম লবণাক্ত অঞ্চলে এই গাছ জন্মে। এর পাতা ৩ থেকে ৯ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।
গোলপাতা দিয়ে একসময় উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজন ঘরের ছাউনি দিত। এ পাতার ছাউনি নির্মিত ঘরে গরমের সময় ঠাণ্ডা আর শীতের সময় গরম ভাব অনুভূত হয়।
গোলপাতার ছাউনি চার-পাঁচ বছর টেকসই হয়। ঘরের ছাউনি ছাড়াও রান্নার জ্বালানি হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়। গোলপাতা গাছের বয়স পাঁচ বছর হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর এই গাছের পাতা একবার কাটা যায়। আমাদের দেশে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত অর্থাৎ শুকনা মৌসুমে গোলপাতার পাতা কাটার উত্কৃষ্ট সময়। মাঝের ও সংলগ্ন কিছু কচি পাতা রেখে গাছের অন্য সব পাতাই কাটা যায়।
গোলপাতার ভেতর থেকে মোচাকৃতি ফুল বের হয়। ফুল থেকে দৃষ্টিনন্দন ফল হয়। ধীরে ধীরে তালের কাঁদির মতো বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলটি পরিপক্ব হলে এর ভেতরের অংশের স্বাদ অনেকটাই কাঠবাদামের মতো হয়। এ ছাড়া খেজুরগাছের মতো গোলপাতা গাছের রস থেকে গুড় তৈরি করা যায়।
এটি ঔষধি গাছ। এর পাতা, ফল ও মূল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই গাছের ফল খেলে চর্মরোগে উপকার পাওয়া যায়। শিকড় সিদ্ধ করে সকাল-বিকাল খেলে আমাশয় ভালো হয়। এ ছাড়া এই গাছের শিকড় খেলে অনিদ্রার সমস্যা দূর হয়।
১৪
২২ মন্তব্য