সাবান তৈরীর ইতিহাস ,,,,,

সাবান দিয়ে পৃথিবীর হৃদয় জয় করা যায় তিনি প্রমাণ করে গিয়েছেন।তখনও ময়লা কাপড় কাচাকাচির জন্য গৃহিণীদের অত্যাধিক পরিশ্রম করতে হত,হাতে যেমন তেল লেগে থাকত তেমন দুর্গন্ধ, ভাল ফেনা হত না। সেই সময় উইলিয়াম লিভার নামের ধুরন্ধর ব্রিটিশ মস্তিস্ক 'সানলাইট' সাবানের বিজ্ঞাপনে শুরু করলেন।ব্যাস ওই এক মাস্টারস্ট্রোকে সানলাইট সাবান কে তিনি পৌঁছে দিলেন গোটা বিশ্বের ঘরে। এখনও বোধহয় কাপড় কাচার জন্য সানলাইট বিশ্বের সবচেয়ে বেশি
মানুষ পছন্দ করেন!
সানলাইটের জয়যাত্রা শুরু হলেও থামতে চাননি উইলিয়ম লিভার, লক্ষ করলেন সানলাইট তৈরি হওয়ার পরে এক ধরনের তেল পড়ে থাকে অথচ ব্যবহার করা যায় না। মাথা ঘামাতে লাগলেন। দুর্গন্ধযুক্ত তেলের সঙ্গে মিশিয়ে দিলেন নানা ওষুধ। বার হল বিখ্যাত কার্বালিক সাবান নাম 'লাইফবয়' । এই সাবান দিয়ে দ্বিতীয় বার বিশ্ব জয় করে ফেললেন উইলিয়ম লিভার। এই ঘটনা ১৮৯৪সালের। 'লাইফবয়ের' পাঁচ বছর পরে বাজারে আসে 'লাক্স'। আবার বিশ্ব জয়। বলা বাহুল্য একটা সময় ধারণা ছিল যে অভিনেত্রী 'লাক্স' সাবানের বিজ্ঞাপনে মডেল হতে পারেন নি, আসলে তিনি এলিট ক্লাসের চিত্রতারকা নন!
হিন্দুস্তান লিভারের নাম এদেশের বেশিরভাগ মানুষ জানেন, তাদের তৈরি যেকোন পণ্য মানুষ চোখ বন্ধ করে ভরসা করেন,যদিও বহুজাতিক এই সংস্থার জন্ম বিদেশ, এদের ব্যবসা শুরু হয়েছিল বিলেতে ও নেদারল্যাল্ডে।
লিভার কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়ম লিভার প্রথমে একটা সাবান কারখানা তৈরি করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর বাবা রাজি হননি। ষোলো বছর বয়স হলেই জেমস তাঁর ছেলে উইলিয়ম কে মুদির ব্যবসায় ঢুকিয়ে দেন।সেই সময় প্যাকেটে ট্যাবলেট সাবান বিক্রির রেওয়াজ ছিল না। তাল সাবান আসতো কাপড় কাচার জন্য।তিন পাউন্ড ওজনের ওই তালকে কেটে ছোট করে কাগজে মুড়ে রাখা ছিল ছেলের কাজ।
বাবার দোকানে তিন বছর সাবান কাটার পরে উইলিয়মের পদোন্নতি হয়। মাসে তিরিশ শিলিঙ বেতনে সেলসম্যান হলেন।সেই সময় এমন কাজ দেখালেন দু'বছরেই বাবার দোকানের পার্টনার হয়ে গেলেন। বাবা যখন সাবান কারখানা করতে রাজি হলেন না তখন উইলিয়ম লিভার কিছু টাকা দিয়ে একটা পুরনো কারখানা নিজেই লিজে নেন। শুরু হল তাঁর জয়যাত্রা।পাঁচ বছর পরে সমুদ্রের ধারে জমি কিনে নিজের কারখানা পত্তন করলেন যা এখন সারা বিশ্ব চেনে পোর্ট সানলাইট নামে।
লর্ড উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন উইলিয়ম লিভার, জগদ্বিখ্যাত হয়েও খরিদ্দারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন। বিশ্বের সেই সময়ে অন্যতম সেরা ধনী হয়েও প্রতিটি পাই-পয়সার হিসেব রাখতেন। তবে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি বিশ্বাস করতেন তাঁর পণ্য গুণগত মানের সাথে কখনোই আপস করবে না, বিজ্ঞাপন যতেষ্ট থাকবে তবে দাম সবসময় ন্যায্য।সত্যি বলতে মালিকের সেই আজও বিশ্বাস মেনে চলে সারা বিশ্বের অন্যতম নামী বহুজাতিক সংস্থা লিভার কোম্পানি। আমাদের দেশে হিন্দুস্তান লিভারের ব্যবসা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, শুধু একটা কথা বলা যায় তাদের তৈরি কোনও একটা পণ্য ভারতের যেকোনও বাড়িতে খুঁজলে পাওয়া যাবে এতটা উচ্চমার্গীয় এদের ব্র্যান্ড ভ্যালু।
পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার,চরণ ছুঁয়ে যাই শংকর

১৪
২৪ মন্তব্য