Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ অক্টোবর, ২০২৪ ০৭:৫৫ অপরাহ্ণ

অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি নষ্ট করে দিচ্ছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত।


করোনা মহামারিতে প্রায় দের বছর বিদ্যালয় বন্ধ থাকার পর বৈশ্যিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির করণে অতিরিক্ত গরম পড়ায় বন্ধ হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভিন্ন ভিন্ন ইসুতেও অনেকদিন বন্ধ ছিলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় উদাসীন। আসক্ত হয়ে পরছে মোবাইল, গেমস, টিভি, টিকটক, আর ইউটিউবে। আগের মত মাঠের খেলায় মন নেই তাদের। মোবাইলে পাবজি, ফ্রী-ফায়ার সহ নাম না জানা বিভিন্ন গেম খেলতেই তারা আগ্রহী হয়ে উঠছে। ২০২০ সালে যখন করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয় এবং জরুরী কাজ ছাড়া বাইরে বের হওয়া নিষেধ করা হয় তখন শহর এবং গ্রামে প্রায় সমানভাবে মানুষ বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দেয়। একটানা ঘর বন্দি মানুষ ঘরে বসে টিভি আর মোবাইল নিয়েই সময় পার করে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা যখন ঘরে বসে অতিরিক্ত দুষ্টামি করতে থাকে তখন তাদের হাতে তুলে দেয়া হয় মোবাইল। যাতে তারা মোবাইল দেখে শান্ত থাকে। কিছুদিন পর মোবাইল দেখা অভ্যাসে পরিনত হয় তাদের। তারা প্রায় সময়ই মোবাইল দেখে পার করে। কয়েকদিন পর অনলাইনে ক্লাস শুরু হলে আরতো কোনো কথাই নাই। এতদিন যে বাবা মা মোবাইল থেকে সন্তানদের দূরে রাখার জন্য মোবাইল ধরতে নিষেধ করতো এখন তারাই পড়াশুনা করার জন্য হাতে মোবাইল তুলে দিচ্ছে। শিশুরা মোবাইলে যা পড়াশুনা করতো তার অনেক গুন বেশি টিকটক, ইউটিউব দেখতো এবং বিভিন্ন গেমস খেলে সময় কাটাতো। অতিরিক্ত মোবাইল চালানোর ফলে শিশুদের শুরু হলো শারীরিক ও মানুসিক সমস্যা। চোখের দৃষ্টি শক্তি হ্রাস, ক্ষুদামন্দা, খিটখিটে মেজাজ, মাথা ব্যথা সহ অনেক রকমের অসুখ। করোনা কেটে গেলেও মোবাইল রয়ে গেছে তাদের হাতে। মোবাইলের প্রতি মায়া তাদের বেড়েই চলছে। যে শিশুরা ঘরে বসে মোবাইলে গেম খেলে অভ্যস্ত তারা এখন মাঠে খেলতে যেতে চায়না। ঘরে, বারান্দায়, পুকুর পাড়ে, রাস্তার ধারে যেখানেই জায়গা পায় চার পাঁচজন একত্র হয়ে তারা খেলতে বসে। এতে করে হচ্ছেনা তাদের মানসিক বিকাশ, ব্যহত হচ্ছে শারীরিক বৃদ্ধি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে লেখাপড়া, বেড়ে যাচ্ছে ঝরে পড়ার সংখ্যা। 
করোনার ক্রান্তিকাল যেতে না যেতেই চলে এসেছে  গরম। এল নিনোর কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা অস্থায়ীভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পৃথিবীর নানা প্রান্তে অতিরিক্ত গরমে তৈরি হচ্ছে খাদ্য, পানি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ঝুঁকি। নানাবিধ কারণে গরমের অনেক দিন বন্ধ থাকে বিদ্যালয়। গৃহবন্দী শিক্ষার্থীরা পড়াশুনাকে ছুটি দিয়ে লুটিয়ে পড়ে মোবাইলে। ধীরে ধীরে ভুলে যায় পড়ালেখা। তাইতো অকালেই ঝরে পড়ছে বহু শিক্ষার্থী। তাই দ্রুতই শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি দূর করা না গেলে তাদের ভবিষ্যৎ হবে অন্ধকার।
মন্তব্য করুন

ব্লগ