ডক্টর এ. পি. জে. আবদুল কালাম (১৯৩১-২০১৫) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বিজ্ঞানী, শিক্ষক এবং ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ১১তম রাষ্ট্রপতি (২০০২-২০০৭)। তিনি "মিসাইল ম্যান অব ইন্ডিয়া" নামে পরিচিত, কারণ ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে তার বিশাল অবদান ছিল। কালাম বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং দেশসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, যা তাকে ভারতীয়দের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দিয়েছে।
প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা
- ডক্টর কালামের জন্ম ১৯৩১ সালের ১৫ই অক্টোবর, তামিলনাড়ুর রামেশ্বরম শহরে।
- অর্থনৈতিকভাবে সীমিত পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি নিজের অধ্যবসায় এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।
- মাদ্রাজ ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT) থেকে এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।
বৈজ্ঞানিক অবদান
- ডক্টর কালাম ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)-এর সাথে SLV-III রকেট প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা ভারতের প্রথম উপগ্রহ রোহিণীকে সফলভাবে মহাকাশে প্রেরণ করে।
- DRDO (Defence Research and Development Organisation) এবং ISRO-তে কাজ করার সময় তিনি অগ্নি ও পৃথ্বী ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নে অবদান রাখেন, যা ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে ভূমিকা
- ২০০২ সালে ডক্টর কালাম ভারতের রাষ্ট্রপতি হন এবং জনগণের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। তাকে "জনগণের রাষ্ট্রপতি" বলা হয় কারণ তিনি ছাত্র এবং সাধারণ মানুষের সাথে সহজে মিশতেন।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও তিনি সর্বদা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জোগাতেন এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আগ্রহী হতে উৎসাহিত করতেন।
লেখক ও অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব
ডক্টর কালাম বহু বই লিখেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- Wings of Fire: তার আত্মজীবনী, যা সংগ্রামের গল্প তুলে ধরে।
- Ignited Minds এবং India 2020: যেখানে তিনি ভারতকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখিয়েছেন।
পুরস্কার ও সম্মান
- ১৯৯৭ সালে তিনি ভারতরত্ন, ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মানে ভূষিত হন।
- এছাড়া, পদ্মভূষণ (১৯৮১) এবং পদ্মবিভূষণ (১৯৯০) সম্মানেও ভূষিত হন।
মৃত্যু
ডক্টর কালাম ২০১৫ সালের ২৭শে জুলাই মেঘালয়ের শিলং শহরে IIM Shillong-এ বক্তৃতা দিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাজ করে যাচ্ছিলেন এবং তাদেরকে স্বপ্ন দেখার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন।
৬৫
১০০ মন্তব্য