সিনিয়র শিক্ষক
১৬ অক্টোবর, ২০২৪ ০৩:২২ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
আমরা আমাদের চলার জীবনে দুটি শব্দের সাথে অনেক পরিচিত। একটি হল আবেগ আর অন্যটি হল বিবেক। আবেগ হচ্ছে গতি, দ্রুততা বা চলার শক্তি। আর বিবেক হচ্ছে নিয়ন্ত্রক। আবেগ আর বিবেক এর মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে আবেগ কর্মের দিকে ধাবিত করে আর বিবেক করে উপসংহার এর দিকে। তবে এখানে কল্পনার একটা ব্যাপার আছে… ব্যাপারটা হল এমন, আবেগ মানুষকে কল্পনা নামক রাজ্যের রাজা বানিয়ে দেয়! কারন, দুনিয়ায় আবেগ একটা মস্ত বড় এক্স ফ্যাক্টর। জীবনের সব প্রয়োজন, সব আয়োজন হার মানে আবেগের কাছে। সব যুক্তিই যুক্তিহীন আবেগের নিকট। আর বিবেক সব সময় সেই রাজাকে সামলাতে ব্যস্ত থাকে।
নিজের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ। চারপাশের সব যুক্তি-বাস্তবতা সবই বুঝতে পারছেন, তবু আবেককে মানানো যায় না। হরহামেশাই বিষণ্ণতা গ্রাস করে বসে, যেন সামনে এগোতেই দিচ্ছে না আপনাকে। তবুও তো জীবন থেমে থাকে না। তখন বিবেকের তাড়নায় জীবন চলতে থাকে। জীবনের এই যুদ্ধক্ষেত্রে কখনো আবেগ হারে বিবেকের কাছে আবার কখনো বিবেক হারে আবেগের কাছে।
মাঝে মাঝে একটি প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে, আমাদের সব আবেগই কি অর্থহীন বা যুক্তিহীন!!!! “দুনিয়াতে কোন কিছুই অর্থহীন বা যুক্তিহীন নয়” এই কথাটা কে যেন বলছিলেন ঠিক মনে নাই। কথাটা আসলেই অনেক মূল্যবান একটা কথা… এই কথার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আবেক যদি অর্থহীনই হতো তাহলে পৃথিবীতে আবেগের কোন অস্তিত্ব থাকতো না!!! কোন কিছুর অর্থ বের করতে না পারলেই কি তাকে অর্থহীন বলা কি ঠিক!!!
বিবেক হলো ঐ জিনিস যা ন্যায় অন্যায়কে বুঝতে বেশি গুরুত্ব দেয়, আর আবেগ কেবল প্রেম-প্রীতি, ভালবাসা, দুঃখ, বেদনাকে গুরুত্ব দেওয় । মানুষ মাত্রই আবেগ প্রবন। আর তাই অত্যাধিক আবেগ প্রবনতার কারণে মানুষ প্রায়শ:ই মারাত্বক ভূল করে বসে। অনেক সময় এ ধরনের ভূলই মানুষের জীবনকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কাজেই আবেগকে নিয়ন্ত্রণ রেখে কাজ করে যেতে হবে। আবেগের সর্বনাশা উত্থান-পতনের পাঁকে নিজেকে পতিত করা বোকামির লক্ষণ। আর তাই যেকোন ধরনের সিদ্ধান্ত আবেগ দিয়ে নয় বরং আমাদের বিবেক দিয়ে নেওয়া উচিৎ।
৭
৬ মন্তব্য