সহকারী প্রধান শিক্ষক
১৭ অক্টোবর, ২০২৪ ০১:২০ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
'পথের পাঁচালী'র স্রষ্টা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সপ্তাহে একদিন খেতেন কেবলমাত্র নুন আর ভাত,যদিও পরিবারের সবার জন্য সেদিন মাছ, তরকারি সব রান্না হত।স্বামী শুধু নুন -ভাত খাবে মন থেকে একেবারে মেনে নিতে পারতেন না জায়া রমা। সেই নিয়ে স্বামীর কাছে অনুযোগ করলে বিভূতিভূষণ বলতেন - 'কল্যানী, দারিদ্র্যময় বাল্যই আমাকে সাহিত্যর প্রেরণা দিয়েছে, সাধারণ মানুষের কাছাকাছি রেখেছে, আমি ওদের মানুষ।এই খাবার আমার অহংকে স্থির রাখে,মৃদু রাখে,আমার উৎসকে স্মরণ রাখতে সাহায্য করে '। বিভূতিভূষণ পরোটা ভালবাসতেন। জায়া কল্যানী স্বামীর জন্য পরোটার সঙ্গে লম্বা ফালি করে কাটা আলু ও ডিম সেদ্ধ গোলমরিচ ও গাওয়া ঘি দিয়ে ভেজে বিভূতিভূষণ কে খেতে দিলে তিনি তৃপ্তি করে খেতেন। তাদের পরিচিতি একজন ছিলেন যিনি মাঝেই চিংড়ি মাছ দিয়ে যেতেন। রমা ঢিমে আঁচে নারকেলকোরা ও কাঁচা সরষের তেল দিয়ে তৈরি করতেন চিংড়ি ভাতে।
আক্ষরিক অর্থে ভোজনরসিক মানুষ,রান্নার রসগ্ৰহন করলেও বিভূতিভূষণ খেতেন খুব পরিমিত। প্রকৃতি প্রেমিক মানুষটি আবার কখনও কখনও খাবারের বিষয়ে মারাত্মক উদাসীন হয়েছেন এমন উদাহরণ কিন্তু আছে। একবার নববিবাহিত পত্নী রমা কে নিয়ে প্রাতঃভ্রমনে বেরিয়ে আট -দশ মাইল দূরের সিদ্ধেশ্বর ডুংরি পাহাড়ে পৌঁছে গেলেন,ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর বারোটা,সতেরো বছরের কল্যানী যতেষ্ট ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত,পিপাসার্ত। নববধূ সুলভ লজ্জা কে দূরে রেখে স্বামীকে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন শুনচো,আমার খিদে পেয়েছে, ভীষণ জলতেষ্টা পেয়েছে।
একবার অনেকের সঙ্গে ধারাগিরি নামের এক জলপ্রপাত দেখতে গিয়েছেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। জায়া রমা ও ভাইয়ের বউ যমুনা দেবী নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করছিলেন কী কী খাবার সঙ্গে নেওয়া যায়। খাবারের ওই গল্প কিন্তু বিভূতিভূষণের মন কে মোটেও ছুঁয়ে যেতে পারল না,বরং কিছুটা বিরক্তির সুরে বলেছিলেন একটা সুন্দর জায়গায় বেড়াতে যাচ্ছে, অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সেসব সেসব দিকে তাদের মন নেই,খালি খাবারের চিন্তা। একদিন না খেলে মানুষ মরে না ,শুনিয়ে দিলেন সেকথা।
মজার কাণ্ড ঘটে গেল এই ধারাগিরিতে যে বিভূতিভূষণ বলেছিলেন একদিন না খেলে কি মানুষ মরে? তিনিই কিন্তু এখানে এসে খিদের চোটে বেশ কাতর হয়ে পড়লেন।জলপ্রপাত দেখা হয়েছে বটে তবে বিভূতিভূষণের বিরস মুখ। বিষয়টি অনুধাবন করতে ভাতৃবধূর সামান্য অসুবিধা হয় নি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন - ' কী হয়েছে বটঠাকুর? শরীর খারাপ লাগছে না কি? বিভূতিভূষণ আমতা আমতা করে বললেন -ইয়ে হয়েছে বৌমা, সঙ্গে কিছু খাবার টাবার আনা হয় নি '?
যমুনা দেবী এই সুযোগে মজা করার সুযোগ ছাড়লেন না, বললেন -ওমা সে কী কথা বটঠাকুর। আপনি যে বললেন সুন্দর জায়গায় বেড়াতে গেলে খাবার নিয়ে যেতে নেই। তবে শেষ পর্যন্ত বউদের ঝোলা থেকে বের হল পাঁউরুটি,জ্যাম,বিস্কুট।আর গরুর গাড়িতে লুকিয়ে রাখা চাল,আলু,পাঁপড়। শুরু হল খিচুড়ি রান্না, ওদিকে বিভূতিভূষণ তখন তৃপ্তি সহকারে প্রশান্ত মুখে পাঁউরুটিতে জ্যাম মাখিয়ে খাওয়া শুরু করেছেন।
সংকলনে ✍? Arunava Sen
পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার, বিভূতিভূষণের পারিবারিক জীবন তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
#viralpost #everyoneシ゚ #highlightsシ゚ #follower #fb
১
১ মন্তব্য