প্রভাষক
১৮ অক্টোবর, ২০২৪ ০৫:৪১ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
মারলট গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে টেস।কাজের বিমুখী বাবা,ছটা বাচ্চা, মা,কিন্তু পরিবারের বড় মেয়ে হওয়ায় সে নিজের কাঁধে অনেকটা দ্বায়িত্ব তুলে নেয়।পরিবারের চাহিদা মেটাতে বাবা মার সাথে সেও সাহায্য করতো প্রতিদিনের কাজে। তার বাবা জানতে পারে তারা আসলে ডার্বারবিল এর বংশধর।তাদের গ্রামের বনের ওপাশে এক অন্ধ ধনী মহিলা বাস করেন তার ছেলেকে নিয়ে যারা ছিলো ডার্বারভিল বংশের।
টেসকে তার মা সাহায্যে চাইতে সেই ডার্বারভিল পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেয়।সেখানে গিয়ে তার দেখা হয় অ্যালেক এর সাথে যাকে তার মোটেও ভালো লাগে নি কিন্তু টেসকে অ্যালেকের ভালো লেগে যায় আর শুরু হয় টেসএর জীবনের দুর্দশার। ডার্বারভিলদের কাছে সাহায্য চাইতে যাওয়াটাই তার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ায় একসময়। টেস মতো সুন্দরী,সৎ,পরিশ্রমী মেয়েটির জীবনে একসময় অন্ধকার নেমে আসে যখন সে অ্যালেক এর বাড়িতে কাজ শুরু করে। অ্যালেক বরাবরই দুশ্চরিত্র একজন মানুষ যার কবল থেকে রক্ষা পেলো না টেস।
সেই সাথে টেসের অন্ধকার জীবনের সূচনা হলো।টেস কখনই অ্যালেক কে মন থেকে মেনে নিতে পারে নি তাইতো সমাজের মানুষের নিন্দা, ঘৃণা নিয়ে দিন কাটাতে থাকে টেস।জন্ম হয় অ্যালেকের অনাকাঙ্ক্ষিত বাচ্চাটি যদিও বাচ্চাটা বেশিদিন বাঁচেনি তবুও নারীর জীবনে এ দাগ সে তো মোছার নয়। সব কিছু ভুলে টেস নতুন জীবন শুরু করতে চায় কিন্তু তার গ্রামে থেকে তা সম্ভব নয় তাই সে ভাবতে থাকে। নিজের কাজের প্রতি মনোযোগী হয় আর কল্পনা করতে থাকে কিভাবে এই অভিশাপের জীবন থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
টেস এর নতুন জীবন শুরু হলো ডেয়ারিওমেন হিসেবে আর সেখানে গিয়ে তার সাথে পরিচয় হয় সুশিক্ষিত, ভদ্র যুবক অ্যাঞ্জেল ক্লেয়ার এর সাথে,, আস্তে আস্তে তাদের মধ্যে সম্পর্কে নতুন রুপ পায়,কিন্তু ক্লেয়ার টেসকে কিছু না বলে চলে যায় তার বাবার বাড়িতে আর সেখান থেকে সে টেসের প্রতি ভালোবাসাটা বুঝতে পারে। ক্লিয়ার তার বাবা মাকে টেস এর কথা জানায় তারা মত না দিলেও তাতে ক্লেয়ার তেমন মাথা ঘামায় না বরং ফিরে যায় ফার্মে টেস এর কাছে।
টেস কে সে বিয়ের প্রস্তাব দিলে টেস রাজি হয় না কিন্তু ক্লেয়ার নাছোড়বান্দা সেই রাজি না করে ছাড়ার পাত্র তো নয়। ক্লেয়ার এর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায় কারন সে ও ভালোবাসতো ক্লেয়ার কে কিন্তু তার অতীত তাকে বারবার পিছনে ফিরে নিয়ে যেত। অবশেষে তারা বিয়ে করে কিন্তু বিয়ের পরই মনে হলো তাদের মধ্যেকার কথাগুলো দুজন দুজনকে জানানো দরকার, যেই কথা সেই কাজ।
কিন্তু টেস এর অতীত কাহিনি শুনে ক্লিয়ার পুরো পাগলের মতো দিক বেদিক ভুলে অনেক চিন্তা করেও টেসকে আর আগের জায়গা দিতে পারল না ফলে তারা দুজনেই আলাদা হয়ে গেল, চলে গেল যে যার বাড়িতে।
বাড়িতে বাবা, মা সবাই কে নিয়ে শুরু হয় টেস এর নতুন জীবন কিন্তু সেখানে তার পিছু পিছু চলে আসে অ্যালেক ডার্বারভিল, বার বার প্রত্যাখান করার পরও পিছু ছাড়ে না সে।
টেস এর বাবার মৃত্যু তাদের জীবনে চরম দূর্দশা ঢেকে আনে আর তখন টেস তার স্বামীর কাছে চিঠি পাঠায় কিন্তু তার কোন উত্তর সে পায় না। ক্লেয়ার ইংল্যান্ডে গিয়ে সুবিধা করতে না পেরে আর নিজের ভুল বুঝতে পেরে চলে আসে নিজের পিতৃভূমিতে সেখানে সে তার আর টেস সম্পর্কে সবকিছু তার বাবা মাকে খুলে বলে।
বাবা মার কাছ থেকে সে বেরিয়ে পরে টেস এর খোঁজে কিন্তু অনেক খোঁজার পর সে যখন টেকে খুঁজে পায় তখন সে অ্যালেক এর জীবনসঙ্গী রূপে কিন্তু ক্লেয়ার তা মন থেকে মেনে নিতে না পারলেও চলে যায় নিজের মতো।
এদিকে টেস দ্বিতীয় বারের মতো স্বামীকে হারানোর ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পরে আর তখন অ্যালেক রাগারাগি করা শুরু করলে টেস তার বুকে ছুরি মেরে বসলে মৃত্যু হয় অ্যালেকের। তারপর টেস ছুটে যায় ক্লেয়ার এর খোঁজে, খুঁজে পেয়ে সে সব ঘটনা খুলে বলে। ক্লেয়ার টেসকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য রওনা হয়ে একটি পুরানো কুটিরে সপ্তাহ খানেক সুখের জীবন কাটায় আর তারপর তারা বের হয় অজানার উদ্দেশ্য এ।
অবশেষে,পুলিশের হাতে ধরা পরলে টেসের ফাসিঁ হয় তার আর তার অনুরোধে ক্লেয়ার টেস এর ছোট বোনকে বিয়ে করে জীবন যাপন করতে থাকে।
১৪
২১ মন্তব্য