প্রভাষক
১৯ অক্টোবর, ২০২৪ ০১:৫১ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
বাক নামক এক কুকুরকে নিয়ে লেখা বইটি। রাজার মতো দেখতে বাক থাকতো এক জজের বাড়িতে পুরোই রাজকীয় ভাবে কিন্তু তার এই ভাবের অবসান ঘটে জজের বাড়ীর মালিক সহকারী ম্যানুয়েলের হাতে। টাকার লোভে সে বাককে বিক্রি করে দেয় আর তারপরই শুরু হয় তার জীবনের করুন দশার।
সভ্যতার মাঝখান থেকে সে হটাৎ এসে পরেছে, একবারে আদিম জীবনে যেখানে নেই কোন শান্তি,বিশ্রাম কিংবা নিরাপত্তা। সারাক্ষণ নেকড়ে কুকুর গুলোর সাথে হিংস্র লড়াইয়ে মেতে থাকে কুকুর গুলো যা বাকের কাছে একেবারেই নতুন।তার বন্ধু কার্লির মৃত্যু তাকে শিক্ষা দিয়ে যায়,রুমেও সে স্বপ্ন দেখতো সেই হিংস্রতার।
ফ্রাঁসোয়া আর পেরেল্ট এর তত্ত্বাবধানে তারা চলতে থাকে, স্লেজ টানে বরফে, খাবার খায় আবার টানে স্লেজ। বাক খুব সহজে ই নিজেকে কাজের উপযোগী করে তোলে যাতে গদার বারি তার উপর না পরে।কারন গদা কে ভীষণ অপছন্দ করে, ভয় পায়।বিভিন্ন ঝড়ঝাপটার মধ্যে দিয়ে চলতে থাকো তাদের স্লেজ টানার কাজ,, বুনো কুকুরদের সাথে লড়াই,, নিজেদের মধ্যে নিয়ম না মানার প্রবণতা তৈরি করে বাক কারন তার স্পিনের নেতৃত্ব মেনে নিতে কষ্ট হয়।
নিজেকে রাজার জায়গা ভাবতে থাকে আর সে অনুযায়ী কাজ করতে থাকে। একসময় স্পিজকে হত্যা করে সে৷ দুইটা শয়তান বলতো তাকে ফ্রাঁসোয়া আর তার প্রমানও দিলো বাক কিন্তু বাককে দলের নেতা বানাতে চাইলো না সে কিন্তু বাইকও নাছোড়বান্দা তাকে দলনেতা না বানানো পর্যন্ত সে ধরা দিলো না। তাকে যেই না দলনেতা বানানোর পরই সে সবাইকে আবার নিয়মের মধ্যে আনলো ঠিক যেন রাজা।
বাক এখন চুরিও করে আর এই চুরি তাকে উত্তর দেশের প্রতিকূল পরিবেশ এ বাঁচতে শেখালো।এখানকার পরিবর্তিত পরিবেশ এর সাথে দ্রুত কাপ খাওয়াতে না পারলে নিজেকে টিকে রাখা অসম্ভব তাই সব নীতি নৈতিকতা বাদ দিয়ে বাকের নতুন জীবন শুরু। ফ্রাঁসোয়ার হাত থেকে সরকারি কাজে স্লেজ টানা শুরু করে তার দল সেখানকার কাজ টা ছিলো পুরো একঘেয়েমির তবুও কোন ছাড়াছাড়ি নেই কাজ করে যেতেই হতো।
তারপর হাত বদল করে পরলো হ্যালের কাছে,সেখানকার অভিজ্ঞতা ও বেশি ভালো ছিলো না কিন্তু এখান থেকে সে যে নতুন মালিকের কাছে গিয়ে পড়ে, বাকের ভাগ্যের পরিবর্তন শুরু সেখান থেকে।
থর্নটন তার নতুন মালিক, তাকে বেশ ভালোবাসে আর বাকও তাকে। তাদের মধ্যে এক অদৃশ্য টান তৈরি হয় যা বাকের প্রভুভক্তির প্রকাশ ঘটায়।
বাকের কঠোর পরিশ্রম করার পর থর্নটনের কাছে থেকে পায় অফুরন্ত আরাম-আয়েশ যা তাকে কিছু টা অলস বানিয়ে দেয় কিন্তু তার বন জীবন তাকে পিছু টানে কিন্তু তার মালিকের কথা ভেবে সে নিজেকে সান্ত্বনা দেয়। থর্নটনের বন্ধু দের সাথে সোনার সন্ধানে যাওয়ার সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সে তার মালিকে বাঁচায়।
অবশেষে তারা খুঁজে পায় সেই সোনালী হলুদ জিনিস টা কিন্তু সেখানে বাক হারায় তা মালিক কে আর তার জন্য সে বেপরোয়া হয়ে প্রতিশোধও নেয় আর তারপর সে নেকড়েদের সাথে মিশে থাকতে শুরু করে।
১৪
২১ মন্তব্য